আগামীকাল বাংলাদেশে নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। কে আসবে সরকারে এই প্রশ্নটা এখন সকলের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে, দিল্লিও যথেষ্ট নজর রাখছে। তার অনেকগুলো যথেষ্ট কারণও রয়েছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থাকছে না। কারণ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের শক্ত ঘাটি। নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে অনেক বছর পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার আসতে চলেছে যেখানে আওয়ামী লীগ নেই। নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া করতে পারে দিল্লির সরকারকে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা দিল্লিতে রয়েছে। ভারতের তরফ থেকে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি রাজনীতিতে। পাশাপাশি, বিএনপির এখন তারেক রহমান মুখ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একক ক্ষমতায় সরকার গড়তে পারবে কিনা সেই প্রশ্নটাও ঘোরাফেরা করছে। জামায়েত ইসলামী সরকারে অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা, সেদিকেও ভারত যথেষ্ট নজর রাখছে। তৃতীয়ত, জামায়াত ইসলামী নতুন সরকার থাকুক বা বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকুক তারা নতুন জাতীয় সংসদে তারা যে খুবই প্রভাবশালী সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এর আগে ২০০১- ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একটি বিনপি-জামাত কোয়ালিশন সরকার ঢাকায় ক্ষমতায় ছিল। সেই অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর না। ভারত- বাংলাদেশের পরিচিত মুখ হিসেবে ছিল শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই শেখ হাসিনা এখন আর বাংলাদেশে নেই। অন্যদিকে, ভারত যে ইতিমধ্যেই জামায়াতের সহ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে সেটা দিল্লির তরফ থেকে আভাস পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু এখন দিল্লির দুশ্চিন্তা, উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান ঠিক কী হয়। দিল্লির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় যেখানে ভারত কোনও ভাবেই আপস করবে না। কিছু কিছু বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এর আগে তিনটি নির্বাচনে ভারত যথেষ্ট চিন্তিত ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ভারত বেশী নাক গলায়নি। কারণ ভারত গোটা প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুথ্থানে ভারতবিরোধী মাত্রা ছিল., শেখ হাসিনার পাশাপাশি, দিল্লিতেও উঠেছিল স্লোগান। এমনকি টানা দেড় বছর ধরে ভারত বাংলাদেশে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যখন সেই নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেল না–ভারত কিন্তু তার রুটিন প্রতিবাদও করেনি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে থাকছে না, তাই ভারত বিএনপির ওপর বেশী ভরসা রাখছে। অন্যদিকে, বিএনপির নেতৃত্বরা তারা এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বদের সঙ্গে ভালো মতোন ব্যবহার করছে। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে জায়গা দেয় কিনা সেটা তো সময় বলবে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরবর্তী সরকারের রুপরেখার ওপর। সাবেক ভারতীয় কূটনীতিবিদ সৌমেন রায় বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে ইন্ডিয়া এখন একটা গ্লোবাল পাওয়ার। ইট’স ফোর্থ লার্জেস্ট ইকোনমি, খুব শিগগিরি আমরা থার্ড লার্জেস্ট হয়ে যাব, চায়নার পরেই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ফলাফলের দিকে তাকিয়ে সকলে।












Discussion about this post