সম্প্রতি ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়ে গেল। তাতে অংশ নিয়েছিল বিএনপি-জামাত-এনসিপির কয়েকজন শীর্ষ নেতারা। স্বভাবতই ওই বৈঠকের পৌরহিত্য করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকে শেষ মুহূর্তে একটা আসন সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেটা ভেস্তে যায়। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাও কেন ব্যর্থ হল? কে বা কারা ছাড় দিতে রাজি হলো না? এমনকি ঢাকায় নব নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার একটি বৈঠকও হয়েছে এই সময়কালে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ব্যাপক ঘোলাটে। আসুন একটু জেনে নেওয়া যাক, ঠিক কি কি ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট। তার দু’সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে ভাষণে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এখনও তা পালন করতে পারেননি বলেই দাবি সে দেশের একটা বড় অংশের মানুষের। ইউনূস জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের সরকারি ক্ষেত্রকে দুর্নীতিমুক্ত করবেন তিনি। কিন্তু আঠারো মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি ক্ষমতায় বসে আছেন, কিন্তু এখনও বাংলাদেশ স্থিতিশীল হয়নি। তবে তাই নয়, বাংলাদেশে যে দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে তার কোনও প্রমান নেই। এবার যেটা জানা যাচ্ছে তা আরও মারাত্মক। শনিবার রাতে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তিনজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা যমুনায় একটি গোপন বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে ছিলেন বিএনপি-জামাত-এনসিপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা। কিন্তু সমস্যা হল, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে রাখার জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সেরকম কোনও খবর সামনে আসে না। তবে বিভিন্ন সূত্রে তা বাইরে আসলেও এর সত্যতা জানা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবরের হেডলাইন ছিল পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। অর্থাৎ বৈঠকটি যে হয়েছে তা স্পষ্ট। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন রোববার প্রথমবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের এই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে ঠিক কি কি বিষয়ে এই বৈঠক হয়, তা নিয়ে খুব একটা আলোতপাত করা হয়নি। তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব নেওয়ার এতদিন পর কেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক বা সাক্ষাৎ করলেন? যেখানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামাত প্রধান সফিকুর রহমানের সঙ্গে আগে বৈঠক করেন। যেটা জানা যাচ্ছে, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে ভারতের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরীয় অ়্ঞ্চল এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্টেরর বর্তমান মনোভাব কি সেটা তৌহিদ হোসেনকে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনশন বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাঁকে বলে দেওয়া হয়েছে, এই এলাকাগুলিতে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের যৌথ স্বার্থ নিয়েই কাজ করতে আগ্রহী। জানা যাচ্ছে, এই অঞ্চলে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওভারল্যাপিং মেথডে কাজ করতে আগ্রহী। অর্থাৎ, কোনও প্রয়োজনে আমেরিকা এগিয়ে যাবে,আবার কোনও প্রয়োজনে ভারত এগিয়ে যাবে। এতে দুই দেশ যৌথভাবে কার্যপদ্ধতি ঠিক করবে। এর অর্থ হল, এবার বাংলাদেশ আঁটি হয়ে গড়াগড়ি খাবে।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি নিয়ে শাটডাউনের ঘোষণা করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। জানা যাচ্ছে, এরপরই মুহাম্মদ ইউনূস যমুনায় বিশেষ বৈঠকে ডেকেছিলেন জমাত, বিএনপি ও এনসিপি নেতাদের। জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে শেষ চেষ্টা করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস একটা সমঝোতায় আসার জন্য। কিন্তু তাঁর শেষ চেষ্টাও ভেস্তে যায়। জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে একটা জাতীয় সরকার গঠনের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারেক রহমান রাজি হননি। এই বৈঠকে মুহাম্মদ ইউনূস সেই চেষ্টা ফের একবার চালিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামাত সেটাতে রাজি হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, মুহাম্মদ ইউনূস যেভাবে এই বৈঠকে এনসিপি নেতাদের রেখে তাঁদের মান্যতা দিতে চেয়েছিলেন। তাতে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। ফলে সেই চেষ্টা যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনই তাঁর শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ফলে এখন ১২ তারিখ নির্বাচনের দিকেই সকলে তাঁকিয়ে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post