আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে বলে এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই যে ভাবে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তাতে অন্য আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের বাসভবনের বাইরে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন সে দেশের সরকারি কর্মচারিরা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও তাঁদের অনুগামীরাও তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন। অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের সেল ব্যবহার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এমনকি একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনও ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি বলে দাবি করেছে ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে এই দুই বিক্ষোভ ঘিরে এক অন্য ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাচ্ছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল।
ভোটের আগেই হাজার হাজার বিক্ষোভকারী পথে নামল বাংলাদেশে। দখল করতে গেল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা। ঠিক যেমনটা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বঙ্গভবন দখল করতে রওনা দিয়েছিলেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। বৃহস্পতিবারও সেই ধরণের ঘটনাই ঘটতে যাচ্ছিল ঢাকায়। ভোটের পাঁচ-ছয়দিন আগেই এ ধরণের ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে ইউনূসের সরকার। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলি যদিও এই বিষয়ে খুব একটা প্রচার করছে না। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। তাতেই দেখা যাচ্ছে একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, ইনকিলাব মোর্চা সংগঠনের নেতৃত্বে বুধবার বাংলাদেশের ঢাকায় বিরাট বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। তরুণ ছাত্রনেতা ওসমান হাদির হত্যার নিরপেক্ষা তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে এই বিক্ষোভ হয়। তাঁদের দাবি ছিল, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্তকমিটি গঠিত হোক। এই মঞ্চের নেতা-কর্মীরা বুধবার রাতভর মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনার একেবারে সামনে অবস্থান নেন। কিন্তু দৃশ্যপট পালটে যায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকারি কর্মীরা শহিদ মিনারের সামনে জড়ো হন। এরপর তাঁরা মিছিল করে জমুনার উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁদের দাবি, সরকারি কর্মীরা দিনের পর দিন বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। অবিলম্বে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে। তাঁদের মুখে স্লোগন ছিল, “পেটে ভাত নেই – কীসের উন্নয়ন হচ্ছে?”। এই মিছিল যমুনার সামনে পৌছতেই শুরু হয়ে যায় ধুন্ধুমার কাণ্ড। কারণ এই বিক্ষোভ ঠেকাতে আগে থেকেই যমুনার সামনে মোতায়েন ছিল কয়েকশো পুলিশ, বিজিবি সদস্য। অনেকটা আগে থেকেই ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগোতে থাকেন। এরপরই পুলিশ অ্যাকশনে নামে। দেখা গিয়েছে, পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারিদের কার্যত তাড়া করলেন। এর ফলে পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বহু মানুষ মাটিতে পড়ে গিয়েও আহত হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভিডিওতে সরকারবিরোধী একাধিক মন্তব্য যেমন শোনা গিয়েছে, তেমনই আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার হুমকিও শোনা গিয়েছে বিক্ষোভকারীদের মুখে। অন্যদিকে এই ধুন্ধুমার পরিস্থিতির মুখে পড়ে ইনকিলাব মঞ্চের একাধিক নেতা-কর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের মাত্র পাঁচদিন আগেই কেন এমনতর বিক্ষোভে উত্তাল হল ঢাকা? বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চ, যারা জামাতের অনুসারী সংগঠন হিসেবেই পরিচিত তাঁরা কেন যমুনার সামনে গিয়ে ধর্নায় বসলো, সেটাও চর্চায় রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের কেউ কেউ দাবি করছেন, এর পিছনে জামাতের কোনও পরিকল্পনা থাকতে পারে। আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করতে পারলে সবচেয়ে সুবিধা হবে ইউনূস এবং জামাতের। তাহলে কি এমন কোনও চক্রান্ত রয়েছে বাংলাদেশে, এই বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post