প্রতিবেদন শুরু করা যাক দ্য আওয়ার্স ছবির এই সংলাপ দিয়ে।
“I remember one morning getting up at dawn. There was such a sense of possibility. You know, that feeling. And I… I remember thinking to myself: So this is the beginning of happiness, this is where it starts. And of course there will always be more…never occurred to me it wasn’t the beginning. It was happiness. It was the moment, right then.”
হক কথা। বিশেষ করে তারেকের রান্নাঘর, মানে ক্যাবিনেটে খলিলুর রহমানের জায়গা পাওয়ার প্রেক্ষিতে দ্য আওয়ার্স ছবির এই সংলাপ একেবারে ষোলো আনার ওপর আঠারো আনা খাঁটি। এরকম একটা আনন্দঘন মুহূর্তে দেখা গিয়েছিল ২০০১ সালে। তৎকালীন তত্ত্বাধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানে বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ছিলেন আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা, জিল্লুর রহমান, বিএনপির খালেদা জিয়া এবং মান্নান ভুঁইয়া। ওই বছর জিমি কার্টার বাংলাদেশ সফরে ছিলেন। বলা হচ্ছে, সেই বৈঠকের কারিগর ছিলেন এই খলিলুর রহমান। অর্থাৎ বিএনপির সঙ্গে খলিলুর রহমানের যে দীর্ঘ একটা যোগাযোগ ছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেই আনন্দঘন মুহুর্ত আরও একবার ফিরে এল ২৫ বছর বাদে। খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনীতিতে যেমন শেষ কথা বলে কিছু নেই, তেমনই রাজনীতিতে চিরশত্রু বা চিরমিত্র বলে কিছু হয় না। সেটা খলিলুর রহমানের নিয়োগের মধ্য দিয়ে আরও একবার প্রমাণিত হল। আমাদের পাঠক এবং দর্শকদের মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে, গত বছরের মাঝামাঝি সময় রাখাইনে ‘মানবিক করিডোর’ ইস্যুতে ড. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার ছিল বিএনপি। তাঁর নাগরিকত্ব প্রশ্নে বিতর্ক, জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল দপ্তরে ‘বিদেশি নাগরিক’ নিয়োগের অভিযোগ— সব মিলিয়ে তাঁকে অপসারণের দাবি তোলে দলটি। দলীয় নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বৈঠকে সরাসরি তাঁর পদত্যাগ চান। সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন বর্তমান সংসদ সদস্য ‘#KhalilMustGo’ প্রচারণা চালান।
গত কয়েকদিন ধরেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল যে পররাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে চলেছেন তদারকি সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। কিন্তু শোনা কথায় বিশ্বাস করাটা ঠিক না। তাছাড়া যে দলটি একসময় এক ব্যক্তির পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিল, সেই দলের তরফে তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলতেই? বলতেই হচ্ছে বাংলাদেশে “বসন্ত জাগ্রত দ্বারে”। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে তাঁর নিয়োগ নিয়েও কিন্তু কম বিতর্ক তৈরি হয়নি। বিতর্ক তৈরি হওয়ার যথেষ্ঠ কারণও ছিল। এই ক্ষেত্রেও বিএনপিকে সরব হতে দেখা যায়। দলের তরফে প্রশ্ন করা হয়, জাতীয় নিরাপত্তার মতো একটি গুরুত্ব পদে একজনকে বসাতে বিদেশ থেকে উড়িয়ে নিয়ে আসা হল এমন একজনকে যাঁর রয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব। সব দেশেই এই ধরনের পদে এমন কাউকে নিয়োগ করা হয়, যিনি কোনও না কোনওভাবে নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বা এই বিষয়ে তাঁর যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতা রয়েছে। খলিলুরের কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা নেই। সালাহউদ্দিন আহমেদ খুলনায় এক জননসভায় তো ইউনূসের জবাব চেয়ে বসেছিলেন। প্রশ্ন করেছিলেন কী করে একজন বিদেশি নাগরিককে দেশে উড়িয়ে এনে জাতীয় নিরাপত্তার মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর দফতরের মাথায় বসান হল? ইউনূসের কি সাধারণ জ্ঞানটুকু নেই? গত বছর ২৯ মে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানে ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় সালাহউদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা বলেছি, আগে আপনার উপদেষ্টা পরিষদ সংস্কার করুন। আপনার উপদেষ্টা পরিষদ নিরপেক্ষ নয়। এখানে দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা আছেন। তারা একটি নির্দিষ্ট দলের। আরেকজন উপদেষ্টা ২০ বছর বিদেশে ছিলেন। এখন তিনি বাংলাদেশ উদ্ধার করতে এসেছেন। তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার কারণ বাংলাদেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। ”
এই কারণে আগেই বলা হয়েছে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। আর চিরবন্ধু, চির শত্রু বলে কিছু হয় না।












Discussion about this post