ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশের কাছাকাছি ভোটার বিএনপিকে ভোট দিতে যাচ্ছেন বলে একটি সমীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে। আর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এই জনমত মাত্র ১৯ শতাংশ। যদিও এই সমীক্ষা বা জনমত জরিপটি হয়েছিল গত জানুয়ারি মাসে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এই জরিপ পরিচালনা করেছিল। এরমধ্যে পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। বাংলাদেশের নির্বাচন থেকে নির্বাসিত আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নেত্রী এবারের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় সভ্য সমর্থকদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই। আওয়ামী লীগের নেতা তথা হাসিনাপুত্র জয় ছাড়াও দলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব “নো বোট-নো ভোট” স্লোগান তুলে এবারের ভোট বয়কটের জোরদার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যেটা জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন করা ভোটার এবার ভোট বয়কটের কথাই ভাবছেন। আগামী নির্বাচনে যদি আওয়ামী সমর্থকদের একটা বড় অংশ যদি সত্যিই ভোট বয়কট করেন, তাহলে পরিসংখ্যান ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
ঘটনাচক্রে আগের জরিপের ঠিক একমাস পর, নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে বাংলাদেশের প্রথমসারির গমমাধ্যমগুলি এবার প্রচার করতে শুরু করেছে যে আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে ৪৮ শতাংশই এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন। এই ধরণের জনমত কিভাবে করা হল, আর এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তিই বা কি, সেটা নিয়েও রয়ে গিয়েছে ধন্ধ। তবে আজকের বাংলাদেশে সবকিছুই সম্ভব বলে ধরে নেওয়া যায়। এরমধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। এক নির্দেশিকায় বাংলাদেশের ইসি জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ থাকবে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ইনচার্জ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার এবং যারা ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬ অ্যাপ ব্যবহার করবেন, তাঁরাই কেবলমাত্র মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে অনুমতি পাবেন। আর এই নির্দেশিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষিপ্ত হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে নবীন রাজনৈতিক দল তথা ছাত্রদের দ্বারা গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সোমবার এক জনসভায় দাবি করেছেন, যদি এই নির্দেশিকা আজ রাতের মধ্যে প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে মঙ্গলবারই নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাও করা হবে।
বাংলাদেশের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাংলাদেশে এমন সব হাস্যকর ঘটনাও সামনে আসছে। নির্বাচনের বিধিনিষেধ ঠিক কি, আদর্শ আচরণবিধি আদৌ লাগু হয়েছে কিনা আর সরকারই বা কিভাবে নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকছে তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু আজকের আলোচনার বিষয় হল, আওয়ামী লীগের সমর্খকরা কাকে ভোট দেবেন, নাকি তাঁরা সত্যিই ভোট বয়কটের পথে হাঁটবেন। ঘটনা হল, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যুযুধান দুই পক্ষ বিএনপি এবং জামাত সকলেই চাইছেন আওয়ামী লীগের ভোটবাক্সে থাবা বসাতে। কিন্তু এই দুই দলই প্রথম থেকে চেয়ে এসেছে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে দূরে ঠেলে রাখতে। মূলত তাঁদের ইচ্ছা এবং জোরাজুরিতে ইউনূস সরকার শেখ হাসিনার দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। এখন ঠেলায় পড়ে সেই দলের ভোটারদের কার্যত পায়ে পড়ছে বিএনপি এবং জামাত। একাধিক জনসভা এবং সাক্ষাৎকারে জামায়াতের নেতা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দাবি করেছেন তাঁরা আওয়ামী লীগের ভোট পাবেন। কোনও কোনও জায়গা থেকে এমন খবরও এসেছে যে বিএনপি তাঁদের প্রচারসভায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন গা ঢাকা দেওয়া নেতাকে মঞ্চে তুলে এনেছেন। তাঁদের দিয়ে সমর্থন করার দাবিও জানিয়েছেন। অর্থাৎ, বোঝাই যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটা বড় অংশ যদি ভোট না দেয়, তাহলে আসন্ন নির্বাচনের ফল উল্টে-পাল্টে যাবে। এখানেই চিন্তিত জামাত-বিএনপি নেতারা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলের সর্বোচ্চ নেত্রী এবং অন্যান্য নেতাদের প্রচারে এবার জোরদার সাড়া পড়তে চলেছে। এমনটাই গোয়েন্দা সুত্রে খবর। পাশাপাশি এই একতরফা নির্বাচন, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগও রয়েছে। তাই অনেকেই এখন ভোটকেন্দ্রের দিকে যেতে চাইছেন না।












Discussion about this post