বাংলাদেশের আইনজীবী মহলের মতে, পূর্বতন সরকার প্রধান ইউনূসের কর্মকাণ্ড শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, বরং তা রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। তাদের মতে এটা treason. অর্থাৎ ইউনূস দেশের সঙ্গে, দেশবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বাংলাদেশে দণ্ডবিধির ১২১ নম্বর ধারা অনুসারে রাষ্ট্রদ্রোহের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ড। এখন প্রশ্ন ইউনূসের বিচার কবে হবে। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মোহসিন রশীদ বলেছেন, পূর্বতন সরকার প্রধানের কর্মকাণ্ড শুধু সংবিধান লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। বিএনপি সরকার আইনি পদক্ষেপ না করলে তিনি নিজেই এই ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ করবেন। এদিকে, তারেক রহমান তাকে রাষ্ট্রপতি করতে পারেন বলে খবর। তবে জনগণের চাপ ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণেই তারেক রহমান তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ করতে পারছেন না। কোনওভাবেই এই মামলা এড়ানো সম্ভব নয়। বরং অবৈধ চুক্তি, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আত্মসাৎ, মব লেলিয়ে দিয়ে হত্যাকাম্ড এবং দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি শক্তির সঙ্গে করমর্দন – এক সঙ্গে এতোগুলি অভিযোগ রয়েছে পূর্বতন সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে মামলা একদিন হবে। সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহসিন রশীদ করুন বা অন্য কেউ।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচার হয়েছে এবং আদালতের শাস্তি কার্যকর করাও হয়েছে। ইউনূসের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা অপরিহার্য। তিনি দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত করেছেন। এটা আইনগত প্রয়োজনে নয়, বরং ন্যায় বিচারের দাবি উঠেছে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাংলাদেশের একটি পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারের এক জায়গায় তিনি বলেছেন, তাঁর সবকিছু এখনও বলা হয়নি। তার অর্থ, তিনি আরও বহু বিষয়ে মুখ খোলেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি আগামীদিনে আরও বড়ো ধরনের বোমা ফাটাবেন। তাঁর কাছে আরও গুরুতর অপরাধের তথ্য রয়েছে, যা প্রকাশ পেলে ইউনূসের অপরাধের একটা সার্বিক বা পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের আইনজীবীমহল মনে করছে, রাষ্ট্রপতি যেটুকু বলেছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা যায়। মৃত্যুদণ্ডযোগ এই অপরাধের বিচার অবশ্যই হবে। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে গত দেড় বছরে যে অরাজকতা, সংবিধান লঙ্ঘন, প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের যে ঘটনা ঘটেছে, তা বিরলতমর মধ্যে বিরলতম। এটা কোনও সাধারণ রাজনৈতিক বিচ্যুতি নয়। এটা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বোভৌমত্বের ওপর আঘাত।
বাংলাদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর থেকে ইউনূস রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, সংবিধানকে যেভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন, সেটা শুধুমাত্র নিছক ধৃষ্টতা নয়। আইনের চোখে সেটা দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। মবকে লেলিয়ে দিয়ে ইউনূস রাষ্ট্রপতি হত্যাও করতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেটা স্পষ্ট। ২২ অক্টোবরের রাতকে তিনি তাঁর জীবনের বিভীষিকাময় বলে উল্লেখ করেন। একটি ঘটনা তিনি সেই সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন। গণভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, “ওই সময় একটি মেয়েকে কাঁটাতারের বেড়ায় উঠে লাফ দিতে দেখা যায়। সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের পর মেয়েটিকে মাটিতে পড়ে থাকে। ওই অবস্থায় মেয়েটি ক্যামেরাম্যানকে ছবি তোলার জন্য ডাকে। এটার উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাকমেল করা। ” বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বরিষ্ঠ আইনজীবী রশীদের বিবৃতি একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত নয়। এটা এককথায় রাষ্ট্রের অভিমত। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ড. মহম্মদ ইউনূসের কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র সংবিধান লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার পর রাষ্ট্ররপতিই একমাত্র সাংবিধানিক প্রধান। সেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যথাযথ ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত রাখেননি পূর্বতন সরকার প্রধান। রাষ্ট্রপতিকে অন্ধকারে রেখে তিনি একের পর এক অসাংবিধানিক পদক্ষেপ করেছেন। রাষ্ট্রপতিকে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। বিশিষ্ট এই আইনজীবীর দাবি, “রাষ্ট্রপতিকে ভয় ভীতি দেখিয়ে, মানসিক চাপে রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতিকে সরকারি নথিতে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁকে অবহিত না করা, সাংবিধানিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করা গুরুতর লঙ্ঘন। এটা শুধুমাত্র সংবিধান লঙ্ঘন নয়। ইটস আ ট্রিজন। ”












Discussion about this post