আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। আজ থেকে ১৭ বছর আগে আজকের দিনে পিলখানায় অমানবিক ঘটনা ঘটেছিল। ২০০৯ সাল। ৫০ এর অধিক সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যু একটা বিভীষিকার জন্ম দিয়েছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপ চলেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে পুরোটাই আওয়ামী লীগের উপর দোষ চালিয়েছে। তারা বলার চেস্টা করেছে, এটা আওয়ামী লীগের মেটিকুলাস ডিজাইন ছিল। সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার জন্য এটা শেখ হাসিনা করিয়েছে। এই বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে আজকে বাংলাদেশে বদল এসেছে। নির্বাচন হয়ে নির্বাচিত সরকারে এসেছে বিএনপি। কাজেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপির কি ভাষ্য, সেটাই দেখার। তবে আভাস খানিকটা মিলেছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি হতে চলেছেন শেখ হাসিনা। এমনটাই খবর করছে বাংলাদেশের গণমাধ্যম। এখনও পর্যন্ত যাগের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে, তাদের থেকে নাকি শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে। অর্থাৎ যে ধারা মুহাম্মদ ইউনূস এতদিন ধরে করে এসেছেন, সেটাই বজায় রাখার চেষ্টা চলছে বাংলাদেশে। তবে অনেকে বলছেন, মামলা টিকবে না তারেক রহমান সরকারে! কারণ স্বচ্ছতার বার্তা দিয়েছেন তারেক। কিন্তু এটা কি তিনি বজায় রাখতে পারবেন?
১৭ বছর আগের ঘটনা আজও বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক। শুধু তাই নয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে মুহাম্মদ ইউনূস একটি কমিশন তৈরি করেছিল তদন্তের জন্য। সেই কমিশনে যাকে প্রধান করা হয়েছিল, তিনি তাঁর মনগড়া রাজনৈতিক বক্তব্যগুলি রিপোর্টে রেখেছিলেন। এমন অভিযোগ উঠেছিল। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা এখনও বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় জটিলতায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের বিচার ও আপিলের মধ্যে দিয়ে আসামি ও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারদের ধর্য্য পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৭ বছর পরও এখনও এই মামলার বিচার শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলা চলছে ধীর গতিতে। এর মধ্যে আবার নতুন করে তদন্তের কথা বলছেন আসামী পক্ষের একজন আইনজীবী। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী চান আর যেন বিচার থেমে না থাকে। প্রকৃত দোষীরা যেন আইনের আওতায় আসে। নাম বদলের আগে বাংলাদেশ রাইফেলসের সদরদফতর পিলখানায় বিদ্রোহের নামে নাটকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটে। যেটির বর্ষপূর্তি বুধবার। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সেই হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা-সহ ৭৪ জন। জানা যায়, এই ঘটনায় ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার নিম্ন আদালতে রায় ঘোষণা করা হয়। প্রায় ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়। পরে আবার ২০১৭ সালে ২৭শে নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের গায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। ৮ জনের মৃত্যুদন্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়।
তবে এই ঘটনার বিস্ফোরক আইনে করা মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। যেটার বিচার চলছে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ ট্রাইবুনাল একের বিচারক মহম্মদ আলমগীরের আদালতে। জানা যাচ্ছে, এই মামলায় ৮৩৪ জন আসামির মধ্যে ৩২৮ জন জামিন পেয়েছেন। সেটা অদ্ভুতভাবে ৫ই আগস্টের পর।
এখনো পর্যন্ত ১১৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০২ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম বলছে, যাদের এখনও পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ বেশ কিছুদিনের নাম উঠে এসেছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা সহ বেশ জন এর সঙ্গে জড়িত বলা হচ্ছে। যে মামলার নিষ্পত্তি হতে গিয়েছে উচ্চ আদালতে, সেই মামলার বিষয়ে গত বছর এই দিনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছিলেন, পিলখানার ঘটনাটি একটি মীমাংসিত সত্য। এটা নিয়ে কিছু করা উচিত নয়। যেটা ইউনূস সরকার করেছে। সেই ঘটনা আদালতে খানিকটা মীমাংসিত হয়েছে, সেটা অন্তর্বর্তী সরকার ফের কমিশন তৈরি করে তদন্তের চেষ্টা করেছে। যেটাতে এই অস্থায়ী সরকারের হস্তক্ষেপ অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। এখন তারেক রহমানের সরকার কি আদেও এটি কতটা স্বচ্ছভাবে আদলতে পেশ করতে পারে। এবং মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের আমলে যে অভিযোগ উঠেছিল, আদেও সেগুলি থেকে বিরত থাকে কিনা বিএনপি সরকার, এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post