নির্বাচনে বিরাট বিজয় পেয়ে স্বভাবতই আনন্দে আত্মহারা বিএনপি। ১৭ বছরের না পাওয়ার আক্ষেপ, বঞ্চনা, হাহাকারের সমুদ্র যেন ভরে উঠছে পূর্ণতায়। অতি দ্রুত কেউ কেউ না কি আবেগ ধরে রাখতে পারছেন না। অভিযোগ আসছে জয়ী প্রার্থীরা হামলে পড়ছেন পরাজিত প্রার্থীর ঘাঁড়ে। অভিযোগ আসছে লুঠপাঠ, ভাঙচুর আগুন, প্রাণঘাতী হামলার খবর। এরই মধ্যে জামায়েতের আমির, নাহিদ, সারজিসরা বলে দিয়েছেন, আবারও তারা রাস্তায় নামতে প্রস্তুত।
ইতিহাসের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য় ধন্যবাদ পেয়ে গিয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। নির্বাচনের দিন কারও প্রাণ যায়নি বলে সরকারের তরফে দাবি করা হচ্ছে। হয়নি বড়ো কোনও সংঘাত। অথচ মানুষ ভেবেছিল রীতিমতো কেয়ামত নেমে আসতে পারত এবারের নির্বাচনে। সব প্লট প্রস্তুত ছিল। ধ্বংসর খবর প্রচারের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা ছিল গণমাধ্যমগুলোতেও। অথচ কী শান্তিপূর্ণ একটা দিন গেল। দিন কাটতে না কাটতে আসতে শুরু করে অশান্তি সংঘর্ষের খবর। জামায়াত অভিযোগ করল, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে বিএনপির নেতা কর্মীরা। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের আগে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ায় ফেনীতে জামায়াত কর্মীর দাড়ি ধরে এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের কর্মীরা। এসময় ওই জামায়াত কর্মীর দাড়ি উপড়ে ফেলেন তারা। শনিবার দুপুরে (১৪ ফেব্রুয়ারি) জেলার দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় নুরুল আবছার আহত হন। তিনি বলেন, দুপুরে নমাজ শেষে ঘরে ঢুকতেই স্থানীয় যুবদল কর্মী বেলাল হোসেন হঠাৎ তার ঘরে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালান। তার স্ত্রী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও হেনস্তা করা হয়। নুরুল আবছারের স্ত্রী জানান, এর আগেও ভোটের প্রচারের সময় একাধিকবার তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন অভিযুক্ত বেলাল। দাড়ি ধরে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। মাটিতে ফেলে মারধরের সময় স্বামীকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাকেও লাঞ্ছিত করেন বেলাল।
এবারের নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমিরের দাবি, নির্বাচনে কারচুপি, ঘসামাজা হয়েছে। হুমকি দিয়েছেন, যদি এই সব অনিয়ম, হামলার বিচার বা প্রতিকার না পাওয়া যায়, তাহলে তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। শুধু জামায়াতের আমির নন, এমন কথা শোনা গেল জামাত জোটের অন্যতম দল এনসিপির প্রধান নেতা নাহিদ ইসলাম, সারজিসদের গলায়। তাঁরা বললেন, বিপ্লবের পর যে আকাঙ্খা নিয়ে মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই আকাঙ্খাকে ধুলিসাৎ হতে দেওয়া হবে না। সারজিস তো সরাসরি বলে দিলেন, যাঁরা বিজয়ী হয়ে নব্য স্বৈরাচার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কাল থেকেই তাদের রাজপথ হবে ঠিকানা।
পঞ্চগড়ের গুঞ্জরমারি বাজারে জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলার পর সারজিসের এই রণনদেহি মূর্তি বলে দিচ্ছে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের এই দুই কারিগর নাহিদ এবং সারজিস বিএনপির বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ যেভাবে ভোট ডাকাতি করত, ঠিক সেই কায়দায় কেন্দ্র দখল আর রেজাল্ট সিট ঘসামাজা করে ১১ দলীয় জোটের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মৌলানা মামনুল হক, ঢাকা ৮ এবং জামায়াতের সেক্রেটিরা জেনারেলের আসনের ফলাফল নিয়ে যে নাটক হয়েছে, তা মেনে নিতে পারছেন না তারা। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তাঁরা মাথা নত করবেন না। যেখানেই আঘাত আসবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মজলুমের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানেই তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুর রহমান এ কথাগুলো বলেন। সহকর্মীদের উদ্দেশ করে জামায়াতের আমির তাঁর ফেসবুক পোস্টে নির্বাচনোত্তর পরিবেশে সবাই কেমন আছেন, তা জানতে চান।
শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাই-বোনদের ওপর একটি বিশেষ দলের কিছু উশৃঙ্খল আচরণ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, এমনকি ১১ দলের প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের সম্মানিত নারীদের শ্লীলতাহানির মতো বেদনাদায়ক ঘটনার খবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের কাছে আসছে।’
ন্যায় ও সত্যের ওপর অটল থাকার প্রত্যায় জানিয়েছেন জামায়াতের আমির। তিনি লিখেছেন, ‘কোনো অপশক্তির কাছে আমরা মাথা নত করব না। যেখানেই এ ধরনের আঘাত আসবে, জনগণকে সাথে নিয়ে মজলুমের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানেই তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’












Discussion about this post