সম্প্রতি তারেক রহমানের রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকার নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সেখানে দুটি বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। তিনি জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠন করবেন কিনা। আর একটি বিষয় হল, আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর ভাবনা কি। এবার ভোটের একদিন আগে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। এখানে তাঁকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। জামায়েত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি যেমন নেতিবাচক উত্তর দেন। অর্থাৎ সেটা জামায়েতের বিপক্ষে যাচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক উত্তর দেন। ভোটের আগে আসলে কি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন তারেক রহমান? চলুন বোঝার চেষ্টা করি।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই নির্বাচনের বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। একদিকে তিনি যেমন ওই সাক্ষাৎকারে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলেছেন, পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম, খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেছেন। এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যদি জয়লাভ করে,তবে বিএনপিকে আহ্বান করবে সরকারের অংশগ্রহণ করার জন্য। এবং তারা জাতীয় সরকার গঠন করবে। এক্ষেত্রে আপনার কী মতামত থাকবে? আপনি জিতলে বা সরকার গঠন করতে চাইলে, আপনি কি আহ্বান করবেন জামায়েতে ইসলামীকে? তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান, আমি আত্মবিশ্বাসী, একক জিতব এবং একক সরকার গঠন করব।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ১৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরেছেন। সেক্ষেত্রে দল গোছানোর ক্ষেত্রে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ কি ছিল? সেখানে তারেক রহমান জবাব দেন, তিনি দেশে ফিরেছেন। পাঁচ দিনের মাথায় তাঁর মা মারা গিয়েছে। রাজনীতিতে সময় দেওয়ায় ওই শোকের মধ্যে আমি থাকতে পারিনি। এটাই চ্যালেঞ্জ ছিল।
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনারা ক্ষমতায় এলে কে সেই নিষিদ্ধিকরণ তুলে নেবেন? তিনি বলেন, যেটা হয়েছে সেটা রাজনৈতিক কারণে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু আমরা সরকার গঠন করলে, আমরা বিশ্বাস করি, কাউকে গ্রহণ করা বা বর্জন করার ক্ষমতা একমাত্র জনগণের। জনগণ যাকে গ্রহণ করবে, তিনি থাকবেন। জনগণ যাকে বর্জন করবে, তিনি থাকবেন না। এটা জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু কাউকে নিজে থেকে নির্বাহী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে পারি না। অর্থাৎ তারিক রহমান কিছুদিন আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের যে বক্তব্য রেখেছিলেন, সেই বক্তব্যই তিনি রাখলেন ডয়চে ভেলেতে। আমরা নির্বাহী আদেশে কিছু করব না। যদি তারা গ্রহণ করে, তবে তারা অবশ্যই গ্রহণীয় হবে। অর্থাৎ বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগের উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। এমনকি আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ভারত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ, ক্ষমতায় এলে এক্ষেত্রে কি হবে? ভারতের দিকে ঝুঁকবেন নাকি চীনের দিকে? তিনি স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশের স্বার্থে আমার যার সঙ্গে সম্পর্ক করা উচিত, তার সঙ্গে আমি সম্পর্ক তৈরি করব। তবে সবার আগে দেশের স্বার্থ আগে ভাববো। অন্যদিকে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলা হলে, তিনি বলেন, আমি একাই সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী। নারী ও সংখ্যালঘুদের নিয়োগ প্রশ্ন করা হয় তারেক রহমানকে। তিনি বলেন, সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। যেগুলি আমাদের পক্ষ থেকে করা হয়নি। অন্য একটি দলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এছাড়াও তার কথায় স্পষ্ট হয়, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার নিশ্চিত করতে পারবে তারা। এখন দেখার, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আদেও তারেক রহমান এই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেন কিনা!












Discussion about this post