আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বদ্ধপরিকর সেনা। সেনাপ্রধান ওয়াকার ক্যান্টনমেন্টে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বৈঠক করেছেন বাকি দুই বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাহিনীর কাছে অগ্নিপরীক্ষা। হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সেনাবাহিনী হারিয়ে ফেলেছিল তাদের মান সম্মান। আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাহিনী তাদের কর্তব্য পালন করে হারিয়ে যাওয়া আত্মমর্যাদা ফিরে পেতে বদ্ধপরিকর। তবে তারা তাদের লক্ষ্য কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। কারণ তদারকি সরকার চাইছে ভোটের মুখে বাহিনীতে রদবদল ঘটাতে। এই ইস্যুতে সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে তার মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
১২ তারিখ পুলিশের অগ্নিপরীক্ষা। ভোট পূর্ববর্তী পর্বে বাংলাদেশের নানা প্রান্ত থেকে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি কয়েকজনকে পিটিয়ে খুন করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তবে যমুনাভবনের সামনে আচমকা বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করছেন অনেকে। বলা হচ্ছে ২০২৪-য়ের ৫ অগাস্ট পুলিশের ভূমিকা আর যমুনাভবনের সামনে সেই একই পুলিশের ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। পুলিশের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিক্ষোভ হয়েছে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের দাবিতে। দিনের শুরুতে সকালে শহিদ মিনারের সামনে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে তারা তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে নবম জাতীয় পে স্কেল চালু করতে হবে। প্রকাশ করতে হবে সরকারি গেজেট। বিকেলে তারা যমুনাভবন ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেয়।
এই বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের সই করা একবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যে-কোন প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ প্রথমে টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায়। পরে ব্যবহার করে সাউন্ড গ্রেনেড।পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় রঙ চড়াতেকয়েকজন স্বার্থাণ্বেষী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতেকোনও ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারীও সামান্য আহত হয়। এর আগে শুক্রবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে দাবি করা হয় যে, সংগঠনটির সদস্য সচিব জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
যদিও পুলিশ এই দাবি মানতে অস্বীকার করে। তবে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সরব হওয়া এবং যমুনাভবনের সামনে আচমকা বিক্ষোভ কিন্তু অন্য কথা বলছে। বাংলাদেশে ভোটের দিন তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করতে শুরু করে। প্রশ্ন ছিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। বলা হচ্ছিল, বিশেষ একটি গোষ্ঠী এই নির্বাচন বানচাল করার জন্য সক্রিয়। ভোটের মুখে আচমকাই কেন হাদি হত্যার বিচারের দাবি উঠল? গত মাসে হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তথা মীরপুরের প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশে এই খুন করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের এই চার্জশিট মানতে নারাজ হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। হাদিকে খুন করার পিছনে একটি চক্র ও রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত।
তবে এই সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে যমুনাভবনের সামনে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা। পুলিশ দেখিয়ে দিয়েছে, তারা চুপচাপ আর জনতার মার খেতে নারাজ। তাদের এই ভূমিকা দেখে বাংলাদেশবাসী ভোটের আগে কিছুটা হলেও আস্থা ফিরে পাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সেনাবাহিনী কি এই ভূমিকা নিতে পারবে? মানুষ নির্বিঘ্নে বুথে গিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। ভোটের দিন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অগ্নিপরীক্ষা।












Discussion about this post