আবুসাইদের হত্যায় জড়িত সন্দেহে বা যাদের গুলিতে আবুসইদ নিহত হয়েছে বলে মামলা করা হয়েছে, সেই পুলিশ সদস্যদের হয়ে যিনি আইনি লড়াই করছেন, তিনি ট্রাইব্যুনালে যে ধরণের তথ্য প্রমান দিয়েছেন, তা যদি কোন নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার কাছে দেওয়া হত,তবে এতদিনে ঐ দুই পুলিশ সদস্য মুক্তি পেয়ে যেতেন। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনাল হল পাকিস্তানপন্থি জামাতি সংস্থা, যাদের কাজ হল শুধু হাসিনা নয়, পুরো একাত্তরকেই মুছে দিয়ে, যারা আবার বাংলাদেশকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে সেই চব্বিশের জুলাই জঙ্গীদের বাঁচানো। তাই আহত হওয়ার পাঁচঘন্টা পর আবুসইদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, আর বলা হয় ঐ পাঁচঘন্টা নাকি পুলিশ তাকে লাঠি দিয়ে মেরেছে, যদিও সেই পুলিশদের কোন সন্ধান পায়নি তদন্তকারীরা। সবাই বুঝতে পারছে আন্দোলোনকে চাঙ্গা করতে এবং জনগনকে সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দিতেই খুন আগুন ভাঙচুর করেছে জামাত শিবির। আবার নির্বাচনকে থামাতে এবং দেশকে আরও অরাজকতার দিকে ঠেলে দিতেই হাদিকে হত্যা করিয়েছে সরকার এবং জামাতশিবির। তাই যখন হাদির ভাই সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে, তখন তাকে সরকার পুরস্কার হিসাবে সরকারী পদ পাইয়ে দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ হাদির ভাই জানে ভায়ের হত্যার বিচার চাওয়ার থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। কারণ সে বলেওছিল তারও প্রাণ শংশয় আছে।সব মিলিয়ে কি বলছেন ওসমান হাদির ভাই।তিনি নিজেই বুঝতে পারছেন না সরকার তার সঙ্গে কি করতে চাইছে, এবং তার ভাইয়ের হত্যার বিচার আদৌ হবে কিনা।
জুলাইয়ের সব জোচ্চুরি বেরিয়ে আসছে, আর সেই ভয়ে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে, তাদের বাঁচাতে চাইছে সরকার। কিন্তু যে দিন আওয়ামীলীগ ফিরবে সেদিন কি বাঁচবে আজকের এই ম্যটিকুলাস ডিজাইন করা ছাত্রনেতারা?এখন বোঝা যাচ্ছে সারজিস কেন বলেছিল, তারা কবর থেকে তার ভাই এর লাশ তুলে আবার নতুন করে তদন্ত করতে দিতে রাজী নয়। আবুসইদ কে মনে আছে? যার বীরত্ব বিক্রি করেছেন নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূস। অথচ সেই আবুসইদের বাবা, বার বার বলেছেন তিনি তার ছেলের দেহ কবরে সমাধিস্থ করার আগে মাথার পিছনে রক্ত দেখেছিলেন। ছবিতে দেখা গেছে আবুসইদের গুলি লাগার পর তার বন্ধুরা দুপুর তিনটের সময় তাকে ধরাধরি করে নিয়ে গেছে। কিন্তু তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় রাত আটটার সময়। ঐ পাঁচ ঘন্টা তিনি কোথায় ছিলেন তার সঙ্গে কি হয়েছে? বলা হচ্ছে গুলি লাগার পর পাঁচ ছয়জন পুলিশ নাকি তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। সেটা কি করে সম্ভব হল, আর তা যদি হয় তবে তাদের কেন গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনা হল না? কেন আবুসইদের ঐ দিনের পরিহিত পোশাকে গুলির চিহ্ন দেখাতে পারেনি তদন্তকারী অফিসাররা। এখন যদি কোন উপায়ে আওয়ামীলীগ এক মাসের জন্য ক্ষমতা পায় শুধু মাত্র জুলাই আন্দোলোন এবং হ্ত্যার বিচারের জন্য, তাহলে কারা কারা এই ম্যটিকুলাস ডিজাইনের সঙ্গে যুক্ত তা বেরিয়ে আসবে। মুখোশ খুলে যাবে সেনাপ্রধানের। ইরানের গনঅভ্যুত্থানকে যদি সেনা দমন করতে পারে, তাকে যখন বাহবা দেওয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশের সেনা কেন সেটি করল না। ইরানে তো সমস্ত সামাজিক যোগযোগ বন্ধ, তার পরও হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যু দেখা যাচ্ছে। ইরানের এই ঘটনাতে বাংলাদেশ সরকার কাকে সমর্থন করবে, সে দেশের জনগনকে নাকি ইরানের সরকারকে? এখন যদি আমেরিকা ইরান আক্রমন করে, অথবা গাজাতে যুদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশ থেকে সৈন্য পাঠাতে বলে,তাহেল কি করবে বাংলাদেশের সরকার। আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে যাবে বাংলাদেশ?
