নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে বাংলাদেশে। এরমধ্যে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি পদ্মাপাড়ে। চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন পুলিশ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করার মতোই সিদ্ধান্ত। তারা ৩০০ জনের একটি দুষ্কৃতিকারীর তালিকা তৈরি করেছে। যারা চট্টগ্রামে যেতে পারবে না। এমনকি তাদের চট্টগ্রামে দেখা গেলেই, এবং পুলিশের নজরে এলেই তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে, ওই ৩০০ জনের তালিকায় প্রায় প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা, কর্মী, মন্ত্রী….তাদেরকেই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে ওই তালিকায় দেখা গেল, অদ্ভুত একটি বিষয়। এই তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর নাম। যিনি এখনও জেলে রয়েছেন। তাকে দুষ্কৃতি হিসাবে ধরে তালিকায় রাখা হয়েছে। আসলে কোন পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ?
চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন পুলিশ একটি বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩০০ জন ব্যক্তি চট্টগ্রামে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে এই তালিকা করা হয়েছে। যেগুলি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। সাবেক মন্ত্রী, এমপি-সহ ৩৩০ দুষ্কৃতিকারীকে নিষিদ্ধ করল সিএমপি। তাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির সহ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নামও রয়েছে। ওই তালিকায় জ্বলজ্বল করছে ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহম্যচারীর নাম। শনিবার বিকেলে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন পুলিশ। নগর পুলিশ কমিশনার হাসির আজিজের সই করা গণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮ এর ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চট্টগ্রাম মহানগর এলকার অবস্থানরত বিভিন্ন দুষ্কৃতিকারীদের বহিষ্কার এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত দুষ্কৃতীরা দলের সদস্যদেরকে চট্টগ্রাম মহানগরী এলকায়া প্রবেশ এবং অবস্থান নিষিদ্ধ করা হল। এমনকি ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের প্রকাশ করা দুষ্কৃতীদের তালিকায় নাম রয়েছে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা, সাবেক সিটি মেয়র আ জ নাছির উদ্দিন, সাবেক সাংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে, সিডিএ এর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, মহিউদ্দিন বাচ্চু। কারাগারে যারা দিয়েছেন তাদের মধ্যে ফজলে করিম, চিন্ময় কৃষ্ণ, আব্দুল লতিফ, ছোট সাজ্জাদ এবং তার স্ত্রী। এছাড়াও শহীদুল ইসলাম ও বার্মা সাইফুল।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বেছে বেছে কেন সংখ্যালঘুদের উপর খাড়ার ঘা নেমে আসছে? আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা কর্মী থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন পদাধীকারিদের দুষ্কৃতি বলে তাদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে সংখ্যালঘুদেরও তালিকায় রাখা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বেশিরভাগ তো কারাগারে বন্দি। যেমন চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু দীর্ঘদিন কারাগারে রয়েছেন। জেলে থেকে তারা কিভাবে দুষ্কৃতি কার্যকর্ম চালাবে? তবে কি পুলিশ প্রশাসনের নিজেদের মধ্যেই কিছু গলদ রয়েছে? পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠছে, যেভাবে সংখ্যালঘুদের উপর খাড়ার ঘা দিচ্ছে অন্তবর্তীকালীন সরকার, তাতে ভারত ফের কোনও অ্যাকশনে গেলে কি করবে বাংলাদেশ!












Discussion about this post