সরকার যদি অবৈধ হয়, সরকার প্রধান পদে আসীন যদি অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখেন, তাঁর যে বিন্দুমাত্র আত্মসম্মান বোধ থাকে না, তাঁর বড়ো প্রমাণ মুহাম্মদ ইউনূস। ২৪-য়ের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তিনি ক্ষমতায় আসীন হন। তার পর থেকে তিনি একাধিক পদক্ষেপ করেছেন। আর প্রতিটি পদক্ষেপ তাঁকে প্রশ্নচিহ্নের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারি কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের সামনে আয়োজন করা হয় এই বিক্ষোভ কর্মসূচির। সমাবেশে বক্তরা বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে সাততাড়াতাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র বিশ্বমানের টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে কনসেসন চুক্তিতে লিজ দেওয়া সিদ্ধান্ত দেশীয় স্বার্থ বিরোধী ও আত্মঘাতী। তাদের অভিযোগ, বন্দরের শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমন করতে শ্রমিক নেতাদের বদলি ও প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কর্মসূচি শুরু হয় গত শনিবার ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। ওই দিন থেকে দৈনিক আট ঘণ্টা ও পরে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দেয় আন্দোলনরত শ্রমিক কর্মচারী জোট ও সংগঠন সমূহ। তাদের আরও দাবি, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. সাখাওয়াত হোসেনের অবিলম্বে পদত্যাগ।
অনির্দিষ্টকাল ব্যাপী চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণা করে ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গল বিকেলে বন্দর ভবনের কাছে ডাক দেওয়া হয় এক বিক্ষোভ সমাবেশে এবং প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য় রাখেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তবাদী শ্রমিক দলের মো. হুমায়ুন কবির। প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্য তাঁর বার্তা “ একজন অথর্ব, বিকলাঙ্গ মানুষকে আপনি বিডার চেয়ারম্যান বানিয়ে রেখেছেন। আপনি যাকে দিয়েছেন, সে একটা কমিশন খোর। সে ছয়শো কোটি টাকা কমিশন খাওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরকে, বন্দরের এনসিটিকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে চায়। আমরা তাঁর স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করব। ” তিনি আরও বলেন, পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আমরা কর্মসূচি শিথিল করার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) ঢাকায় বিডা কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেগোসিয়েশন কমিটিকে চাপ দিতে উপস্থিত হয়েছেন। এত দিন কনটেইনারপ্রতি দর নিয়ে আলোচনা চলছিল। এখন রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটি হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বন্দর লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”
শ্রমিক কর্মচারি জোট স্কপের নেতা ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক সাবেক বন্দর সিবিএ নেতা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের হৃৎপিণ্ড নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারায় ছেড়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হলে চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি আরও তীব্র হবে। শ্রমিক কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দাঁড়াবে। আমাদের প্রশ্ন- ফ্যাসিবাদী পতিত পলাতক হাসিনা আমলে নেওয়া জাতীয় স্বার্থবিরোধী বন্দর-ইজারার সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেন, কোন স্বার্থে, কাদের বাস্তবায়নের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে?
তদারকি সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। গত নভেম্বরে চট্টগ্রামের ১০ বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় সম্পদ। তাই বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তা জাতির সামনে খোলাসা করা উচিত। এর আগে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত জনরোষের মুখে প্রত্যাহার করতে হয়েছিল। বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, আইএফসির ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজরি প্রতিবেদনে প্রস্তাব জমা থেকে চুক্তি সম্পন্নের পুরো প্রক্রিয়ায় ৬২ দিনের সময়সীমা ধরা হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘অস্বাভাবিক দ্রুততায়’ মাত্র দুই সপ্তাহে চুক্তি চূড়ান্ত করে। এতে জনমনে সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।












Discussion about this post