মাসটার নামই তো মার্চ। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় যাত্রা। আর যাত্রার মাসে আওয়ামী লীগ তাদের যাত্রা শুরু করতে চায়। দলনেত্রী হাসিনা আগামী মাসের তিনটি দিন দলের জন্য বেঁধে দিয়েছেন। দিন তিনটি হল ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ, ২৬ মার্চ। এই তিনটি দিনে আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামবে। দলনেত্রী হাসিনা তাঁর কর্মীদের এই নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে হাসিনা একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতা উপস্থিত ছিলেন। ওই তিনটি দিন যাবতীয় বাধা উপেক্ষা করে নামতে হবে রাজপথে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বড়ো ব্যবধানে জয় পেয়েছে। রাজনৈতিক মঞ্চে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাসিনা যে বৈঠক করেন সেটা দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। যে তিনটি দিন হাসিনা দলীয় কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত করেছে, সেই তিনটি দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিন। প্রথমেই ৭ মার্চের কথা বলতে হয়। ১৯৭১ সালের ওই দিনে রমনায় রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ও মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। সেই ভাষণেই তিনি উচ্চারণ করেছিলেন তাঁর ঐতিহাসিক উক্তি, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ শেখ হাসিনা দলীয় বৈঠকে বলেছেন, আমি আশা করব বর্তমান সরকার আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে। তারা সে পথে না হাঁটলে আমাদেরকেও কর্মসূচি নিতে হবে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লিগ নেত্রী বৈঠকে বলেন, কোনও দলের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলেই সেই দলের কর্মীরা স্বাধীনতা দিবস সহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিনগুলি উদযাপন করতে পারবে না এইরকম কোন বিধিনিষেধ আরোপ করা যায় না। তিনি বলেন, জেলখানাতেও দোষী সাব্যস্ত এবং বিচারাধীন বন্দিরা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি পালন করে থাকেন। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা। তার জন্মদিন উদযাপন জাতির সকলের কর্তব্য। তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব কাউকে নতুন করে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন পড়ে না। সাত মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার পথে হাঁটার গোড়াপত্তন করেছিল। ওই দিনই দেশবাসী মনস্থির করে নিয়েছিল এরপর যুদ্ধে নামতে হবে। আমরা অপেক্ষায় থাকব নতুন সরকার এই দিনগুলি উদযাপনে আওয়ামী লিগকে বাধা দেয় কিনা।
১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লিগ তাদের প্রাতঃস্মরণীয় নেতাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ পায়নি। ঢাকায় ধানমণ্ডি-৩২ এ মুজিবুর রহমানের বাড়ি যেটি জাতীয় সংগ্রহশালা ছিল সেটি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল উগ্রবাদী লোকজন। আর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় তথা স্বাধীনতা দিবস। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও তাদের শাখা সংগঠনগুলি দিনটি পালন করতে পারেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ৭, ১৭ এবং ২৬ মার্চের কারণে মার্চ মাসকে সে দেশে বলা হয়ে থাকে স্বাধীনতার মাস। মঙ্গলবার দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নেতাদের হাসিনা বলেছেন ওই দিনগুলি সর্বশক্তি দিয়ে পালন করতে হবে। গলি থেকে রাজপথ সর্বত্র স্বাধীনতা দিবসের বেদি বানিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যেতে হবে ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধুর বাড়ি এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর সমাধি ক্ষেত্রে। এর মধ্যে ধানমন্ডির বাড়িতে উগ্রবাদীরা দু দফায় হামলা চালিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, আওয়াম লীগের ওই কর্মসূচি শুধুমাত্র দলীয় কর্মসূচি হিসেবে দেখাটা ঠিক হবে না। এটা বিএনপি তথা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর কৌশলগত ভাবে চাপ তৈরি করতেই হাসিনা এই কর্মসূচি নিয়েছেন। বিএনপি শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে মানে না। তাদের দাবি, এই ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি সেক্টরের কমান্ডার। মুক্তিযুদ্ধের সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে বীর উত্তম উপাধি দিয়েছিলেন।












Discussion about this post