নতুন সরকারের আয়ু কতদিন? আওয়ামী লীগকে আবার জাতীয় রাজনীতিতে কবে দেখা যাবে? ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। এই নির্বাচনে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে, দেশের একটি জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে এই নির্বাচন হয়েছে। এই যাত্রা কি গণতন্ত্রের জয় ? না কি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শুরু? কেন এই সরকারের পথ চলা কঠিন হতে পারে? ইতিহাসের চাকা যেন অদ্ভূতভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২৪ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া নির্বাচন একাধিক প্রশ্নের জন্মে দেয়। অভিযোগ, এই নির্বাচন হয়েছে এক পেশে। বিরোধিরা অংশ নেয়নি। সেই সরকারের মেয়াদ ছিল মাত্র আট মাস। বর্তমান প্রেক্ষাপট কি তার চেয়েও জটিল? বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৪-য়ে আওয়ামী লীগ কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। বিরোধীরা নির্বাচন বয়কট করেছিল। তারা তাদের দাবিতে অটল থেকে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা লাগাতার বলে গিয়েছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে ইচ্ছুক। তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। বলা হচ্ছে জামাতের ষড়যন্ত্রে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অর্থ, দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর ম্যানডেট বা জনমতকে উপেক্ষা করে বিএনপি সরকার গঠন করা হয়েছে। একটি দেশের অর্ধেক মানুষকে উপেক্ষা করে সরকার গঠন করা হয়, তখন সেই সরকারের স্থায়ীত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। সেই সরকারের নৈতিক ভিত্তি কতটা থাকে, প্রশ্ন সেখানেই। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ চালিয়েছে একটি অন্তর্বর্তী সরকার। মানুষ আশা করেছিল পরিবর্তন। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে মানুষের আশাপূরণ তো হয়নি। বাংলাদেশ কার্যত অতল গহ্বরে চলে গিয়েছে। মানুষ যখন তুলনা করতে শুরু করল তখন দেখা গেল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তুলনায় সামাজিক অস্থিরতা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেল। জান মালের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সূচকের অস্বাভাবিক হারে পতন ঘটল। সব ক্ষেত্রে ইউনূস সরকারের পারফরম্যান্স ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। আর ঠিক এই জায়গাতেই ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।
ক্ষমতা ছাড়ার সময় আওয়ামী লীগ যে অজনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল, গত দেড় বছরে তাদের সেই জনপ্রিয়তা আকাশচূম্বি হয়েছে। মানুষের মুখে মুখে আজ একটাই কথা – আগের সরকারই ভালো ছিল। এমনকী বিভিন্ন গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টেও উঠে এসেছে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ভূমিধস বিজয় পেত। এই আশঙ্কা থেকেই কি নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি? জনমনে এই সন্দেহ এখন বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, নব গঠিত বিএনপি সরকার তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে?। এককথায় এটা তাদের জন্য সীমাহান এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু কেন? বিএনপিকে শুধু সরকার চালালে হবে না। তাদের লড়তে আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া উন্নয়ন এবং স্থিতিশীল ভাবমূর্তির সঙ্গে। আওয়ামী লীগ আমলে হওয়া কিছু দুঃশাসনের ঘটনা বাদ দিলে অবকাঠামো কাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার যে মাপকাঠি তারা তৈরি করে গিয়েছে, সেই মাপকাঠির চেয়ে আরও ভালো করে কিছু দেখাতে হবে। যদি কয়েক মাসের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে, যদি দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি ঘটে, তবে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে বলতে শুরু করবে আওয়ামী লীগকে ফেরাও। একটি নিষিদ্ধ দল যখন মানুষের আবেগে জায়গা করে নিলে সেটা যে কোনও সরকারের কাছে হুমকি স্বরূপ।
আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ। তারা মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারছে না। আজকের এই প্রযুক্তির যুগে তারা ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্মে তাদের যে পরিমাণ সক্রিয় থাকার কথা ছিল, সেখানে তাদের বিশাল ঘাটতি রয়েছে। বিদেশের মাটিতে বসে বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বসে তারা তাদের আন্দোলন আরও সংঘটিত করতে পারত। যে সুযোগ তাদের কাছে ছিল, তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।












Discussion about this post