রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পকে পদে বহাল রেখে দেশ পরিচালনা করতে চায় বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান চান দেশ সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। কোনও অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে যেন অপসারণ না করা হয়। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালান পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। প্রধানমন্ত্রী নেই, সংসদ নেই, স্পিকার নেই। এই অবস্থায় রাষ্ট্রপতিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারলে দেশে তৈরি হয় সাংবিধানিক শূন্যতা। এমন ঘোলা জলে মাছ শিকার করতে চেয়েছেন অনেকেই। এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করেছে বিএনপি। তারেক রহমানের আপসহীন মানসিকতার জন্য এই রকম এক ভয়াবহ সংকট থেকে বেঁচে গিয়েছে বাংলাদেশ। অভিযোগ আছে, রাষ্ট্রপতির প্রতি অবজ্ঞা দেখাতে গিয়ে ইউনূস সরকার সংবিধানও লঙ্ঘন করেছেন। যদি তা প্রমাণ হয়, সে ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁর শাস্তিও হতে পারে।
২০২৪-য়ের গণঅভ্যুত্থানের জেরে ভারতের পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যথাযথভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেছেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ঠ ধোঁয়াশা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র তিনি দেখেননি। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে অনির্বাচিত কারও সরকরার প্রধান হওয়ার সুযোগ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশের সংবিধানে নেই। তবে আদালতরে রায় আছে নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার জন্য রায় দিয়েছে। তবে সেই সরকার মাত্র তিন মাসের জন্য রাষ্ট্র রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার দায়িত্ব পালনকালে বারবার সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করার অনেক পাঁয়তারা হয়েছে।’ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তখন যতগুলো অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সেগুলো হয়তো তৎকালীন সময়ের প্রয়োজনীয়তার জন্যই হয়েছে। তার পরও আমার দৃষ্টিতে মনে হয়েছে, অনেক অধ্যাদেশ করার কোনো কারণ ছিল না। প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনো বিধান মেনে চলেননি।’ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, উনি যখনই বিদেশ সফরে যাবেন, সেখান থেকে ফিরে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং আমাকে ওই আউটপুটটা জানাবেন।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘উনি (ড. ইউনূস) তো বোধহয় ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেছেন। একবারও আমাকে জানাননি একবারও আমার কাছে আসেননি।’
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই সংকটময় সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর জোরালো ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, সেই সময়ে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তারা শুধু একটা কথাই বলেছে, “মহামান্য, আপনি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। আপনার পরাজিত হওয়া মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীরই পরাজিত হওয়া। এটা আমরা যেকোনো মূল্যে রোধ করব।” শেষ পর্যন্ত তারা এটা করেছে। তারা বিভিন্ন সময় আমার কাছে এসে আমাকে মনোবল দিয়েছে।’
রাষ্ট্রপতি আরও দাবি করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি চেষ্টা চালানো হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতেও তিন বাহিনীর প্রধানগণ তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তারা কোনো ধরনের অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড হতে দেবেন না। বঙ্গভবনের সামনে যখন মব সৃষ্টি করা হয়, তখনো সশস্ত্র বাহিনী ওই অবস্থান নিয়েছিলো বলে তিনি জানান। দুঃসময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ওই কঠিন সময়েও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। তারা তখনো সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন।’
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে নিজের ব্যক্তিগত ধারণার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো কর্ডিয়াল! আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।’












Discussion about this post