ফের সংবাদের শিরোনামে আওয়াী লীগ। তারা একটি ভয়ংকর ঝুঁকি নিতে চলেছে। বাংলাদেশে দলের যে সব নেতারা রয়েছেন, তারা যেন আচমকাই গাঝাড়া দিয়ে উঠেছে। কলকাতা, আমেরিকা, ইংল্যান্ডে বসবাসরত নেতাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হবে, তাঁরা দ্রুত বাংলাদেশে ফিরবেন। মূলত কয়েকটিস্তরে তারা এই কাজগুলো করবেন। তারা আইনের কাছেও নিজেদের সমর্পণ করবেন। যখন তারা নিজেদেরকে আইনের কাছে সমর্পণ করেন, তখন বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থা রীতিমতো আন্তর্জাতিক চাপের ওপর পড়বে। আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের কথাই ধরা যাক। তিনি আইনের দ্বারস্থ হলে বা তাকে আইনের দরজায় দাঁড় করালে বাংলাদেশে কার্যত ভূমিকম্প হবে। দ্বিতীয়ত আওয়ামী লীগ এখন বোঝার চেষ্টা করছে, তাদের আমলে সব থেকে বড়ো ভুল কী? সব চেয়ে বড়ো ভুল মবের ভয়ে গণভবন থেকে হেলিকপ্টারে করে ভারতে চলে যাওয়া। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে থাকলে গণভবন ভেঙে জনতা ঢুকে পড়ত এবং সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে পুরো সেনাবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে যেত। সেই ঝুঁকি সেনাবাহিনী কোনওদিন নিত না বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। যেটা হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। রাজাপক্ষকে সেনাবাহিনী উদ্ধার করে নিজেদের ব্যারাকে নিয়ে গিয়েছিল। বিশ্ব সেটা দেখেছে। রাজাপক্ষে সেখানে কিছুদিন থাকার পর আবার স্বস্থানে ফিরে আসেন।
বাংলাদেশেও সেনার তত্ত্বাবধানে থাকতে পারেন হাসিনা। যেমন তাঁর আমলের কয়েকজন মন্ত্রী সেনার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশেই রয়েছেন বলে খবর। শেখ হাসিনাকে সেনাবাহিনীর হাতে সঁপে দিতে হলে তাকে যথাযোগ্য সম্মানের সঙ্গেও সঁপে দিতে হতো। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রবিধি ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ত। এই রকম একটি পরিস্থিতি তৈরি হল ভারত অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে বলে মনে করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলে একাংশ। বলা হচ্ছে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার পরামর্শেই শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। আওয়ামী লীগ এখন বুঝতে পারছে, এটাই তাদের সব থেকে বড়ো ভুল সিদ্ধান্ত। ঠিক একই ঘটনা ঘটে ১ /১১ –তেও। ওই সময় শেখ হাসিনাকে বিদেশে পাঠানোর তোরজোর চলে। হাসিনা পরে অবশ্য দেশের বাইরে ইংল্যান্ডে চলে যাওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করেন। পরে সর্বশক্তি নিয়ে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। বেগম জিয়ার ক্ষেত্রে প্রায় একই ঘটনা ঘটে।
বলা হচ্ছে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার পিছনে মেজর (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) আখতারের একটি ভূমিকা রয়েছে। শোনা কথা, বেগম জিয়া দেশ ছাড়ার ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলেছেন। আর সেই খবর কোনওরকমে আখতারের কানে যায়। তিনি দ্রুত জিয়ার বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন। বেগমকে তিনি বলেন, “ ম্যাডাম আপনি কি শুরু করেছেন? আপনি দেশ ছেড়ে চলে গেলে আর কোনওদিন দেশে ফিরতে পারবেন? বিএনপি থাকবে? আপনি যেতে পারবেন না। ” বেগম জিয়া মেজরের কথা ফেলতে পারেনি। বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্তা তাঁর অতি বিশ্বস্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন এই মেজর। জিয়া তাঁর পরামর্শ মেনে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঘটল ১ /১১। বলা হচ্ছে জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি হাসিনা। একাধিকবার জিয়াকে জেলে যেতে হয়েছে। আর বিএনপি ফিরে পেয়েছে পায়ের মাটি। জেল থেকেও তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল একাধিকবার। তিনি বিদেশে যেতে রাজি হননি। আজ বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পিছনে বাংলাদেশে জিয়ার দীর্ঘসময় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অনুঘটকের মতো কাজ করেছে। তিনি বিদেশে গেলে তাকে জেলে যেতে হত না। বেগম জিয়ার দেশে থাকা, জেলে যাওয়া এবং মৃত্যু তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতা কিন্তু বাংলাদেশে রয়ে গিয়েছেন। কয়েকজন রয়েছে জেলে। এরা প্রত্যকে পোড় খাওয়া নেতা। এরা একসঙ্গে মাঠে নামলে আওয়ামী লীগের ফিরে আসাটা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।












Discussion about this post