“কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়/ও ভাইরে ও ভাই কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।/আমি যেই দিকেতে চাই/দেখে অবাক বনে যাই/আমি অর্থ কোনো খুজি নাহি পাইরে,/ওভাই রে, ভাই রে/কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়।”
স্ত্রী সহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি শফিকুর রহমান ও চারজনের গ্রেফতার ও বিমান বাংলাদেশ পরিচালনা পর্ষদে প্রশাসনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের নিয়োগ প্রসঙ্গে হীরক রাজা ছবির এই গানখানির উল্লেখ করতে হয়। শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ।রবিবার রাতে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি দুই আসামি হলেন শফিকুরে দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন এবং মোছা. সুফিয়া বেগম। রুপালী খাতুনের দুই বছর ও ছয় মাসের দুটি শিশুসন্তান আছে। তাদের অভিভাবক না থাকায় সন্তান দুটিকে আসামির সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী গৃহকর্মীর বাবা। তাঁর অভিযোগ শফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বিথীর বাসার সিকিউরিটি গার্ড জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই সূত্রে গার্ড জাহাঙ্গীর জানতে পারেন তাঁর একটি ছোট্ট মেয়ে রয়েছে। তখন জাহাঙ্গীর তাঁকে জানায়, এই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট একটি মেয়ে বাচ্চা খোঁজা হচ্ছে। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে শফিকুর ও বিথীর সঙ্গে দেখা করেন। তারা জানান, যাকে রাখবে তার বিয়েসহ যাবতীয় খরচ তারা বহন করবে। এতে রাজি হয়ে গত বছরের জুন মাসে তিনি তার ১১ বছর বয়সী মেয়ে নিয়ে কাজে দেন। সর্বশেষ গত বছরের ২ তিনি সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। তবে এরপর তিনি সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও পরিবারটি নানা অজুহাতে দেখা করতে দেয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বেলা দেড়টার দিকে বিথী তাঁকে ফোন করে জানান, তার মেয়েটি অসুস্থ। তাকে নিয়ে যাওয়া দরকার। তিনি ২টার দিকে মেয়েকে আনতে যান। তখন বিথীকে ফোন করলে তিনি বাইরে আছেন জানিয়ে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে বিথী সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ির বাইরে তাঁর কাছে মেয়েকে বুঝিয়ে দেন।
আচমকা জাহাঙ্গির দেখেন তাঁর মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত। মেয়েটি ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না। কীভাবে এমন হলো জানতে চাইলে বিথী সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে তিনি মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। মেয়ে তাঁকে জানায়, গত ২ নভেম্বর তিনি দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান এবং বিথীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারধর, খুন্তি গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে।
উত্তরা থানার ওসি রফিক আহমেদ জানিয়েছেন, ১১ বছরে শিশুকে বীভৎসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলাও রুজু হয়েছে। সেই মামলার সূত্রে সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি রাত তিনটে নাগাদ শফিকুর রহমান তাঁর স্ত্রী বিথী সহ বাড়ির দুই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনা যে নিঃসন্দেহে অমানবিক, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেই অমানবিক ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদারকি সরকার প্রধান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি, তাঁর স্ত্রী সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। প্রশ্ন অন্যত্র?
বাংলাদেশ গত এক বছরের বেশি সময় ধরে নানা প্রান্ত থেকে নানা অত্যাচার, অনৈতিক কার্যকলাপ সংঘটিত হয়েছে। বাংলাদেশের উঠতি নেতাদের মুখে শোনা গিয়েছে ভারত – বিদ্বেষী কথাবার্তা। দেওয়া হয়েছে হুমকি। যারা এই সব হুমকি দিয়েছে, তাদের একজনকেও কিন্তু তদারকি সরকার গ্রেফতার করেনি। উলটে তাদের প্রশ্রয় দিয়ে গিয়েছে। ওই সব নেতাদের গ্রেফতার না করে তদারকি সরকার বুঝিয়ে দিতে চাইল যে তাদের কার্যকলাপে সমর্থন রয়েছে।
এদিকে, আবার বাংলাদেশ নির্বাচনের মুখে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিমান সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে প্রশাসনের তিনজনকে নিয়োগ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই তিনজনের মধ্যে একজন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বাকিরা হলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। গেজেটে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সরকার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়।












Discussion about this post