বাংলাদেশে ভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশনে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। ব্যস্ততা সেনাবাহিনী এবং পুলিশের মধ্যেও। ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই সনদ নিয়ে হবে গণভোট। সরকার চাইছে যে কোনও মূল্যে জুলাই সনদের পক্ষে বাংলাদেশবাসী তাদের মতামত জ্ঞাপন করুক। ভোটের ঠিক তিনদিন আগে বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যএকটি মন্তব্য জন্ম দিল এক জল্পনার। বাক্যবাণে বিঁধেছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসকে। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে তদারকি সরকারের বিদায় নিশ্চিত। গত দেড় বছরে এই সরকার সংস্কার করার সুযোগে পেয়েছিল। কিন্তু তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি।
রবিবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। শিরোনাম ছিল ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি কেন বলতে চাই যে এই সরকারের এখন যাওয়ার সময় হয়েছে। কারণ, তাদের যতটুকু সংস্কার করার সুযোগ ছিল, যেটুকু আমার …. আমার… যেটুকু সংস্কার করার জায়গা ছিল, যেটুকু বিচার করার জায়গা ছিল, ওনাদের দম ফুরিয়ে গিয়েছে। আর ওনাদের এই … ওনাদের যেটুকু সক্ষমতা, যেটুকু সম্ভাবনা, তা শেষ সীমায় চলে এসেছে। এখন যেটা ওনারা করতে পারেন, সেটা হল একটি ভালো নির্বাচন। যেটুকু করার সম্ভব। অন্তর্বর্তী সরকার যদি তাদের দায়িত্বের শেষ পর্যায়ে একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, তাহলে সেই অর্জন ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
নির্বাচন কেমন হবে, সেটাও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘নির্বাচন যথেষ্ঠ অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। তবে অংশগ্রহণমূলক করার এখনও সুযোগ আছে। মহিলা হোক বা অন্য কোনও জনগোষ্ঠী হোক বা ভিন্ন মতের রাজনীতির মানুষ হোক – নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ আছে। ’দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের কথায়, ‘পিছিয়ে পড়া মানুষদের ভোট আনা এবং ভোটের আগে ও পরে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারকে নিতে হবে। সরকারের সামনে ভালো কাজ করার সুযোগ এটি। সর্বেশষ ভালো কাজটি যদি করে যেতে পারে, তাহলে ইতিহাসের পাতায় তাদের জায়গা পাওয়ার একটি সুযোগ থাকবে। ’
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ‘মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কথার সঙ্গে তাঁর কাজের মিল নেই। তিনি বলেছিলেন, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক ছাতার তলায় থাকবে। ছাতা তো খুললই না। বৃষ্টি পড়ে যাচ্ছে, ছাতা খোলে নাই।’ সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নিপীড়ন প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় তদারকি সরকারের সমালোচনা করেছেন। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আমি একটি উদাহরণ দিই। ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ সাল। আমাদের অত্যন্ত একজন বিজ্ঞ মানুষ আছেন তত্ত্বাধায়ক সরকারের ভিতরে, মানে… উনি সরকারের উপদেষ্টা না, বক্তা হিসেবে… উনি একটি প্রেস কনফারেন্স করে বললেন, ২০২৫ সালে ধর্মী সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ হয়েছে … মানে সম্পৃক্ত ৬৪৫ জন। কিন্তু এর মাত্র ৭১টি হল সাম্প্রদায়িক কারণ। দেখেন আপনারা বলেন, আমরা বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করি। অনেক খারাপ কাজ করি। সরকারের ভিতরে থেকে রাষ্ট্রীয় মুখপাত্র হয়ে কী ধরনের বুদ্ধিভিত্তিক অপপ্রচার করে বা বিকৃতি করে তার একটা উদাহরণ। তো আমি ভাবলাম … আমরা তো… মানে ইকোনমিস্ট মানুষ। অ্যানালিসিস করি। এভিড্যান্স পেলেই তো বুঝতে চাই কীভাবে এটার ব্যাখ্যা করা হয়। ৭১জন কীভাবে পেল, আর ৬৪৫টাই বা কীভাবে পেল? এক বছরে শুধু সরকারি হিসেবে ৬৪৫টা আক্রমণ হয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর, ২০২৫ সালে সরকারি হিসেব। ৭১ টি পেয়েছেন মন্দিরের ওপর বা প্রতিমা ভাঙার ওপরে। আর বাকি এই পাঁচশো কতজন। ঘটনা উনি সাম্প্রদায়িক হিসেবে দেখেন না। কীসের সমস্যা? না ওটা জমি জিরাত নিয়ে সমস্যা। অদ্ভুত কথা।
বাইট দেবপ্রিয়
TC 00.38–01.44
এখন প্রশ্ন হল, নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে অর্থনীতিবিদ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সুযোগ আছে বলার মধ্য দিয়ে কি তদারকি সরকারকে এই বার্তা দিতে চাইলেন যে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আওয়ামী লীগের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।












Discussion about this post