বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গেলে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনওভাবেই সেটা সম্ভব নয়। তারা ক্ষমতায় নেই। হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কেউ রয়েছেন কলকাতায়। অনেকে আবার ভিন দেশে চলে গিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে নিয়ে চর্চা কিন্তু অব্যাহত। এখন শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসতে চলেছে। প্রশ্ন তাহলে কি দলের ওপর জারি করা ইউনূস সরকারের নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত উঠে যেতে বসেছে। আওয়ামী লীগ যে ফিরবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলা হচ্ছে তাদের জাতীয় রাজনীতিতে ফেরার পথ তৈরি করে দিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জেনারেল জিয়াউর রহমান জামাতের মতো দলকে রাজনীতি করতে দিয়েছিলেন। আর তাঁর পুত্র তারেক রহমান কিছুদিন আগে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছে, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন। তিনি বলেন, “আজ যদি একটি দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, তবে কাল আমার দলও নিষিদ্ধ হবে না, তার কি নিশ্চয়তা আছে। ” তবে অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে তিনি আপোসহীন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসলে প্রতিনিয়ত একাধিক ঘটনা ঘটছে। রকেট গতিতে ঘটছে বদল। জানা গিয়েছে, শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। তিনি তাদের বেশ কিছু কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, তৈরি হন এবার ফিরতে হবে দেশে। নামতে হবে মাঠে। দীর্ঘদিন বিরতার পর শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হলেন। বৈঠক হয়েছে মঙ্গলবার সকালে। বৈঠকে হয়েছে আওয়ামী লীগের একজন প্রিসিডিয়াম সদস্যের বাসভবনে। যেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সব থেকে আলোচিত বিষয় হল দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নির্দেশ। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাকর্মীদের বলেছেন, মানসিক এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিন। কারণ এবার সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। দেশের রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হতে হবে। তাঁর এই বার্তা রাজনৈতিকমহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে কি শেখ হাসিনা এবার আক্ষরিক অর্থেই দেশে ফিরতে চলেছেন? হাসিনা কি কোনও শক্তিশালীমহল থেকে ইতিবাচক সংকেত পেয়েছেন।
অনেক নেতার ধারণ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড়োসড়ো একটি ইঙ্গিত পেয়েছেন। বৈঠকে হাসিনা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, “ নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে।” বৈঠকে উপস্থিত নেতারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে তাঁকে অবগত করেন। নির্বাচন পূর্ববর্তী পর্যায়ে এবং নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনেক পর্যবেক্ষককে বলতে শোনা গিয়েছে যে নির্বাচন খুব ভালো হয়েছে। তারাই আবার যে যার দেশে ফিরে গিয়ে নির্বাচন নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান। বলেন, এটা ছিল একটা সাজানো নির্বাচন। এই দুমুখীদের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। দলীয় কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছে মানুষকে বোঝাতে হবে কেন এই নির্বাচন আসলে প্রহসন। কেন এই নির্বাচন সাজানো নির্বাচন। আগে থেকেই সব ঠিকঠাক ছিল। যে কারণে আওয়ামী লীগকে বাইরে রাখা হয়েছে। পূর্বতন সরকার এবং বিএনপি নিশ্চিত ছিল আওয়াী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তাদের জয় নিশ্চিত। আওয়ামী লীগ ভূমিধ্বস বিজয় পাবে। সেটা যাতে না হয়, তাই দলকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ করে দেওয়া হয়নি।
আওয়ামী লীগ এবং হাসিনা ভোটের শতাংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, ভোট শতাংশের দিকে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হবে কারচুপি। কারচুপি না হলে কোনওভাবেই ভোটের ৬০ শতাংশ মেলানো সম্ভব নয়। তার আরও দাবি, বাংলাদেশে ভোট কাগজে কলমে ১২ ফেব্রুয়ারি হলেও ভোট শুরু হয়েছে তার আগের দিন থেকে। হাসিনার দাবি, তাঁর ভোট বর্জনের আহ্বানে মানুষ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে। তিনি ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন।












Discussion about this post