ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তারা সরকার গঠন করতে চলেছে। বিরাট কোনও অঘটন না ঘটলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। আর বিরোধী আসনে বসতে চলেছে জামায়াত। তারা কারে বিরোধী দলনেতা করে সংসদে পাঠাবে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। বিএনপির এই ফলাফলে খুশি দলের প্রবীণ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, “বাংলাদেশের মানুষ জানে নির্বাচন হয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক। আওয়াম লীগের কথা যদি তোলেন, তাহলে বলব ২০২৪ সালের অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশে বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন হয়েছে সুষ্ঠভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে। এই রকম একটি ভোটের জন্য সারা বিশ্ব অপেক্ষা করছিল। শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত থাকবে।”
তাঁর এই বিবৃতির উল্লেখ করার কারণ দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলেও তারা কি তাদের মতো করে সরকার চালাতে পারবে? সেই প্রশ্ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি প্রশ্ন। এই নির্বাচন নিয়ে একটা আশঙ্কা ঘনীভূত হয়েছিল। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, তদারকি সরকার প্রধান নির্বাচনের কথা জানালেও শেষ মুহূর্তে নির্বাচন হয় তিনি বাতিল করে দেবেন। না হলে তিনি নির্বাচন কমিশনকে বলবেন নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করতে। আশঙ্কা ছিল আরও একটা। বিশেষ একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বানচাল করার জন্য রীতিমতো সক্রিয় ছিল। তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। তবে একটি মহল কিন্তু এখনও ইউনূসের পক্ষে। তাদের প্রশ্ন – যারা বলেছিলেন তদারকি সরকার নির্বাচনের পথে যাবে না, তাঁরা এখন কী বলবেন? নির্বাচন তো হয়েছে। পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বলা না গেলেও নির্বাচনে মারাত্মক হিংসা হয়েছে – এ কথা কোনওভাবেই বলা যাবে না।
তবে নির্বাচন শেষ হলেও মুহাম্মদ ইউনূসের খেলা কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তারা একটি শক্তিশালী সরকার গড়তে চলেছে। যদিও বিএনপি নিজের মতো করে কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একটি গণমাধ্যমের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। অর্থাৎ জালিয়াতি। আর সেটা করা হয়েছে না না কৌশলে। তারপরেও বলতে হয়, বিএনপি যে আসনগুলি পেয়েছে, সেগুলি তাদের প্রাপ্য ছিল। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে বিএনপি আরও বেশি আসন পেতে পারত। সংখ্যাটা ২৭০ থেকে ২৮০ হতে পারত। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ১৪.৯৬% । পরে সেটা বেড়ে হয় ৩২.৪৮ %। ভোট শেষ হওয়ার পরে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো উচিত ছিল কত শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু কমিশনের তরফে কিছুই বলা হয়নি। প্রশ্ন এখানেই। সেই সঙ্গে রহস্য। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে, সন্ধে গড়িয়ে রাত, রাত গড়িয়ে মধ্যরাত, ভোর। এই সময়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও কিছু বলা হয়েছে। মোট কত শতাংশ ভোট পড়েছে, সেটা ওই দিন কমিশন কিছু জানাতে পারেনি। কমিশন জানাল পরের দিন ভোরে। কমিশন থেকে বলা হল ভোট পড়েছে ৬০. ৬৯ % । সরকার কিন্তু আগেই জানিয়ে রেখেছিল ভোটের কেমন হতে পারে। তবে কি সেটা দেখাতেই ভোটের শতাংশের হিসেব জানাতে নির্বাচন কমিশন দেরি করছিল? পরারাষ্ট্র উপদেষ্টার কথাই ধরা যাক। তিনি বলেছিলেন ৫৫ শতাংশ ভোট হতে পারে। একটা ভোট হওয়ার আগেই কি করে সরকারের একজন প্রতিনিধি কী করে আগাম জানিয়ে দিতে পারেন, ভোটের হার কেমন হবে? তিনি খুব বেশি হলে বলতে পারেন ভোট ভালই হবে বলে তিনি মনে করছেন বা আশা করছে। আরও বড়ো কথা। জুলাই সনদ নিয়ে কিন্তু হ্যাঁ ভোটের পক্ষেই মত পড়েছে। এই “হ্যাঁ” ভোট বিএনপি সরকারের বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহল।












Discussion about this post