সেনাপ্রধান ওয়াকারউজ্জামানের জন্য শেখ হাসিনাকে যে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা করে না। অথচ সেনাপ্রধান পদে হাসিনাই তাঁকে নিয়োগ করেছিলেন। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে ওই ঘটনার জন্য এখন অনুতপ্ততা বোধ করেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। তাই, তিনি তাঁর ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে, হাসিনার বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা ফিরে পেতে দিল্লিতে থাকা আওয়ামী লীগ নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বাংলাদেশে নির্বাচনের পর নতুন সাংসদ সদস্যরা শপথগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তারেক রহমান। একই দিনে নবনির্বাচিত সাংসদরা শপথ নেবেন। গঠিত হতে চলেছে নতুন সরকার। সেই সময় হাসিনার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোরাঘুরি করছে, যে অডিওতে শোনা গিয়েছে হাসিনার সঙ্গে সেনাপ্রধানের ফোনালাপ। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পরেও সেনাপ্রধানের সঙ্গে হাসিনার যোগাযোগ রয়েছে। ওয়াকারের সঙ্গে কি এখনও যোগাযোগ আছে। তবে সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, হাসিনার সঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকারের যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবদিহি করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যাকে।
শেখ হাসিনা ২০২৪ –য়ে দিল্লি চলে যান। যদিও সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। যোগাযোগ রেখে গিয়েছেন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও। সেখানে দলীয় ফোরামে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। নতুন যে অডিও ক্লিপটি ভাইরাল হয়েছে, তাতে শোনা গিয়েছে হাসিনা বলছেন, তিনি গোপালগঞ্জের বিষয়ে সেনাপ্রধানকে প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু সেনাপ্রধান ওয়াকার সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তিনি বলেছেন, তার পর চাপ রয়েছে। হাসিনা পালটা জানতে চান, তাকে কোনও প্রান্ত থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে সেনাপ্রধান একদম নীরব ছিলেন।
প্রশ্ন উঠছে, হাসিনার সঙ্গে কেন নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার? কেনই বা তিনি ওয়াকারকে পরামর্শ দিচ্ছেন? কারণ হিসেবে উঠে আসছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বলা হচ্ছে, সেনাপ্রধান জানতেন না যে হাসিনা দেশ ছেড়ে দিল্লির পথে পা বাডা়তে চলেছেন। হাসিনা যখন বাংলাদেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, সেই সময় সেনাপ্রধান তাঁর নিজের ঘরে বিশেষ একজনের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। বাংলাদেশের রাজপথ সেই সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে, তা নিয়ে তিনি তাঁর বিশেষ বিশ্বস্ত লোকের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তাঁর ঘরে থাকা টিভির পর্দায় আচমকাই দেখানো হয় যে হাসিনা তাঁর বাড়ি ছেড়ে দিল্লি যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি সফল করতে সেনাবাহিনী সব রাস্তা খুলে দিয়েছিল। জনতা এগিয়ে আসছিল গণভবনের দিকে। বলা হচ্ছে, জনতার উদ্দেশ্য ছিল হাসিনাকে খতম করা। হাসিনা যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন, সেটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই সাত তাড়া গণভবন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরেও শেখ হাসিনর সঙ্গে সেনাপ্রধানের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গেও সেনাপ্রধান ওয়াকার যোগাযোগ রেখে চলেছেন। আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তো বলেই দিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসকে মেনে নিতে রাজি ছিলেন না সেনাপ্রধান ওয়াকার। তাঁর দাবি ছিল, ইউনূস আদালতে দণ্ডিত একজন অপরাধী। তাই, কোনওভাবেই আদালতে দণ্ডিত কোনও অপরাধীকে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, সেনাপ্রধান ওয়াকার বুকে পাথর চাপা দিয়ে ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন। সেনাপ্রধানের দিক থেকে মূল ভেটো ছিল, ইউনূস কেন? তাঁর নামে মামলা রয়েছে। তিনি একজন কনভিক্টেড ব্যক্তি। কেন অন্য কোনও ব্যক্তি নয়? একজন কনভিক্টেড ব্যক্তি কীভাবে দেশের প্রধান উপদেষ্টা হতে পারেন।












Discussion about this post