জুলাই গণঅ্যভুত্থানের জেরে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে এ সরকার গঠন করা হয়। অন্তবর্তী সরকারের ১৮ মাসের বেশী সময় অতিক্রান্ত। ভালো ভালো কী কী হয়েছে এই অন্তবর্তী সরকার থাকাকালীন এই প্রসঙ্গে পরে আসছি। আগে এই সরকার আসার ফলে কী কী ব্যর্থতা সেই প্রসঙ্গটা তুলে ধরব আজেকর আলচনায়। বিভিন্ন মহল সূত্রে খবর, এক বছরে মানুষের কোনও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। প্রাপ্তির ঝুলিও পুরো ফাঁকা। বাড়েনি কোনও বিনিয়োগ। নতুন কোনও কর্মসংস্থান হয়নি। বেকারত্ব কমার কথা ছিল কিন্তু উল্টে বেকারত্ব বেড়েছে। বেড়েছে মব ভায়োল্যান্স। এই সময়ে যে যখন যেমন পেরেছে তাকে মেরেছে। কোনও অন্যায়ের শাস্তি হয়নি। অপমান করেছে, সম্পত্তি লুঠপাঠ করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে হামলা , ভাঙচুর করা। ওসমান হাদির মৃত্যু। শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙা। ইট, কাঠ, হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা হয় জানালা, দরজা, ক্রেন দিয়েও ভাঙা হয়। ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের সমৃতি জাদুঘরে গিয়ে এভাবেই বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালায় বাংলাদেশের তথাকথিত ‘২৪-এর বিপ্লবী ছাত্র–জনতা’। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে সেই শিক্ষকদের পদত্যাগে করতে বাধ্য করা। প্রথম আলো, ডেইলিস্টারে মব সৃষ্টি করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া বহু ক্ষয়ক্ষতি করা। সাংবাদিকদের মেরে ফেলার চেষ্টা করা। বলে বলে শেষ করা যাবে না গত ১৮ মাসের কাহিনী। অনেকে বলেন, এত ক্ষয়ক্ষতির পেছনে সরকারের কোনও উপদেষ্টা রয়েছে। ড.ইউনূসের সরকারকে দেশের মানুষ ভালোবেসে নাম দিয়েছে ইমু সরকার। কারণ কী ? কারণ হল, দেশের ওপর দিয়ে বইছে ঝড়। খুন, ডাকাতি, চুরি, পড়াশোনার আগের মতো নেই, একের পর খারাপের দিকে বাংলাদেশ। এর জন্য দায়ী কে ? বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকার। বাংলাদেশে এর আগে এমন প্রশাসন ছিল বলে কেউ মনে করতে পারছে না। কয়েকজন বলছেন, আইন, বিচারবিভাগ সব ছুটিতে ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর অভিযোগ ছিল, তারা দুর্নীতি করেছে। জনস্বার্থ উপেক্ষা করে একের পর এক মেগা প্রকল্প, আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যার কারণেই নাকি দেশে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বৈদেশিক ঋণের বোঝা ক্রমশ বেড়েছে। পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। অন্তবর্তী সরকারারের দায়িত্ব ছিল যা যা ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতিপূরণ সম্পূর্ণ করা। ইউনূস ক্ষমতায় আসার পরে বলেছিলেন, আমাদের উপদেষ্টারা খুব তাড়াতাড়ি সম্পদের হিসাবের কথা বলবে, কিন্তু প্রায় দেড় বছরের বেশী সময় অতিক্রান্ত। মেয়াদকাল শেষ হতে চলেছে অন্তর্বর্তী সরকারের। কিন্তু কোনও রকম ভাবেই প্রকাশ করা হয়নি উপদেষ্টাদের কারোও কোনও সম্পদের তথ্য। একাধিক উপদেষ্টা, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নানান অভিযোগ উঠতে দেখা গেছে। অর্থনীতিবিদ, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, “এরকম একটি অরাজনৈতিক সরকার, যেখানে বিশিষ্টজনেরা সরকারের ভেতরে রয়েছেন, তারা যখন জনগণের কাছের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও নিজেদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ না করে আগামী দিনের রাজনৈতিক সরকারের জন্য একটা খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করলেন। আগামীর মন্ত্রী-আমলাদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ না করার একটা উছিলা তৈরির সুযোগ করে দিয়ে গেলেন, যা আরও হতাশাজনক।












Discussion about this post