বাংলাদেশে বিএনপি’র সরকার। আর প্রধান বিরোধীদল জামায়াত। তারেক রহমান খুব মসৃণভাবে সরকার চালাতে পারবেন বলে মনে করছে না বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও চাইলেই ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত সরকার যে নিতে পারবে না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল নিশ্চিত। তারেক রহমানের দায়িত্ব যেমন দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, পাশাপাশি তাঁর অন্যতম গুরুদায়িত্ব শেখ হাসিনাকে সসম্মানে প্রত্যাবর্তন। বলা হচ্ছে, তারেককে লন্ডন থেকে দেশে এই শর্তেই ফিরতে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হল, হাসিনাকে কীভাবে দেশে ফেরাবেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান মিতভাষী। অল্প কথার মধ্যে দিয়ে বিরাট একটি বিষয়কে তিনি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে থাকেন। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করেন তারেক। শেখ হাসিনাকে ফেরানো, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সহ নানা প্রশ্নের তিনি জবাব দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার ঘরওয়াপসির বিষয়ে তিনি বা তাঁর দল কীভাবছে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি চেয়ারাপার্সন বলেন, “এটা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। ” প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বহু আওয়ামী সমর্থক রয়েছেন। সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে সমস্যা সমাধান বা মিটমাটের কী পরিকল্পনা তিনি নিয়েছেন? জবাবে তারেক রহমানে বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই সব কিছুর সমাধান হবে।
হাসিনা দিল্লিতে রয়েছে এক বছরের বেশি। বিদায়ী তদারকি সরকারের তরফে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে একাধিকবার প্রস্তাব, নোট ভারবাল পাঠানো হয়। সাউথব্লক কৌশলী পদক্ষেপ নেয়। সব নোট ভার্বালের জবাব ছিল It is being examined. ভারতের একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই একই প্রশ্ন করা হয়েছিল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে। তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা লোকেরা আসলে পাগলের প্রলাপ বকছেন। তাঁর কথায়, “আমরা ভারতের সঙ্গে লডাই করতে পারব না। আমাদের কথা বলতে হবে। যারা ভারতের সঙ্গে লডা়ইয়ের কথা বলছেন, তাঁরা পাগলের মতো কথা বলছেন। ” আর হাসিনা প্রসঙ্গে তাঁর অভিমত, “ আমরা মনে করি না হাসিনা সত্যি গুরুতরভাবে মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার দাবি তুলেছে জনতা। আমাদের মতে, তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ভারতের। কিন্তু হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করার বিষয়টি বাণিজ্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। ”
বিএনপি সরকার এখন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যমূলক পদক্ষেপের মুখোমুখি। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যূতির পর যে ধরনের নির্বিচার রাজনৈতিক নির্যাতন অতি সাধারণ হয়ে উঠেছিল। সেই ধরনের আচরণ না করে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের ক্রমবর্ধমা ক্ষোভের সমাধান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেকের চ্যালেঞ্জ হবে আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর থেকে ভুয়ো মামলা প্রত্যাহার করা। সেই সঙ্গে এটা নিশ্চিত করা যে হিংসার প্রকৃত অপরাধীরা যেন রেহাই না পায়। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে দলনেত্রী হাসিনা ভোট বয়কটের ডাক দেওয়ার পরেও আওয়ামী লীগ থেকে ভোট স্থানান্তর হয়েছে। প্রাক্তন শাসক দলের যে সব সমর্থক ভোট দিয়েছেন, তাদের সমর্থন ছিল মূলত বিএনপিকেই। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত একটি ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সম্ভবত বিএনপির পক্ষে মানুষের রায় পেতে সাহায্য করেছে। যদিও অনেকে ২০২৪-য়ের বিক্ষোভকে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হিসেবেই দেখছেন। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে অন্য কোনও দলকে একই ভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতে পারে এই আশঙ্কায়, ভোটাররা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য বিএনপিকে প্রশ্নাতীত ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।












Discussion about this post