ভারতের দিল্লিতে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় গত শনিবার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দুই সাবেক মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন ঘিরে চলছে জোরদার চর্চা। আর এই চর্চা আরও জোরালো হচ্ছে যে এবার শেখ হাসিনাও সরাসরি সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট যত এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক ব্যস্ততা বাড়ছে। গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে হাজির ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তাঁদের পাশে ছিলেন, আওয়ামীপন্থী আইনজীবী নিঝুম মজুমদার। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এটাই ছিল ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। জানা গিয়েছে, আগামী ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে আরেকটি সাংবাদিক সম্মেলন করতে চলেছে আওয়ামী লীগ। তবে বিতর্ক এড়াতে আওয়ামী লীগ নিজেদের ব্যানারে কোনও সংবাদ সম্মেলন করছে না, অন্য সংগঠন এর আয়োজন করছে। তবে দিল্লিতে এই ঘনঘন সাংবাদিক সম্মেলন করা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন আওয়ামী লীগ কি সত্যিই একটি ‘প্রবাসী সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে?
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ করা হবে না, এটা কার্যত নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে যদি যুক্তরাষ্ট্র বা জাতিসংঘ কোনও হস্তক্ষেপ করে তাহলে অনেক কিছুই হতে পারে। কিন্তু বিগত দেড় বছরে ভারতে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী হাসিনা-সহ বহু নেতা একাধিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তবে সেই সমস্ত সাক্ষাৎকার হয়েছে মূলত সংবাদপত্রে। অর্থাৎ, টিভিতে কাউকে দেখা যায়নি। হাসিনাও ইমেল মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এবারও প্রথম তাঁরা সরাসরি ক্যামেরার সামনে এলেন। আর এটা যে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়েই হয়েছে সেটা অনেকেই মেনে নিচ্ছেন। কারণ, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বহু নেতার বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া চলছে। আবার হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মতো দুই শীর্ষ নেতার শাস্তিও ঘোষণা হয়েছে। এ হেন একটি বিদেশী রাজনৈতিক দলের নেতারা খোদ দিল্লিতে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন সেটাও কিন্তু বড় কূটনৈতিক ইঙ্গিত। বেশ কয়েকমাস ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে আওয়ামী লীগ কী ভারতে একটা প্রবাসী সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছে? এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কিছু খোলসা না করা হলেও তাঁদের গতিবিধি কিন্তু সে দিকেই ইঙ্গিত করছে। কারণ, বাংলাদেশে এখন এক লক্ষের বেশি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থক জেলবন্দি আছেন। লীগের বহু কর্মী সমর্থক খুন হয়েছেন। আবার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ উঠেছে, সেগুলি নিয়েও খুব বেশি তথ্যপ্রমান দিতে পারেনি ইউনূসের প্রশাসন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার নানা জায়গায় দরবার ও চিঠি চালাচালি করেও খুব একটা সুবিধা হয়নি। সেই কারণেই প্রবাসী সরকার গঠন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন লীগের নেতারা। যদি এই সরকারকে ভারত-সহ কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি দিয়ে দেয় তাহলে বিদেশী দেশগুলি এবং জাতিসংঘের মতো সংগঠনে সুবিধা পাওয়া যাবে। এখন দেখার, আওয়ামী লীগের তরফে ঠিক কি কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post