‘মনে হয় বহূ দূর চলে গেছি-/ যেখান থেকে ফিরতে হলে আরও একবার জন্মাতে হয়, / জন্মেই হাঁটতে হয়, / হাঁটতে – হাঁটতে হাঁটতে- হাঁটতে’।
এই কবিতা শক্তি চট্টপাধ্যায়ের। শিরোনাম ‘মনে মনে কতদূর চলে গেছি।’
বহু দূর চলে গিয়েছে বাংলাদেশও। এই চলা কবে শেষ হবে, কী ভাবে, কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা কারও জানা নেই। এক অদৃশ্য গন্তব্যের দিকে ঝড়ের বেগে ছুটে চলা, শুরু হয়েছিল ২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। সেখান থেকে ফিরতে হলে আরও একবার জন্মাতে হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। জন্ম হবে এক নতুন বাংলাদেশের। দেশ যে এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দুঃশাসন থেকে সুশাসনে ফেরা, বিশৃঙ্খলতাকে থেকে শৃঙ্খলে, অন্ধকার থেকে আলোতে। কণ্ঠরোধ হয়ে যাওয়া গণতন্ত্রের কণ্ঠ উন্মোচন করা। আর তার জন্য দরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। নির্বাচন আদৌ কি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে? দেশে কি প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন? কণ্ঠরোধ হয়ে যাওয়া গণতন্ত্রের কণ্ঠ কি আবারও উদার হবে? এমন অজতু সহস্র প্রশ্নের গোলোকধাঁধায় যখন বাংলাদেশ ঘুরপাক খাচ্ছে সেই সময় শোনা গেল বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ আনামের কণ্ঠস্বর। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে তিনি একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
কী বলেছেন বিশিষ্ট এই সাংবাদিক?
সেই ভয়ঙ্কর দিনের কথা জানাতে গিয়ে ডেইলি স্টারের বিশিষ্ট এই সাংবাদিক বলেন, “They (the staff trapped inside the building) were struggling even to breathe. I was on the phone with the newsroom. They were saying, ‘Mahfuzbhai, maybe we will not see each other again.’ They were calling their fathers, mothers, wives, and friends, saying that they might never meet again.”
বাংলা তর্জমা করলেন দাঁড়ায় ভয়ঙ্কর আগুনে ওদের (পত্রিকার কর্মীদের) দমবন্ধ হয়ে আসছিল। ওরা নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না। গোটা নিউজরুমজুড়ে একটা আতঙ্ক। ওরা আমায় বলছিল, মাহফুজ ভাই, আমাদের বোধহয় আর কোনওদিন দেখা হবে না। ওদের কেউ কথা বলছিল বাবা মায়ের সঙ্গে। কেউ কথা বলছিল তাঁর স্ত্রী, তার ছেলের সঙ্গে। কাঁদতে কাঁদতে ওরা বলছিল, আর দেখা হবে না। ভালো থেকো।
আলজাজিরার ‘দ্য লিসেনিং পোস্ট’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মূলধারার গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও বেশি। গণমাধ্যমের স্বাধীন চিন্তাভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান। কিন্তু একই সঙ্গে সেই সর্বগ্রাসী আতঙ্কও রয়েছে—কোনোগোষ্ঠীরচাপিয়েদেওয়ামনোভাবথেকেসামান্যসরেগেলেইআমারওপরহামলাহতেপারে। বাংলাদেশের বিশিষ্ট এই সাংবাদিক বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, অনেক সময় আমরা শব্দ চয়নেও খুব সতর্ক থাকি। ভাবি, এই শব্দটি ব্যবহার করব, নাকি ওই শব্দটি! এই ভাবনাটি স্বাধীন গণমাধ্যম সংস্কৃতির পরিপন্থী হলেও সেটাই এখন করতে হচ্ছে।’
দ্য ডেইলি স্টারের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, যারা সরাসরি হামলা চালিয়ে ভবনে আগুন দিয়েছে, তারা সম্ভবত ডেইলি স্টারের পাঠক নয়।তাহলে তারা কেন এটা করেছে, এই প্রশ্ন তুলে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমার ধারণা, এটা ছিল সুপরিকল্পিত। তাদের রাজনৈতিক ও আর্থিক মোটিভেশন ছিল। পাশাপাশি গণতন্ত্র, বহুমতের স্বীকৃতি ও ভিন্নমতকে সমর্থন করা উদার সাংবাদিকতার ঐতিহ্যকে বড় পরিসরে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যও তাদের ছিল।’
(“So why did they do it?” he asked, adding, “My assumption is that it was well planned. They had political and financial motivations. At the same time, they also intended to destroy, on a broader scale, the liberal journalistic tradition that supports democracy, pluralism, and dissent.”)
তাঁর মতে, “আমাদের প্রতিবেদনে যদি ভুল থাকে, সেটা বলতে পারেন। আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা- আমার মতে এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। (“To be honest, many times we are extremely cautious even about word choices—we think whether to use this word or that one. Although this mindset goes against a culture of free media, this is what we are being forced to do now.”)












Discussion about this post