বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক আশঙ্কা। বলা হচ্ছিল, বিশেষ একটি গোষ্ঠী এই নির্বাচন বানচাল করে দিতে চাইছে। যদিও সব আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশে ভোট মোটামুটি নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে। তারেক রহমানের দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জামায়াত। তারা বিরোধী আসনে বসতে চলেছে। এই সবের মধ্যে একটি বিষয় অদ্ভুতভাবে চাপা পড়ে যায়। বলা যেতে পারে পরিস্থিতি বিষয়টিকে অন্তরালে ঠেলে দিয়েছিল। সেটা হল হাসিনার প্রত্যাবর্তন। হাসিনাকে কি আদৌ বাংলাদেশে ফিরবেন? তারেক রহমান কি তাঁর ঘরওয়াপসির ব্যবস্থা করবে। নির্বাচন পর্ব মেটার পর হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।
তারেক রহমান ইদানিং reconciliation-য়ের কথা বলছেন, বলছে, সংঘাত নয়, সবাই মিলে মিশে কাজ করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে দলটি ভীষণভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগ মানে একটি আবেগ। ফলে, এই দলকে বাদ দেওয়ার অর্থ বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতিতে একটা শূন্যস্থান তৈরি হওয়া। তাদের বাদ দিয়ে বাংলাদেশ পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হবে ন। ভারতের তরফ থেকে তারেক রহমানকে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছ। তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে দিল্লি যে কাজ করতে ইচ্ছুক, সেটা প্রমাণ পাওয়া যায় প্রধানমন্ত্রী মোদির এক্স হ্যান্ডেলে। বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বড়োসড়ো জয়ের পথে হাঁটতে চলেছে, সেটা বুঝতে পেরে ১৩ তারিখ সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলায় পোস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন সেই সৌজন্য ফোনালাপের কথা। টুইট করে জানান, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। একই দিনে সকালে এক্স হ্যান্ডেলে একটি শুভেচ্ছা পোস্ট করেন মোদি। লেখেন, “ এই জয় বুঝিয়ে দিল বাংলাদেশবাসী আপনার নেতৃত্বে আস্থা রাখেন।” তারেকের নেতৃত্বধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কে নিয়েও বার্তা দিয়েছেন মোদি। গণতান্ত্রিক, উন্নয়নশীল বাংলাদেশের পাশে রয়েছে ভারত – তা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, “ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বহুবিধ সম্পর্ক রয়েছে।” পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার তাগিদের সেসব আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলের একাংশ মনে করছে, ইউনূসের আমলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক যে তলানিতে চলে গিয়েছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ফলে, তারেকের দিক থেকেও যেমন সম্পর্ক মসৃণ করার দায়িত্ব রয়েছে, দিল্লির তরফেও সমান দায়িত্ব রয়েছে। বলা হচ্ছে, লন্ডনে তারেক থাকাকালীন সেখানে দুই দেশের হাইকমিশনারদের মধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। সেই সময় জিয়া শারীরিক দিক থেকে রীতিমতো সংকটজনক অবস্থায় ছিলেন। সেই বৈঠকের ফলশ্রুতিতে জিয়ার অন্ত্যেষ্টিতে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন এস জয়শঙ্কর। তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁর হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদির লেখা শোকপত্র।
বলা হচ্ছে, লন্ডনে তারেক রহমান থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে বেশ কিছু বোঝা পড়া হয়েছে। সেই বোঝাপড়ার মধ্যে রয়েছে inclusive democracy. আর সেটা তখনই সম্ভব হবে হাসিনা সহ আওয়ামী লীগকে জাতীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার। এমন দাবিও করা হচ্ছে, যে তারেকের ঢাকা ফেরার ব্যাপারে হাত রয়েছে দিল্লির। তাঁকে এই শর্তেই দেশে ফিরতে দেওয়া হয়েছে যে দেশে ফিরে তাঁর প্রথম কাজ হবে হাসিনাকে ফেরানোর ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয় বিষয়টি হল, জিয়ার শাসনামলে শোনা গিয়েছিল, হাসিনার আমলে হওয়া চুক্তি পর্যালোচনা করা হবে। ভারত চাইবে, তারেক রহমানের সরকার এই সব চুক্তি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে।












Discussion about this post