বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় রাজনীতির ফলাফল সরকারিভাবে এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিএনপি যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অপর দিকে জামায়াত, এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুসারে, ৭৭টি আসন পেতে চলেছে। তারাই জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। এখন যে প্রশ্নটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হল আওয়ামী লীগের প্রতি বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গী কেমন হবে? মসৃণ হবে বলে মনে করছে না বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল। দলের বর্যীয়ান নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারা আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইবেন। সালাহউদ্দিনের কথায়, “ আমাদের বিদেশমন্ত্রী হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছেন। আমরাও তা সমর্থন করি। আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের দাবি আমরা সবসময়ে জানিয়ে এসেছি। এটা দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রকের ব্যাপার। আমরাও হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছিলাম। ”
২০২৪-য়ের ৫ অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের চাপে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ান হাসিনা। তারপর থেকে তিনি দিল্লিতেই রয়েছেন। একাধিকবার মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে বিদেশ মন্ত্রকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু দিল্লি সেই সব চিঠির জবাব দেয়নি। জুলাই গণহত্যার মামলায় বাংলাদেশের আদালতে হাসিনা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারত এবং বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। তবে প্রত্যর্পণের দাবিকেই সমর্থন করে বিএনপি।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিকের হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বিএনপির এই বর্যীয়ান নেতাকে প্রশ্ন করেন। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ আমাদের বিদেশমন্ত্রী হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছেন। আমরাও তা সমর্থন করি। আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের দাবি আমরা সবসময়ে জানিয়ে এসেছি। এটা দুই দেশে বিদেশ মন্ত্রকের ব্যাপার। আমরাও হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারেক অনুরোধ করেছিলাম। ”প্রবীণ এই বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, তাঁর দল ভারত সহ সব প্রতিবেশী দলের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্যের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আওয়ামী লীগ না থাকায় অনেকেই এই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রবীণ বিএনপি নেতা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ জানে নির্বাচন হয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক। আওয়াম লীগের কথা যদি তোলেন, তাহলে বলব ২০২৪ সালের অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ” তাঁর কথায়, “বাংলাদেশে বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন হয়েছে সুষ্ঠভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে। এই রকম একটি ভোটের জন্য সারা বিশ্ব অপেক্ষা করছিল। শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত থাকবে। এ দেশের সব রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংবিধানের কাঙ্খিত গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে। আমাদের যে ৩১ দফা দাবি ছিল, তার মধ্যে এই বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার ভিত্তিতে আমরা ইস্তেহার তৈরি করা হয়।”
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ সই হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। আমরা আশা করছি বাংলাদেশের এই জাতীয় সংসদ স্বাধীনতার পরে সবচাইতে বেশি আইন প্রণয়নকারী জাতীয় সংসদ হবে এবং সংবিধান সংশোধন করবে। জন-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে আমাদের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী, প্রত্যাশা অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এই দেশকে মেধানির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জ্ঞাননির্ভর রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।












Discussion about this post