বাংলাদেশে শেষ হয়ে গেল নির্বাচন। বিএনপি সরকার গঠন করতে চলেছে। তারা পেয়েছে দুশোর বেশি আসন। দ্বিতীয়স্থানে জামাত। তারা সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। এই নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করছে। প্রথম প্রশ্ন, তদারকি সরকার নির্বাচন নিয়ে যে আশ্বাস দেশবাসীকে দিয়েছিলেন, অর্থাৎ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হবে, ভোটে কি তাঁর প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। ভোটে দেদার ছাপ্পার পাশাপাশি ব্যালটবাক্স লুঠ হয়েছে। হয়েছে বোমাবাজি। শোনা গিয়েছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। বুথের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, তদারকি সরকার প্রধান দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ভোট হবে অবাধ ও সুষ্ঠ। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ছাপ্পা ভোট হয়েছে। হাসিনা এই ভোট নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের প্রথম ব্রিফিং অনুযায়ী সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৪.৯৬ % । গড় হিসেবে প্রতি মিনিটে ভোট পড়েছে ৯০, ৯৭৯টি ভোট। পরের ব্রিফিংয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ভোটের হার জানানো হয় ৩২.৮৮ % । অর্থাৎ অর্থাৎ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোট কাস্ট হয়েছে ১৭.৯২ শতাংশ বা ২,২৮,৮০,৩৫০ জন। প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ৩,৮১,৩৩৯টি ভোট কাস্ট হয়েছে। প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টার গড়ের তুলনায় এই হার কয়েক গুণ বেশি, যা অস্বাভাবিক।”
ভোটের আগে তো বটেই ভোটের দিনও সেনা প্রধান দেশবাসীকে নির্ভয়ে তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগের আর্জি জানান। আর ভোট পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পর্বে আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোনও অবনতি না হয়, তার জন্য কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন। ভোটের দিন দেখা গেল ঠিক উল্টো। ভোট লুঠ থেকে শুরু করে অস্ত্রের ঝনঝনানি – কিছুই বাদ যায় নি। ভোট পরবর্তী হিংসায় এখনও পর্যন্ত তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। চাপাইনবাবগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে ককটেল বোমা বিস্ফোরণে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনায় আরও তিনজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানকার বাসিন্দা জনৈক কালামের বাড়ি লক্ষ্য করে কে বা কারা বোমাবাজি করে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। ধসে গিয়েছে বাড়ির দেওয়াল। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন সদর থানার ওসি নূর আলম। নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। ভোট চলাকালীন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর ১২টার দিকে পর পর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। আরও কয়েকটি জায়গা থেকে হামলার খবর এসেছে। তাই, ভোটে হিংসাত্মক ঘটনা রুখতে পুলিশ প্রশাসন যেমন ব্যর্থ, ব্যর্থ সেনাবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে একটি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, দিল্লিতে থাকা শেখ হাসিনাকে ফোন করে সেনাপ্রধান ওয়াকার। দাবি করা হয়, সেনাপ্রধানের পরপর তিনবার ফোন করেছিলেন। প্রথম দুবার হাসিনা ফোন ধরেননি। তৃতীয়বার তাঁর মুঠোফোন বেজে উঠলে বঙ্গবন্ধু কন্যা ফোনটি ধরেন। ফোনে হাসিনা ওয়াকারকে রীতিমতো ধমক দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে দাবি করা হয়। আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় হাসিনা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তার ওপর সেনাপ্রধান ওয়াকারের ভূমিকায় তাঁর ক্ষোভ অনেকটাই বেড়েছে। এই হাসিনাই কিন্তু ওয়াকারকে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ করেন। অভিযোগ, সেনাপ্রধান পদের দাবিদার আরও অনেকে ছিলেন। কিন্তু ওয়াকার হাসিনার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি সেনাবাহিনীর চালকের আসনে ওয়াকারকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিদানে তিনি হাসিনার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, সেটা বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতির হাওয়া মোরগের ঝুঁটি ঘুরে যাওয়ায় সেনাপ্রধান ওয়াকার বিপদের গন্ধ পাচ্ছেন।
হাসিনা ক্ষমতায় এলে তিনি যে সেনাপ্রধানকে ছেড়ে দেবেন না সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। ফলে, বাঁচার রাস্তা এখন একটাই যে কোনও উপায়ে হাসিনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে নেওয়া। সে কারণে তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ফোন করেন। কিন্তু ফোনে তাঁকে শুনতে হয়েছে ধমক। হাসিনার প্রশ্ন ছিল – কী বলবা বল? তখন উনি আমত আমতা করে বলেন, “ আমি ভুল এবং শঙ্কার মধ্যে ছিলাম। কিছুটা আমার ভুল হয়েছে। কিছুটা আমায় করিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি যা করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আমি ক্ষমা প্রার্থী। ” হাসিনার প্রতিক্রিয়া ছিল, “ নানান লোকে নানান বিরূপ মতামত দেওয়ার পরেও তোমার প্রতি আস্থা রেখে আমি সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ করি। তার বদলে তুমি যা আমায় পুরস্কার দিয়েছ, তুমি আমার মুখের সামনে আসবে না। আমারে জীবনে মুখ দেখাইবা না। ” ওয়াকার সেখানকার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তুমি এখন যা বলছ সেটা আগে বললে বিশ্বাস করতাম। এখন সব জেনে গিয়েছি। আমাকে খুন করাই ছিল তোমার প্রধান উদ্দেশ্য। তুমি জামাতের হয়ে কাজ করছ। ”












Discussion about this post