এখন বাংলাদেশ ভোট নিয়ে ব্যস্ত। ইউনূস সরকার নাকি একই দিনে সাধারণ নির্বাচন এবং না ভোট ও হ্যাঁ ভোট করাচ্ছে। এটি ঠিক কি প্রক্রিয়া এর ফলে কি হবে কিছুই কি জনগন বুঝতে পেরেছে। সরকার থেকে প্রচার করা হচ্ছে যে সবাই যেন হ্যাঁ ভোটে ভোট দেয়। আচ্ছা আওয়ামীলীগ যে বলছে তারা ভোট বয়কট করবে, তাহলে তো তারা তাদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছে। তারা ভোট বয়কট না করে, না ভোটে ভোট দিক আর অন্য ব্যালট পেপারে সব চিহ্নগুলিতেই একটা করে ছাপ দিয়ে দিক। আচ্ছা এই হ্যাঁ ভোট এবং না ভোট করতে এক একজনের যে সময়টা লাগবে, তার ফলে কতজন মানুষ ভোট দিতে পারবেন আর কতজন মানুষ ভোট দিতে পারবেন না। ভোটের তো একমাস বাকি, তাহলে এক মাস আগের থেকে কেন সব কেন্দ্রে ভোটের পেপার পৌঁছে গেল। সেগুলি কি সুরক্ষিত থাকবে। যে দেশে থানা জ্বালিয়ে পুলিশ পুড়িয়ে আগ্নেয়াস্ত্র লুঠ করা স্বাভাবিক ঘটনা, সেখানে কি সব ভোট আগের থেকেই দেওয়া থাকবে নাকি মানুষ সত্যিই ভোট দিতে পারবে। আর দিতে পারলেও সর্বোচ্চ কতজন ভোট দিতে পারবেন। ইলেকশন হবে না সিলেকশন।আমেরিকা যে এখন আওয়ামীলীগকে ফেরাতে চাইছে, সেটির কারণ কি? আমেরিকা কি বুঝে গেছে, তারা যাদের ব্যবহার করে বাংলাদেশে তাদের আধিপত্য কায়েম করতে চাইছিল, তারা এখন আমেরিকাকেই ব্যবহার করতে চাইছে? কারণ এই উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি যদি ক্ষমতা দখল করে, তাহলে কি তাদের যে বিনেয়োগ ব্যবসা রয়েছে সেগুলি সুরক্ষিত রাখতে পারবে না। নাকি আমেরিকা চাইছে ভোটের আগেই তাদের স্বার্থ পুরোপুরি আদায় করে নিতে, তাই ইউনূস সাহেবকে আওয়ামীলীগ ফেরানোর ভয় দেখাচ্ছে? শোনা যাচ্ছে ট্রাম্প শুধু তার দূতেদের বাংলাদেশ পাঠিয়েই শান্ত থাকছেন না। তিনি নাকি ফোনে আওয়ামীলীগের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। ফলে আমেরিকা যে কি চাইছে তা বলা মুশকিল। তবে আমেরিকা যদি সেন্টমার্টিনে তাদের বেশ তৈরী করেছে, তাহলে আমেরিকার কথা শুনতেই হবে ইউনূস সাহেবকে, নইলে আমেরিকার সামরির শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশকে লড়াই করতে হবে। ফলে কি যে চলছে, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তবে ইউনূস সাহেবও যে ক্ষমতা দখল করে রাখার সব রাস্তা খুলে রেছেছেন তা বোঝা যাচ্ছে, মানে নোবেল জয়ীকে সরাতে হলে এক মাত্র উপায় হল প্রধান উপদেষ্টার বাস ভবন থেকে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া।












Discussion about this post