২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি বড় সমাবেশ হয়। এর কয়েক দিন পর ৩১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। এ মামলায় ১৮ জনকে আসামি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ২২ নভেম্বর চিন্ময়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশের রংপুরে আরও একটি বড় সমাবেশ হয়। এরপর রাষ্ট্রদ্রোহের সেই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়। পরদিন জামিন আবেদন করা হলে তা নাম মঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। অন্যদিকে, আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরের বাইরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন চিন্ময়। বিনা বিচারেই বন্দি হিন্দু সন্নাসী। এবার অপরাধের কোনও প্রমাণ না মিললও বিচারের মুখোমুখি চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। এখন আশঙ্কা ফাঁসি হবে না তো চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর? এই প্রশ্নটাই ঘোরাফেরা করছে বিভিন্ন মহলে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু আন্দোলনের মুখকেই খুনের মামলায় বন্দী করেছে সে দেশের অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পুলিশ। সেই দেশেই একাধিক ধারায় চট্টগ্রামের বিশেষ আদালতে গঠন করা হয়েছে চার্জ। চিন্ময়কৃষ্ণকে তোলা হয় আদালতেও। চট্টগ্রামের আইনজীবা সইফুল ইসলাম আলিফের খুনের ঘটনায় একই মামলায় বিচারের মুখোমুখি ৩৯ জন। যার মধ্যে ১৬ জন পলাতক বলে দাবি। এই মামলাতেই চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে। চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাহিদুল হকের এজলাসে শুরু হয়েছে বিচার প্রক্রিয়া। আইনজীবীর তরফ থেকে বলা হয়েছে, বিচার হবে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফাস্ট ট্র্যাক ট্রাইব্যুনালের অভিযোগ গঠনের পর একজন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, “আদালত চিন্ময়ের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করেছে এবং অন্য ২২ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।” তাঁদের মধ্যে হেফাজতে রয়েছেন ২৩ জন এবং ১৬ জন পলাতক। ঘটনায় সাইফুল ইসলামের বাবা জামালউদ্দিন ৩১ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবীদের উপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা দায়ের হয়। চিন্ময়প্রভুর আইনজীবীর তরফ থেকে বলা হয়, তিনি কোনও কিছুতে দোষী নয়। তাঁকে জোর করে যুক্ত করানো হচ্ছে। তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, তাঁর FIR-য়ে নাম নেই। আদালতের বাইরে আঁটসাঁট করা হয় নিরাপত্তা। চিন্ময়কৃষ্ণের সমর্থকদের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, যার মাধ্যমে সংখ্যালঘু কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। এদিকে চিন্ময় প্রভুকে নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন তসলিমা নাসরিনও। বাংলাদেশের এই বিদ্রোহী কবি, সাহিত্যিক এবং সমাজকর্মী নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা মিথ্যে মামলা। তিনি নাকি বাংলাদেশের পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা টাঙিয়েছিলেন। আমরা তো জানি বাংলাদেশের পতাকার ওপরে আইএসআইএসের পতাকা তোলা বৈধ। পতাকা, শুধু গেরুয়া হলেই সমস্যা। কিন্তু সেই গেরুয়া পতাকাও চিন্ময় তোলেননি। এক বছরের বেশি সময় এই হাস্যকর কারণে তিনি জেল খাটছেন। তাঁকে জামিন তো দেওয়াই হল না, তাঁকে আবারও জেলে পাঠানো হল। তসলিমা আরও বলেন, পর পর মিথ্যে মামলা রুজু করে কেন একজন নিরপরাধ মানুষকে হেনস্থা করছেন ইউনুস? চিন্ময়কে কেন ভয়? তিনি নির্যাতিত হিন্দুদের মনে সাহস দিয়েছিলেন বলে? তাঁর ডাকে লক্ষ হিন্দু পথে নামত বলে? তিনি মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলতেন বলে?’ ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি থাকা চিন্ময়কৃষ্ণকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহলে। আসলে মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ এখন মগের মূলক। এখানে সরকার বিরোধী কেউ মাথা তুললেই তাঁকে ফাঁসানো হবে, জেলে ভরা হবে। এটাই নিয়ম।












Discussion about this post