আর কয়েক ঘণ্টা বাদেই প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তারেক রহমান। ভারতের হয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির থাকা কথ। তবে বিশেষ কারণে তিনি যেতে পারছে না। তবে ভারতের তরফে তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রিকে তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই তালিকায় রয়েছে চিন, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
তারেক রহমান জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি এক হ্যান্ডেলে তাকে শুভেচ্ছা জানান। যার উত্তরে বিএনপি লেখে, আপনাকে ধন্যবাদ। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আপনার সদয় স্বীকৃতির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি দ্বারা পরিচালিত আমাদের বহুমুখী সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আমরা ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক জড়িত হওয়ার জন্য উন্মুখ।
কখনও হাসিনা, কখনও খালেদা জিয়ার সাম্রাজ্যের অবসানের প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে চলেছেন কোনও পুরুষ। আর জামাতকে হারিয়ে এই বিপুল জয়ের পর বিএনপি নেতারা টেনে আনছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা। পাকিস্তানের হয়ে জামাতের লডা়ইযের কথা। বিশ্বাসঘাতকতার কথা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কি ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক তৈরি হবে। বিএনপি কি ভারতের দিকে ঝুঁকবে? না কি পাকিস্তান পন্থী হবে? না কি ভারসাম্যের রাজনীতি করবে?
এই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ভবিষ্যতে। তবে তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লাকে পাঠিয়ে ভারত একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চাইছে। আমাদের পাঠক নিশ্চই জানেন, জিয়ার অন্ত্যেষ্টিতে গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তারেকের সঙ্গে জয়শঙ্কর বিশেষ বৈঠক করেন। তাঁর হাতে তুলে দেন প্রধামমন্ত্রী মোদির লেখা চিঠি। বলা হচ্ছে, দিল্লি যখন নিশ্চিত হয়ে যায় যে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের কোনও সুযোগ নেই, আসছে বিএনপি। তাই, বিএনপি সরকারের সঙ্গে দিল্লি কাজ করতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত রয়েছে, সেই বার্তা দিতেই জিয়ার অন্ত্যষ্টিতে বিদেশমন্ত্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিদেশমন্ত্রক। আর তারেকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠিয়ে সাউথব্লক একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চাইছে।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারত যে দ্রুত সম্পর্ক গড়তে চায়, ইতিমধ্যে নয়াদিল্লির তরফে তা নিয়ে উপর্যুপরি বার্তা দিয়েছে সাউথব্লক। তারেক বিএনপি চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছাবার্তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভর্মা। তার আগে বিএনপির চেয়ারপার্সন তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন খালেদা জিয়ার অন্তিম যাত্রায় অংশ নেন বিদেশমন্ত্রী। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সাউথব্লক তার দ্রুত মেরামত চাইছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তাবায়িত করতেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তারেক রহমান যাতে ভারত সফরে আসেন সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছে দিল্লি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ঢাকায় নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত তার দেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন। ফলে, দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আগে কোন দেশ সফর করেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছেই। ঢাকার একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই জটিলতা এড়াতে তারেক রহমান মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনও একটি দেশ বা আমেরিকা যেতে পারেন।












Discussion about this post