আগামী নির্বাচন আদেও নির্ধারিত সময়ে হবে? এনসিপি কি নির্বাচন বর্জন করতে পারে? কিংবা এনসিপির দশ দলীয় জোট কি নির্বাচন বন্ধ করতে পারে? এই সমস্ত প্রশ্ন উঠছে, কারণ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই সমস্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ তাঁর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন, যে নির্বাচন কমিশন যদি শুধরে না নেয়, তাহলে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনও নির্বাচন করতে দেবেন না। তাঁরা নিজেরাও নির্বাচন করবেন না। এমনকি রাজপথে নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন। হঠাৎ নির্বাচনের আগে রাজপথে যেতে হচ্ছে কেন এমনসিপিকে? নির্বাচন কি পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে? অন্তত এনসিপির কথা শুনে সেটাই মনে হচ্ছে। অনেক পক্ষই এর আগে প্রশ্ন তুলেছিল, যে নির্বাচন কি নির্ধারিত সময়ে হবে? এখন সেই প্রশ্নটা জোরালোভাবে উঠছে। জরুরী সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল এনসিপি। এরপরই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সেখানে এই কথা বলেন। মূল অভিযোগ হল, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে। দ্বৈত নাগরিক নাকি নির্বাচন কমিশন বৈধ করে দিচ্ছে। তাদের মনোনয়নপত্র নাকি বৈধ করে দিচ্ছে।
বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টুকে নির্বাচন কমিশনে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর উত্তেজক কথা বার্তা হয়েছে। সেই প্রশ্ন টেনে তিনি কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি দলবল নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে গুন্ডামি করছেন। এই শব্দ ব্যবহার করেছেন তিনি। তাঁর মূলত অভিযোগ, বিএনপির বিরুদ্ধে। দ্বৈত নাগরিক যারা তাদের বৈধতা দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এমনই অভিযোগ। অথচ ঋণ খেলাপির অভিযোগে কুমিল্লা ৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি হাসনাত আব্দুল্লাহর আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচন কমিশনকে দোষ দিলেন। তাঁর বক্তব্য,নির্বাচন কমিশন এক তরফাভাবে কাজ করছে। এমনকি এই নির্বাচন কমিশন যদি ঠিক ঠাক কাজ না করে, তবে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সময় নিয়ে একটি ভালো নির্বাচন করতে হবে। এমনকি এটাও উল্লেখ করেছেন যে, খারাপ নির্বাচন করার থেকে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে ভালো নির্বাচন করা উচিত। অর্থাৎ এনসিপি এবং দশ দলীয় জোট চাইছে, নির্বাচন পিছিয়ে যাক। রাজপথে প্রতিবাদ করা হবে। প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানান।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের মিত্র শক্তি হল এনসিপি। এখন সেই এনসিপিতে ফাটল লক্ষ্য করা গিয়েছে। পাশাপাশি জামায়েত ই ইসলামীর সঙ্গে জোট বেঁধেছে এনসিপি। সেই জামায়েত ই ইসলামীর মধ্যেও ফাটল লক্ষ্য করা গিয়েছে। কারণ তাদের জোট থেকে বেরিয়ে গিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনসিপি যেভাবে বেঁকে বসেছে তাতে যদি একই ভাষ্য জামায়েত-ই ইসলামীর হয়, তবে সেটা সমস্যা তৈরি করবে। এমনকি জামায়েত ই ইসলামীর আমীর যদি একই কথা বলে, তবে প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যায়, নির্বাচন ১২ই ফেব্রুয়ারি হচ্ছে না। এর আগে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, বাংলাদেশের বর্তমান যা পরিস্থিতি, তাতে কি আদেও নির্বাচন হওয়া সম্ভব? এখন সেই দিকেই এগোচ্ছে পরিস্থিতি। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়!












Discussion about this post