আর তিনদিন বাদে ১২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সাধারণ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদের ওপর নেওয়া হবে গণভোট। বিকেলে শুরু হবে গণনা। রাতের মধ্যে একটা ধারণা পাওয়া যাবে যে আগামী পাঁচ বছর কারা বাংলাদেশ শাসন করবে। কোনও কোনও তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে সক্রিয় একটি গোষ্ঠী। সূত্রের খবর, তদারকি সরকার প্রধান সেই গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তিনি চাইছেন যে কোনও উপায়ে ক্ষমতা থেকে যেতে। তার সেই উদ্দেশ্য সফল হবে না কি বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু হবে সে দিকে তাকিয়ে সব পক্ষ।
ভোটের বাকি যখন আর মাত্র তিনদিন সেই সময় শোনা গেল আর একটি আশঙ্কার খবর। বাংলাদেশে যারাই ক্ষমতায় আসুক না কে, তাদের নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। কারণ, তদারকি সরকার দেড় বছরের শাসনামলে কার্যত দেশটিকে সব দিক থেকেই অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও একটি প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে। সেই প্রশ্ন হল ভোটের দিন আওয়ামী লীগের ভূমিকা কী হবে? দলনেত্রী তাঁর নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন ভোটের দিন বুথমুখী না হয়। এটাই ছিল সর্বশেষ নির্দেশ। যদিও একাংশের মতে, ভোটের দিন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বুথে গিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। আর জুলাই সনদ দিয়ে আয়োজিত গণভোটে তারা প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে মত দিলে তদারকি সরকারের তরফে সেই মতামতে জল মেশানো কঠিন হয়ে পড়বে। কোনও কোনও মহল থেকে আবার এটাও বলা হচ্ছে জামায়াতকে রুখতে আওয়ামী লীগের ভোট পড়বে বিএনপির ঝুলিতে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট যে একটা বড় ফ্যাক্টর সেটা সকলেই স্বীকার করে নিয়েছেন। জয়ের তরফ থেকেও একটা বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হল যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের পক্ষে কি পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা সম্ভব হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ব্যাপারটি বেশ কঠিন।
এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালেয় আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘এই রকম পরিস্থিতিতে যদি নির্বাচন হয়, যদি … যেই… মানে আপনার সরকার গঠন করুক, তাদের পক্ষে বাংলাদেশের অর্থনীতি, তারপরে আমলাতন্ত্রে স্থবিরতা, সেনাবাহিনীর মধ্যে যে স্থবিরতা, নতুন কোনো ইনভেস্টমেন্ট নেই. বেকারত্ব, প্রতিটি জিনিসকে সামাল দেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে। যার প্রেক্ষিতে একবছর, দুইবছর, তিন বছরের মাথায় বাংলাদেশে আরও একটা নির্বাচন করতে হবে। এবং এই সর্বোচ্চ লোকজন – ড. ইউনূস নোবেল লরিয়েট, আলি রিয়াজ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়ান একজন বুদ্ধিজীবী প্রকাশ্যে প্রতারণা করে … তারা একটা অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে এসেছে ইউ এসের কাছকে। সেই অ্যাসাইনমেন্টের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ সংবিধান বাতিল করে দেওয়া। উপদেষ্টাদের পালাতে হবে। তারা যেখানে পালিয়ে যাবেন সেখানে গিয়েও তারা নিস্তার পাবেন না। এত দুর্নীতি অনিয়ম করেছেন।’
নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগের ভোটাররা কী করেন, সেটা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল। আওয়ামী লীগের ভোটে নিজেদের অনুকূলে টানার জন্য বিএনপি যেমন প্রচার চালিয়েছে, প্রচার চালিয়েছে জামায়াতও। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আওয়ামী লীগের ভোট নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের মতে, এমন সংকটজনক পরিস্থিতি আগে কখনও তৈরি হয়নি। তাঁর মতে, পরিকল্পনা করে আওয়মী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি। এর পিছনে একটি পরাশক্তি কাজ করেছে।












Discussion about this post