“আমি সব সময় উন্মুক্ত। আমি একজন মানুষ, যে সব সময় আলোচনায় বিশ্বাস করে। তা সে যতই কঠিন হোক, যার সঙ্গেই হোক।”
এই কথা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে তিনি ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের রাজনীতি আওয়ামী লীগকে ফেরাতে তিনি বদ্ধপরিকর। তিনি তারেকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। প্রায় ১৬ মাস আগে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক গণঅভ্যুত্থান তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। তিনি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। তার পেছনে ফেলে যাওয়া রাজপথ ছিল রক্তাক্ত। এর পরপরই তার দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশ ছাড়ে। তারা দলীয় শাসনামলের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জনরোষ ও একের পর এক মামলার মুখে পড়েছিলেন। আওয়ামী লীগের অন্তত ৬০০ নেতা ভারতের সীমান্তঘেঁষা শহর কলকাতায় আশ্রয় নেন। যেখানে তারা তখন থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। দলীয় কার্যক্রম ও সংগঠন টিকিয়ে রাখতে ভারতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জনচাপের মুখে আওয়ামী লীগকে স্থগিত করে এবং সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। হত্যা ও দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের অভিযোগে দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার শুরু হয়। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে—যা হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচন—দলটিকে অংশগ্রহণ ও প্রচারণা থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে হাসিনা তার রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে গেছে—এমনটা মানতে নারাজ। তিনি এই রায়কে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ভারত থেকে নিজের প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল করতে হাজার হাজার সমর্থককে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গোপন আশ্রয় থেকে হাসিনা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দলীয় বৈঠক ও বাংলাদেশের ভেতরে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনালাপ করছেন। এসব রাজনৈতিক তৎপরতা হচ্ছে ভারত সরকারের নজরদারির মধ্যেই – যে সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধ উপেক্ষা করে চলেছে। গত এক বছরে প্রাক্তন এমপি ও মন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে দলীয় কৌশল ঠিক করতে। তাদের একজন ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সারাক্ষণ বাংলাদেশের নেতাকর্মী, তৃণমূল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি আমাদের দলকে আসন্ন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করছেন।
হাসিনার অধীনে গত দুইটি নির্বাচন ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে গত এক দশকের মধ্যে প্রথম সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন। তবে আওয়ামী লীগের দাবি, তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে গণতান্ত্রিক বৈধতার সব দাবিই ভেঙে পড়ে। তারা ইউনূসকে ‘প্রতিশোধপরায়ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। শেখ হাসিনার সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা আমাদের কর্মীদের বলেছি এই ভুয়া নির্বাচনে অংশ না নিতে। ভোট বর্জন করতে এবং কোনো প্রচারণায় না যেতে। বাংলাদেশে যারা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকে স্বৈরতন্ত্র ও লুটপাটের শাসন বলে মনে করেন, তাদের কাছে দলটির হঠাৎ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
বলা হচ্ছে তারেকের কৌশলগত পদক্ষেপই আওয়ামী লীগের জাতীয় রাজনীতিতে ফেরার পথ খুলে দিতে পারে। বাংলাদেশের নির্বাচনকে মোটামুটিভাবে সবাই স্বীকৃতি দিলেও জয় এবং আওয়ামী লীগ এই ভোটকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। ডয়চে ভেলের সাথে এক সাক্ষাৎকারে পালিয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচন সম্পূর্ণ সাজানো, এটি অবশ্যই আমরা মানছি না। কিভাবে মানব? একটা নির্বাচন- যেখানে অর্ধেক দলকে বাদ দেয়া হয় গায়ের জোরে, সেটা কিভাবে নির্বাচন হয়? তাহলে কি, সেই সরকারকেও আপনারা মানবেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে সজীব জয় বলেন- না, যেই নতুন সরকার গঠন হবে সেটা তো কোনো বৈধ সরকার হবে না।












Discussion about this post