বিএনপির জন্য ‘শাঁখের করাত’ আওয়ামী লীগ। আগামীদিনে আওয়ামী লীগ তাদের কাছে শাঁখের করাত হয়ে দেখা দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহলের একাংশ। তারেক রহমান বলেছে, তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবেন। এই বিষয়ে ডয়েচ ভ্যালির তরফ থেকে সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “না, আমার এখানে..এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই। আমার… আমি কোনওদিন রাজনীতি … সরাসরি রাজনীতি করতে চাইনি। ভবিষ্যতে কী হবে, আমি তো বলতে পারব না। তবে… দেশের রাজনীতিতে কে আসবে, এটা দলের কর্মীদের নির্ধারণ করতে হবে। যারা আমাদের সাপোর্টার, তাদেরই উদ্ধার করতে হবে। আমার… আমি তো তাদের বলে দিতে পারি না। আমি… আমার… আমি সারাজীবনই বিদেশে… আমি আমেরিকায় এখন ৩০ বছর.. ধরে আছি। এখানে আমি শান্তিতেই আছি। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা ভবিষ্যতে দেখা যাবে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভালো না।”
তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে, তাঁকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আর গ্রহণ করবে না, তাঁকে শক্তি দিয়েও ধরে রাখা যাবে না। তাঁর অবস্থান আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক। প্রত্যাশিতভাবেই নতুন সরকারের গতিবিধি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে দিল্লির যে নজর থাকবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক যাতে তিক্ত না হয়, তার জন্য জিয়ার অন্ত্যেষ্টিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ঢাকা পাঠিয়েছিল সাউথব্লক। অপরদিকে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে জিয়ার প্রতি শোকবার্তা লিখে আসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কূটনীতিকদের একাংশের মতে, তখন থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোতে শুরু করে। অপর দিকে, দলের প্রবীণ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ভারত সহ প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চান। তবে সেই সম্পর্ক হবে ভারসাম্যের।
ঢাকা ১৭ এবং বগুড়া ৬ এই দুটি কেন্দ্র থেকে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তারেক রহমান। দুটি আসনেই তিনি জয়ী হয়েছেন। তবে ঢাকা ১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান খুব কম। তারেক জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে তিনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষপাতি। তবে পুরোপুরিভাবে পুনর্বাসন দেওয়ার কথা বলেননি। মনে রাখা দরকার, কোনও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়নি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে তদারকি সরকার প্রধান। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দেওয়া হয়েছে এই স্থগিতাদেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেটি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। দলের অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনলে জিয়াউর রহমানের ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে। একই বক্তব্য তাদের সমমনোভাবাপন্ন দলগুলিরও। প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তো বলেই দিয়েছেন, জিয়ার মতো একই ভুল করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
এখানে ভারত একটি বড়ো ফ্যাক্টর। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন করতে গেলে, আওয়ামী লীগকে লাগবে। ভারত চায় তারেক রহমান আওয়ামী লীগকে জাতীয় রাজনীতি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব গ্রহণ করুক। দলেনত্রীকে সসম্মানে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা তার প্রধান দায়িত্ব এবং কর্তব্য হবে। কারণ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ছিল ভারতের সব থেকে বেশি নির্ভরযোগ্য মিত্র। ২০২৪-য়ের গণঅভ্যত্থানের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে চলে গিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। দিল্লি যখন নিশ্চিত হয়ে গেল যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও সুযোগ নেই, তখন তারা গোপনে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের বার্তা দেন বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার। কাজেই ভারত এখন এর প্রতিদান পেতে চাইবে।
তারেক নিজে একাধিকবার দাবি করেছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন। তবে কেই দোষ করে থাকলে আইন মেনেই তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে তাঁর সরকারের প্রধান দায়িত্ব এবং কর্তব্য। হাসিনার আমলে বিএনপিকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল বহু দীর্ঘদিন। তারেক কি সেই পথে হাঁটবেন।












Discussion about this post