বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারছে না, এটা এখন দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। কিন্তু কোনও কোনও মহল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহন হতে পারে। কিন্তু এই ব্যাপারে আওয়ামী লীগের তরফে কিছুই বলা হয়নি বা এরকম কোনও দাবি করা হয়নি। তাহলে কেন এমন রটনা চলছে? আসলে বাংলাদেশ এখন রটনা, গুজবের দেশে পরিণত হয়েছে। কারণ, শেখ হাসিনার দলকে বাইরে রেখেও এই নির্বাচনে অংশ নিতে চলা বিএনপি এবং জামাত জোট খুব একটা স্বস্তিতে নেই। কারণ, আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে স্লোগান তুলে দিয়েছেন, নো বোট-নো ভোট। অর্থাৎ, হাসিনার আহ্বান হল আসন্ন ভোটে যেহেতু আওয়ামী লীগ নেই বা ব্যালটে নৌকা চিহ্ন নেই, তাই ভোটও যেন কেউ না দেন। এটাই এখন জামাত বা বিএনপির মূল মাথাব্যাথার কারণ। তাই আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এমন গুজব রটানো হচ্ছে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে। যাতে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু আসল গল্প অন্য জায়গায়। সেটা হল, জামাতের একটা মহাপরিকল্পনা, যা আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশের ভবিষ্যত বদলে দিতে পারে।
বেশ কয়েকটি সূত্র দাবি করছে, আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার জন্য পাকিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই লস্কর-এ-তৈবার বেশ কয়েকজন জঙ্গিনেতা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। জানা গিয়েছে অন্তত ১৩ জন জঙ্গি বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় নেমেছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে সম্প্রতি। সবচেয়ে বড় বিষয়, দুই দেশের চুক্তি মোতাবেক কোনও দেশের নাগরিককেই আগাম ভিসা নিতে হবে না। ফলে পাকিস্তান থেকে আসা বিমানযাত্রীরা অনায়াসেই ভিসা অন অ্যারাইভাল পেয়ে যাবেন। সেই সুয়োগকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান থেকে জঙ্গিনেতারা এবং জঙ্গিরা অনায়াসে সরাসরি বিমানে চেপে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ওই জঙ্গিরা পুরান ঢাকা এলাকার লালবাগে এক জামাত নেতার একটি বাড়িতে অবস্থান করছে। আপনারা একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে একটা বড় ধরণের অশান্তির আশঙ্কা করছে বিদেশী রাষ্ট্রগুলি। বিশেষ করে ভারতের সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছিল জোরদার চর্চা। ভারত তাঁদের কূটনৈতিকদের পরিবার পরিজনদের যেমন ফিরিয়ে এনেছে, তেমনই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরক একাধিক আধিকারিকদের দেশে ফিরিয়ে এনেছে। তখনই একটা গোলমালের আশঙ্কা করছিলেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। এরপর বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাসের তরফে মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপুর্ণ নির্দেশিকা বা অ্যাডভাইসারি জারি করা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশে নির্বাচনের মধ্যে জঙ্গিহানার কোনও সম্ভাব্য সম্ভাবনার উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন এই গোয়েন্দা রিপোর্ট কিন্তু দুয়ে দুয়ে চার করার মতোই।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজধানী ঢাকার আসনগুলি জামাত তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। আসলে জামাতের বাড়া ভাতে ছাই দিতে তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরেছেন। তাঁর দেশে ফেরাটা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তারেক দেশে ফেরায় পরিস্থিতি পুরো পাল্টে যায়। বিএনপি যেখানে একেবারে কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল, তারেক দেশে ফেরায় তা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। এখন জামাত ও তাঁদের সহযোগীরা কোনঠাসা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু তাঁদেরে মতে, জামাত এখন মরিয়া, তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাই বিপ্লবের চালিকাশক্তি এনসিপি নেতাদের একাংশ। জামাতের সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তান এবং পাকপন্থী একাধিক ইসলামিক সংগঠন। ফলে এখন বেকায়দায় পড়ে ভোট বানচালের পথেও নামতে পারে জামাত। এমনটাই মনে করা হচ্ছে। যা টের পেয়েছে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও। তাই প্রত্যেকেই সাবধানী। জামাতের মহাপরিকল্পনার পর্দাফাঁস হয়ে গিয়েছে। এখন দেখার, ভোট আদৌ হয় কিনা বাংলাদেশে। আর হলেও কতটা অশান্তির আবহে হয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post