আবারও কি রাজনীতির ময়দানে উঠে দাঁড়াবে আওয়ামী লীগ? সম্প্রতি এই জল্পনাই চলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও একটুও ভেঙে পড়েননি শেখ হাসিনা। আজও সেই লড়াকু মনোভাব বজায় রয়েছে তাঁর মধ্যে। দলকে পুনুরুজ্জীবিত করতে বারবার বার্তাও দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ঢাকা ছেড়ে দিল্লিতে চলে আসেন হাসিনা। সেই থেকে ভারতেই ‘অজ্ঞাতবাসে’ রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ছিল একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে তাঁরা লড়তে পারছে না। নির্বাচনে তারা লড়তে না পারলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছেন বলেই খবর। তাঁরাও প্রচার শুরু করেছেন বিভিন্ন দিকে। কারণ, বাংলাদেশের ভোটে আওয়ামী লীগ বড়সড় ফ্যাক্টর। তাঁদের ভোটার ভোটে অংশ নিলেও যেমন হিসেব পাল্টে দিতে পারেন, না নিলেও পারেন।
কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কতটা কী করতে পারবে সেটাই এখন প্রশ্ন। দলের সিংহভাগ নেতাই এখন দেশে নেই। কেউ পলাতক, নয়তো কেউ জেলে বন্দি। অন্যদিকে নির্বাচনেও নেই আওয়ামী লীগ, তাই তাঁদের নেই কোনও প্রার্থীও। সেই জায়গা থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কোথায় দেবে ভোট এখন এটাই বড় প্রশ্ন। শেষ ৩ টি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল দলটি। জুলাই অভ্যুথানের পর অনেক নেতা-কর্মীরা অন্য দলে চলে গেলেও, সমর্থন কমে গেলেও এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগের পক্ষে রয়েছে বলেই মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল। এরই মাঝে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি বলেছেন, ‘ব্যালটে নৌকা নাই তাই ভোট নাই’। তিনি আরও বলেছেন, ভোট দিতেই যাবেন না। কিন্তু দেশে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল সরকার গঠিত হবে বেশী গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনা বলেছে, নির্বাচনের পর কী হয় সেটা আমরা দেখব। কারা করবে সরকার গঠন, কীভাবে চলে, কতদিন টেকে সেটা আওয়ামী লীগ দেখবে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাচনের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনটা হতে দাও।
আওয়ামী লীগের এখন মূল লক্ষ মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে দায়িত্বভার সরিয়ে নেওয়া। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মনে করেন নির্বাচিত সরকারের যে দায়বদ্ধতা, কাজ থাকে তা বর্তমান সরকার অর্থাৎ মহম্মদ ইউনূসের নেই। সম্প্রতি বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৷ হিংসার জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ৷ অন্তবর্তী সরকারের জনপ্রিয়তার জন্য আওয়ামী লীগকে ভোট লড়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে ৷ গত বছরেই বাংলাদেশে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ৷ সম্প্রতি দেশের ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ ৷ সেই অশান্তির আবহে নির্ধারিত সময়ে ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনী আবহে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৷ এখন নির্বাচন কোন দিকে এগোয় সেটাই এখন দেখার।












Discussion about this post