ভোটের আগে বাংলাদেশের খেলা কি ঘুরে গেল? যে ইনকিলাব মঞ্চকে তৈরি করা হয়েছিল ভারতবিরোধিতার হাওয়া জোরদার করতে। আজ তাঁদের সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে। সেই সঙ্গে চাপ বাড়ছে জামায়তে ইসলামীরও। বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের মাত্র দিন কয়েক আগেই ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান ওসমান হাদির হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে গিয়েছিল দলের সদস্য-সমর্থকরা। তাঁরা ক্রমশ চাপ বৃদ্ধি করছিল অন্তর্বর্তী সরকারের উপর। সেই চাপের মুখে এবার কার্যত নতিস্বীকার করল ইউনূসের সরকার। এবার হাদিহত্যার তদন্তে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দ্বারস্থ হল ইউনুস প্রশাসন। রবিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই খবর জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আচমকা কিভাবে খেলা ঘুরে গেল এভাবে?
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আরও জানিয়েছে, শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে আসা শরিফ ওসমান বিন হাদি পরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চ গড়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানা এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে দিনেদুপুরে তাঁকে গুলিতে ঝাঁজরা করে দেয় দুষ্কৃতিরা। এরপর ঢাকার হাসপাতাল এবং সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। অবশেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই বাংলাদেশ জুড়ে তুমুল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। আক্রান্ত হয়েছিল ভারতীয় হাইকমিশন ও উপ হাইকমিশন। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে, ওসমান হাদি ছিলেন প্রবল ভারত বিদ্বেষী। তিনি নানা বক্তৃতায় ভারতকে তুলোধনা করতেন। ফলে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং পরে তাঁর মৃত্যুর জন্য ভারতের দিকেই আঙুল তুলে দেয় বাংলাদেশ প্রশাসনের একটা অংশ। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই ক্ষিপ্ত হয়েছে হাদির সমর্থকরা। তাঁরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, মূল অপরাধীরা কেন ধরা পড়ছে না। ওসমান হাদির দাদা তো সরাসরি তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য ইউনূস সরকারকে দায়ী করে বসেন। হাদির স্ত্রীও একই দাবি করেন। এরপরই খেলা ঘুরে যায়।
ওয়াকিবহাল মহলের একটা অংশের মতে, বাংলাদেশে আসল খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছে ভারত। একমাস আগেও যেখানে প্রবল ভারতবিরোধিতার হাওয়া ছিল, আজ তা কার্যত নেই বললেই চলে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ভোট প্রচারের মঞ্চ, সবেতেই ভারতবিরোধিতা ছিল মুখ্য ভূমিকায়। কিন্তু আচমকা তা বন্ধ হয়ে যায়। উল্টে ইউনূস সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হতে শুরু করেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সে দেশের বুদ্ধিজীবীদের একটা বড় অংশ। এরপরই বিএনপি নেতা তারেকের দেশে ফেরা এবং তাঁকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা হাদির ঘটনা কার্যত ধামাচাপা পড়ে যায়। ঠিক ভোটের আগেই ফের হাদি হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলনের পিছনে কার ইঙ্গিত কাজ করছে সেটা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কেউ কেউ দাবি করছেন, এর পিছনেও নাকি রয়েছে ভারতের সুক্ষ্ণ চাল। ইউনূস প্রশাসনকে চাপে ফেলতেই পাল্টা চাল চেলেছেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। হাদি হত্যার বিচার যদি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংগঠনের ছত্রছায়ায় হয়, তাহলে বিপদটা ঠিক কার হবে সেটা না বলে দিলেও চলবে। তাহলে কী পাল্টা চালে মাত হয়ে গেলেন মুহাম্মদ ইউনূস?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post