হাতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের দিকে সব পক্ষ। এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহল। যদিও একাধিক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, তদারকি সরকার প্রধান ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার হাতে অস্ত্র মূলত দুটি। এক যেভাবেই হোক নির্বাচল বানচাল হয়ে যাওয়া। সেটা শেষ মুহূর্তে হলেও হতে পারে। দ্বিতীয় কৌশল ক্ষমতায় এমন একটি রাজনৈতিকদলকে আসীন করা যে দল আদতে তাঁর হুকুমে চলবে। তিনি ক্ষমতা না থেকেও আরও প্রবলভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও এই নির্বাচন নিয়ে উৎকণ্ঠার শেষ নেই। তাদের আশঙ্কা শেষ মুহূর্তে নির্বাচন যে কোনও উপায়ে বাতিল হয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে জনতার মনে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের আতঙ্ক জামাত আর এনসিপিকে নিয়ে। জনগণ মনে করছে, এই দুটি দলকে ক্ষমতায় বসাতে তদারকি সরকার প্রধান সব আয়োজন করে ফেলেছেন। তাতে চিরতরে হারিয়ে যাবে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ।
১২ ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য দৃশ্যপট কয়েকটি রূপরেখায় দেখা যাচ্ছে। তদারকি সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের আশা, এবার ভোট পড়বে ৫৫ শতাংশের বেশি। সময়মতো ভোট আর টার্ন আউট ৫৫ শতাংশের বেশি হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে জামাত আর এনসিপি – এই দুই দল মিলে ক্ষমতায় আসীন হতে চলেছে। সরকার ভোট পর্ব মিটে যাওয়ার পর জোরের সঙ্গে বলবে জয়ী হল স্থিতিশীলতা। প্রশ্ন হচ্ছে তবে কি ভোটের দিন বাংলাদেশ পুরোপুরি শান্ত থাকবে? কোনও প্রান্ত থেকে কি হিংসাত্মক ঘটনার খবর আসবে না? নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের ধারণা, নির্বাচনের দিন এই ধরনের ঘটনা ঘটবে না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তদারকি সরকার পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে কতটা দায়িত্ব পালন করতে দেবে, তার ওপর সব কিছু নির্ভর করছে। সহিংসতার অভিযোগে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটদান স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থেকে প্রবলতর। তৃতীয়টি হল, শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আংশিক স্থগিত রাখা। এটার কারণ, সময় নেওয়া। পরিস্থিতিকে সরকার নিজেদের অনুকূলে রাখার চেষ্টা চালাতে ভোট আংশিকভাবে স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করতে পারে। ভোটপূর্ব বয়ানকে টিকিয়ে রেখে পরে পছন্দসই সংখ্যায় নামিয়ে আনা। চতুর্থত, প্রকৃত অংশগ্রহণ কম হলেও প্রশাসনিকস্তরে জেলা থেকে কেন্দ্র ভোটের হার বাড়িয়ে নেওয়ার একটা চেষ্টা চালাবে তদারকি সরকার। রাজনৈতিকমহলের একাংশ তেমনই আশঙ্কা করছে।
বাংলাদেশের প্রাক নির্বাচনী পরিস্থিতির দিকে তাকালে একটি জিনিস কিন্তু বেশ পরিষ্কার। সরকারের তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হল ভোটের হার কী হতে পারে। সরকার এতটা নিশ্চিত হচ্ছে কী করে যে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের হার হবে ৫৫ শতাংশ? আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটা একটি পরিসংখ্যা বা প্রত্যাশা। কিন্তু তলিয়ে ভাবলে দেখা যাবে, এর পিছনে রয়েছে এক গভীর মনস্তাত্তিক খেলা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনার সবার মুখে একই বুলি। যে কোনও এক অদৃশ্য চিত্রনাট্য মেনে তারা ভোটের হার আগে থেকেই নির্ধারিত করে দিলেন। তারা জনগণ আর বিদেশ রাষ্ট্রের মনে আগে থেকেই গেঁথে দিতে চাইছেন। রাজনীতিতে একেই বলা হয় ব্যান্ড ওয়াগন এফেক্ট। মানুষের অবচেতন মনকে এমনভাবে প্রস্তুত করা যাতে নির্বাচনের দিন বা তার পরে এই সংখ্যাটা শুনে যেন কেউ চমকে না ওঠে। সরকার খুব ন্যারেটিভ বিল্ডিং বা বয়ান তৈরির কাজটি করেছে। যাতে ভোটর পর মানুষ এই সংখ্যাটা শুনলে বলবে এটাই হওয়ার ছিল। এর মানে কি ভোটের দিন উপস্থিত ভোটারের সংখ্যা আগে থেকেই ছকে ফেলা হয়েছে।












Discussion about this post