সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন, কনক সরওয়ার, জুলকারনাইন সায়ের হোক বা অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ব্লগার, লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য। প্রত্যেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বাংলাদেশে জামায়াতের সরকার গঠন করে দেওয়ার। কিন্তু জনগণের রায়ে বিশাল জনমত নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসতে চলেছে বিএনপি। কিন্তু এত বড় নির্বাচন, নির্বাচনের ফলাফল দেখার পরও যদি আপনি ফেসবুক বা ইউটিউবে একটি পোল বা ভোটের ব্যবস্থা করেন, যে আপনি ক্ষমতায় কাকে দেখতে চান বিএনপি না জামাতকে? দেখবেন, ৮০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পড়বে জামাতের দিকেই। যদিও আসল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হওয়া ভোটের ফলাফল অন্য কথা বলে দিল। এর থেকে একটাই ব্যাপার স্পষ্ট, এই ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রপাগান্ডা তৈরি করা যায়, সেটাকে আরও আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়া যায়। মানুষের কল্পনার ফানুস আরও বড় করে দেওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে সেই কল্পনার ফানুস চুপসে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। আর সেটাই আরও একবার প্রমান হল বাংলাদেশে। রঙিন চশমা লাগানো মিথ্যার জগত এবং কঠিন বাস্তব যে এক নয়, সেটা হয়তো এখন অনেকেই বুঝতে পারছেন।
ঘটনা হল, বিদেশে নিরাপদ দুরত্বে বসে একদল মানুষ কোটি কোটি ডলার খরচ করে ক্রমাগত বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ভুলপথে পরিচালনা করে গিয়েছে। তাঁরা নিজেদের অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ব্লগার, লেখক বা সাংবাদিক হিসেবে দাবি করে, ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্মে এসে নানা ধরণের পরামর্শ, হুমকি, ধমকি দিয়ে গিয়েছেন দিনের পর দিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই পরিকল্পিত প্রচারণা বা ক্যাম্পেইন মূলত বাস্তবতাকে অস্বীকার করেই চালানো হচ্ছিল। তাঁদের কু-পরামর্শ একটা দেশকে কার্যত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল প্রায়। সুদূর ফ্রান্সে বসে পিনাকী ভট্টাচার্য, কিনবা যুক্তরাষ্ট্রে বসে ইলিয়াস হোসেন, কনক সারওয়ারের মতো মানুষজন আন্দোলনরত ছাত্রদের কার্যত হাইজ্যাক করে তাঁদের দিয়ে একের পর এক জঘন্য কাজ করিয়ে গিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পরই আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের ভিতর ঢুকে একদল উশৃঙ্খল যুবক-যুবতীর উদ্দাম নৃত্য এবং লুটপাট। এমনকি বর্ষীয়ান মহিলা প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বাস নিয়ে উল্লাসের দৃশ্য দেখে তো গোটা বিশ্বের লজ্জায় মাথা হেঁট হয়েছিল। কিন্তু এই প্রপাগান্ডা গংয়ের তাতে কোনও হেলদোল ছিল না। বরং তাঁরা সেটাকে বিজয়ের উল্লাস প্রমান করে আরও সব জঘন্যা কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বাংলাদেশের নবীন প্রজন্মকে। এরপর আমরা দেখেছি ঢাকার ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে ঐতিহাসিক বাড়িটির উপর উন্মত্ত জনতার ঝাপিয়ে পড়ার দৃশ্য। সেদিনও এই ইলিয়াস, পিনাকীরা ফেসবুকে অনলাইন থেকে একের পর এক নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি ফ্রান্সে বসেই পিনাকী সেদিন আন্দোলনকারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন কোথায় পে লোডার রাখা আছে, কিভাবে তা নিয়ে এসে ৩২ নম্বর বাড়িটি ধ্বংস করতে হবে। সেটাও গোটা বিশ্ব দেখেছিল। একবার নয়, একাধিকবার বঙ্গবন্ধু শেথ মুজিবর রহমানের স্মৃতি বিজরিত বাড়িটিতে আক্রমণ হয়েছে। আর প্রতিবারই তাতে ইন্ধন দিয়েছেন এই ইলিয়াস-পিনাকী গং। আবার ইউনূসের জমানায় সবচেয়ে বেশি যেটা মাথাচাড়া দিয়েছিল, সেই মব সন্ত্রাসও এই মহান বাংলাদেশি ইউটিউবারদের মস্তিষ্কপ্রসুত বলেই দাবি করেন অনেকে। এমন অনেক ভিডিও রয়েছে, যেখানে পিনাকী বা ইলিয়াস কোথায় মব সৃষ্টি করে কি কি করতে হবে তা বলে দিচ্ছেন। আবার বাংলাদেশে ভারতবিরোধিতার হাওয়া জোরদার করতেও এই ইউটিউবাররা উঠেপড়ে লেগেছিলেন। এক পর্যায়ে অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, ব্লগার, লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন, কনক সরওয়ার ও জুলকারনাইন সায়েরের ইউটিউব চ্যানেল ব্লক করে দিয়েছিল ভারত সরকার। পিনাকী ভট্টাচার্য সেসময় তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছিলেন, ‘আমার, ইলিয়াসের এবং কনকের ইউটিউব চ্যানেল ব্লক করে দেওয়া হয়েছে ভারতে। ভারতমাতা তাঁর শত্রুদেরকে চিনে’। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, কি পরিমান ফলস প্রপাগান্ডা চালিয়েছিল এই ইউটিউবাররা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা যে খুব একটা সফল হয়েছেন, তা বলা যাবে না। কিন্তু রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পুরোপুরি সফল না হলেও ইলিয়াস, কনক, পিনাকীরা খুব একটা ব্যর্থও হননি। কারণ, তাঁরা যে বিদ্বেষ ও হিংসার অঙ্কুর গ্রথিত করে দিয়েছেন বাংলাদেশের একটা বড় অংশের মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে যুব সামাজের মধ্যে। তা আগামীদিনে বটবৃক্ষের রূপ নিতে পারে। আর ইলিয়াস, পিনাকীরা আংশিক দমে গেলেও যে থেমে যাবেন তা নয়। তাঁরা তাঁদের প্রপাগান্ডা চালিয়ে যেতেই পারেন।












Discussion about this post