নিজের দলে ভোট টানতেই হোক বা অন্য কোনও কারণ – আওয়ামী লীগকে বেশ সমীহ করে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে বিএনপি নেতাদের। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ভালো আওয়ামী লীগারদের কোনও রকমে হয়রানি করবে না বিএনপি। তারেক রহমান বললেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। সে যদি হয় শেখ হাসিনার সন্তানও। শেখ হাসিনা যেহেতু এখনও সক্রিয়, আদতে গ্রিন সিগন্যালটা শেখ হাসিনার দিকেই বর্তায় বলে মন করছেন বিশ্লেষকরা। শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান যে বক্তব্য রেখেছেন, তা কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সুদূর প্রসারী বিনিয়োগ বলেই মনে করা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র, শেখ হাসিনা যখন ভারতে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্ন্যালে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হয়েছে। ঠিক সেই মূহূর্তে তারেক রহমানে ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করেছেন শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে ফিরে এসে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিদ্ধান্ত জনতার আদালতে ঠেলে দিয়েছেন তারেক রহমান। বলেছেন, কাউকে মানুষ গ্রহণ করে, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তারেক নিজেকে একজন প্রতিহিংসাপরায়ন নেতার পরিবর্তে একজন গণতান্ত্রিক স্টেটসম্যান হিসেবে উপস্থাপন করলেন। যিনি ব্যক্তিগত আক্রোশের উর্ধ্বে উঠে আইনের শাসন আর জনমতের ওপর ভরসা রেখেছেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই বক্তব্যের পিছনে কাজ করছে এক গভীর রাজনৈতিক অঙ্ক। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটি উদারতা। কিন্তু এর পিছনে রয়েছে ভোট ব্যাঙ্কের হিসেব নিকেশ এবং মাঠের রাজনীতির বাস্তবতা।
বর্তমানে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামি। আগের থেকে তারা সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী। মাঠ দখলে তারা বেশ সুবিধেজনক অবস্থানে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জামাতকে এককভাবে মোকাবিলা করা এবং নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বেশ কঠিন। এর জন্য বিএনপির প্রয়োজন একটি বিশাল ভোটব্যাংক। বিভিন্ন জরিপ বলছে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যবাহী ভোটারদের একটা বড়ো অংশ , যারা বর্তমানে নেতৃত্বহীন এবং হতাশ, তারা জামাতের উত্থান ঠেকাতে বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। এমনকী বিএনপির নীতি নির্ধারকেরা মনে করছে, আওয়ামী লীগের ভোটাররা বিএনপিকেই বেছে নেবেন। উদ্দেশ্য সেকুলা স্পেশ ধরে রাখা। ঠিক এই জায়গায় বিএনপি সফট গেম খেলছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভালো আওয়ামী লীগারদে হয়রানি না করার ঘোষণ এবং তারেক রহমানের ঘোষণা এক সুতোয় গাঁথা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মাঠের রাজনীতিতে আরও একটি দৃশ্যমান ঘটনা হল আওয়ামী লীগের মধ্যম ও তৃণমূলস্তরের নেতাকর্মীদের দলবদল। তারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। আগামীদিনে আরও আওয়ামী লীগ কর্মী তারেক জিয়ার দলে নাম লেখাবেন বলে মনে করছে। বিএনপিও কৌশলগত কারণে তাদের গ্রহণ করছে। দুটি লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে। প্রথমত স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিতকে দূর্বল করে দেওয়ায়, দ্বিতীয়ত দলের সাংগঠনিক ভিতকে আরও মজবুত করা। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান যখন বললেন, আওয়ামী লীগ যদি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে তারা জাতীয় রাজনীতিতে ফিরতেই পারে।
একই সাক্ষাৎকারেতিনিনির্বাচনেরপরঐক্যসরকারগঠনেরপ্রস্তাবনাকচকরেছেন।তারভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়বে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কিভাবে আমি সরকার গঠন করি, তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, দলটি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তবে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি। বিএনপির ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দলটি এগোচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে তাদের জোটসঙ্গীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই বার্তার মধ্যে দিয়ে তারেক রহমান বোঝাতে চাইলেন যে বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতিতে নয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post