“আপনি কি বাংলাদেশের নাগরিক? আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কি আপনার ভোট দেওয়ার কথা? আপনি কি এখনও আপনার নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। চিন্তা করতে হবে না। আপনার হয়ে কোনও দলের কোনও নেতা-কর্মী তাঁর পছন্দের দলের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে দেবে। আপনাকে কষ্ট করে বুথে যেতে হবে না।”
এটা “নিউজ বর্তমান”-য়ের দাবি নয়। “নিউজ বর্তমান” এই ধরনের দাবি করতে পারেও না। এই দাবি বা অভিযোগ, যাই বলা হোক না কেন, সেটা বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমের। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তখন বাংলাদেশের ঘড়িতে বাজে আড়াইটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। “ নিউজ বর্তমান” অবশ্য সেই সব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। কোনও কোনও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে হরির লুটের বাতাসার মতো দেদার চলছে ছাপ্পা। বুথকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার হা করে দেখছে। বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, যে কেন্দ্রে যে দলের ভিত মজবুত সেই কেন্দ্রে বিরোধী দলের এজেন্টদের ঘাঁড় ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোটে যে কারচুপি হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল অনেকেই। কিন্তু রাত থেকেই যে ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু হয়ে যাবে, সেটা অনেকে বুঝতে পারেনি। রাতে হয়েছে টাকার খেলা। ৫০ লক্ষ টাকা সহ সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জেলা জামায়াতের এক আমিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম বেলাল উদ্দিন।
২০১৮ সালের নির্বাচন পরাজিত দল প্রথম থেকেই বলে এসেছিল, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। ব্যারিস্টার কামাল হোসেন বা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরা ওই বছর দিনে কিছু না বললেও রাতে মুখ খোলেন। অভিযোগ করেন, ভোটে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ওই বছরের ভোটকে রাতের ভোট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল দিনের আলো ফোটার আগেই রাতে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলা হয়। অভিযোগের নিশানায় ছিল আওয়ামী লীগ। বিবিসির এক সাংবাদিক দাবি করেছিলেন যে তিনি ভোটের আগের রাতে চট্টগ্রাম থেকে ব্যালট বাক্স তুলে নিয়ে যেতে দেখেন। ইউনুস বিবিসির সাংবাদিকে পুরষ্কৃত করেন। ঝিনাইদহে এজেন্টের সই করা রেজাল্ট শিট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনা কালীগঞ্জের ছলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রের। দাড়িপাল্লা ও ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টের সই করা ২৩টি রেজাল্ট শিট বাজেয়াপ্ত করেছেন রিটার্নিং অফিসার। বুধবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ রিটার্নিং অফিসার শিটগুলি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে প্রিসাইডিং অফিসারকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এই ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিজিবি, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং অফিসার। রাতেই কালীগঞ্জ উপজেলার ছলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের এক পোলিং এজেন্ট। সে সময় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জেসমিন আরা ফাঁকা ২৩ রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এরপর দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের এক এজেন্ট এসে সাতটি রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করেন।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রাজা বলেন, “সাধারণত নিয়ম আছে, ভোট গণনার শেষে এজেন্টরা রেজাল্ট শিটে সাক্ষর করবেন। কিন্তু প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আগে থেকে সেটি করিয়ে নিয়েছেন। যা ঠিক নয়।” এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রিসাইডিং অফিসার জেসমিন আরা বলেন, ‘অনেক সময় ভোট গণনা শেষে অনেক এজেন্টকে পাওয়া যায় না; যে কারণে প্রথমে ধানের শীষের একজন এজেন্ট এলে তাঁকে দিয়ে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে জামায়াতের এক এজেন্ট এলে সে ৭টি শিটে স্বাক্ষর করেন। ফলাফল ঘোষণার পর এটি স্বাক্ষর করা উচিত ছিল। কিন্তু আগেই করিয়ে নেওয়া আমার ভুল ছিল।’
আর ইউনিস কী বলছেন। এদিন ইউনূস ভোট দিয়ে বেরিয়ে বলেন, আজ থেকে আমরা প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করার সুযোগ পেলাম। আজকে জন্মদিন পালন করি আমরা সারাদিনব্যাপী। সবাই উৎসব করি এবং নিশ্চিতভাবে গণভোট দেবেন। প্রার্থীদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, গণভোটে অংশ নেওয়ার জন্য যাতে করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারি। আমাদের দুঃস্বপ্নের অবসান, নতুন স্বপ্নের শুরু। সবাইকে মুবারক জানাচ্ছি। ইদ মুবারক।”
নির্বাচন নিয়ে তদারকি সরকার প্রধান বলেছিলেন, ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে। ভোট হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। সুষ্ঠুভাবেই যা হয়েছে, সেটা হল কারচুপি। একবারে সুনিপুনভাবে। অনেকে তো বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাম রাজত্বে হওয়া রিগিং এর কাছে লজ্জা পাবে।












Discussion about this post