বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কয়েকদিন আগেই তাঁর উপদেষ্টা পদ নিয়ে আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষমুহূর্তে তাঁর পদ বেঁচে যায়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার মূল দায়িত্ব কার্যত তাঁরই কাঁধে। সেই তিনি এবার এমন একটি মন্তব্য করলেন যা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হল। রবিবার বাংলাদেশের রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তিনি বলেন, ভোট কারচুপির কোনও শঙ্কা নেই। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, ভারতীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রচুর সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তের ৮ কিলোমিটার এলাকায় সেনাবাহিনী যায় না। তবে প্রয়োজন হলে আমরা সেনাবাহিনী পাঠাবো। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এ হেন মন্তব্যে যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে, তা মেনে নিচ্ছেন রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিম মহলের একটা বড় অংশ।
অনেকেই অবাক হচ্ছেন এই ভেবে যে নির্বাচনের মুখে ভারত সীমান্তে সেনা পাঠানোর মতো কোনও পরিস্থিতি কি তৈরি হয়েছে? যেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সারা দেশে নির্বাচন উপলক্ষে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। সেই সঙ্গে ফ্রি ফেয়ার এবং ক্রেডিবল নির্বাচন হবে। তাহলে ভারত সীমান্তে বিপুল সংখ্যাক বিজিবি মোতায়েন কেন করতে হল বাংলাদেশকে, কেনই প্রয়োজনে সেনাবাহিনী পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো মনে করছে, নির্বাচনের আগে ভারতে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের নেতারা যে কোনও সময় বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে পারেন। সেই কারণেই হয়তো বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সেরকম কোনও কারণের কথা উল্লেথ করেননি। তিনি শুধু বলেছেন ভারত সীমান্তে প্রয়োজনে সেনা পাঠানো হবে।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে সেনাবাহিনী প্রবেশ করে না। এর দায়িত্বে থাকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। যদি সেনা সীমান্ত এলাকায় যায় তাহলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি খুব জটিল। সে দিক থেকে দেখলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে সেনাবাহিনী পাঠানো হবে। এখন প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে কি এবার সেনাবাহিনীর সাহায্য নিতে চায় বাংলাদেশ? তাছাড়া আওয়ামী লীগের নেতারা যে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে নির্বাচন বানচাল করতে চায় এমন খবর কি গোয়েন্দারা পেয়েছেন? নাকি ভারত সীমান্তে আরও বড় কোনও ইঙ্গিত পেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, আসলে গায়ে পড়ে ভারতের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেওয়া জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর স্বভাব। তিনি এর আগেও একাধিকবার এমন মন্তব্য করেছেন। যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কম জলঘোলা হয়নি। এই মুহূর্তে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এ হেন মন্তব্য সেই আগুনে ঘি ঢালার মতোই। বাংলাদেশের একাধিক উপদেষ্টা এবং ছাত্রনেতাদের কথায় ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি শোনা যায়। এবারও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মুখে কার্যত সেই কথাই শোনা গেল। কিন্তু তিনি সেনাবাহিনী পাঠানোর যোগ্য, নাকি তাঁকে এমন বলতে বলা হয়েছিল। সেই প্রশ্নও উঠছে।












Discussion about this post