বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিকের হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বিএনপির বর্যীয়ান নেতা সালাউদ্দিন আহমেদকে প্রশ্ন করেন। জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, “ আমাদের বিদেশমন্ত্রী হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছেন। আমরাও তা সমর্থন করি। আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের দাবি আমরা সবসময়ে জানিয়ে এসেছি। এটা দুই দেশে বিদেশ মন্ত্রকের ব্যাপার। আমরাও হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারেক অনুরোধ করেছিলাম। ”প্রবীণ এই বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, তাঁর দল ভারত সহ সব প্রতিবেশী দলের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্যের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন।”
হাসিনাকে ফেরাতে হবে না। হাসিনা নিজেই ফিরবেন। সেটা বলছে বাংলাদেশের ইতিহাস। যদিও কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপি জয় পাওয়ায় হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি বেশ কঠিন হয়ে গেল। আওয়ামী লীগ এখন তাদের যে কোনও উপায়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। আওয়ামী লীগের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে। দলের প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নৌফেল। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আওয়ামী লীগকে ছাড়া যেসব নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই সব সরকার কতদিন টিকে ছিল, তা সকলের জানা। সেই সব সরকারের স্থায়ীত্ব আমরা দেখেছি। আমরা জেনারেল জিয়ার সরকার দেখেছি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হয়েছিল। সেই সরকার বেশিদিন স্থায়ী ছিল না। ১৯৮৮ আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট করে। সেই বছর সরকার টিকেছিল মাত্র দুবছর। আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন করে কোনও সরকার আদৌ স্থায়ীত্ব পাবে কি না, সেটাই বড়ো প্রশ্ন। এটা কিন্তু ইতিহাস আমাদের পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে। ”
দলের এই বর্ষীয়ান নেতার মতে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়া কোনও দল বেশিদিন সরকারে টিকে থাকতে পারে না। এই প্রসঙ্গে তিনি হাসিনার ভোট বয়কট প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। ব্যারিস্টার বলেন, “হাসিনা আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। আর তার ফল কী হল, সেটা দেখা গেল। ভোটার জোগাড় করতে বাজারে পুলিশকে মাইকিং করতে হয়েছে। মসজিদ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু ভোটার জোগাড় করতে হিমসিম খেতে হয়েছে।”
প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতার মতে, “শহরে, বিশেষ করে যে সব কেন্দ্রে বিদেশ পর্যবেক্ষক, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ছিল সেখানে কারচুপি করা যায়নি। কিন্তু মফঃস্বলে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। জোর করে আওয়ামী লীগের ভোটারদের বুথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে বিরুদ্ধ শক্তিকে।” এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তদরকি সরকারের এক উপদেষ্টার কথা বলেন, যিনি আগে থেকেই ভোট শতাংশের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন।
এদিকে, হাসিনা শুক্রবার এক বিবৃতিতে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে এক পরিকল্পিত প্রতারণা, প্রহসনের নির্বাচন, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় হয়ে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। এটা জনমতের নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল সংখ্যার কারসাজির ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রশাসনিক জালিয়াতির মহড়া। ” বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, “ এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল সাড়ে সাতটায়, চলে বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত। এই নির্বাচনে ভয়াবহ কারচুপি ও নির্বাচন কমিশনের ধাপে ধাপে প্রকাশিত ভোটের শতাংশেও গুরুতর অসংগতি ও অবাস্তব চিত্র দেখা যায়। ”
এই প্রসঙ্গে হাসিনা নির্বাচন কমিশনের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। আওয়ামী সুপ্রিমো বলেন, প্রথম ব্রিফিং অনুযায়ী সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৪.৯৬ % । গড় হিসেবে প্রতি মিনিটে ভোট পড়েছে ৯০, ৯৭৯টি ভোট। পরের ব্রিফিংয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ভোটের হার জানানো হয় ৩২.৮৮ % । অর্থাৎ অর্থাৎ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোট কাস্ট হয়েছে ১৭.৯২ শতাংশ বা ২,২৮,৮০,৩৫০ জন। প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ৩,৮১,৩৩৯টি ভোট কাস্ট হয়েছে। প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টার গড়ের তুলনায় এই হার কয়েক গুণ বেশি, যা অস্বাভাবিক।












Discussion about this post