আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে মঙ্গলবার সকালে দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। ভার্চুয়ালি তিনি বৈঠকে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে মিলিত হয়েছিলেন ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে শেখ হাসিনা এই প্রথম নেতাদের বলেছেন, মানসিক এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিন। এবার সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। নামতে হবে দেশের ময়দানে। বৈঠকে নেতারা দেশের পরিস্থিতি নেত্রীর সামনে তুলে ধরেন। যে নেতা যে এলাকার দায়িত্বে আছেন তিনি সেখানকার পরিস্থিতি নেত্রীকে জানান। নেতারা বলেন, যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা একটি প্রহসনমাত্র। এই সময় হাসিনা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে বলে এসেছেন খুব ভাল নির্বাচন হয়েছে। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি একটা সময়ে ছিল আওয়ামী লীগের শত্রু কিন্তু এখন তারাই আওয়ামী লীগে বন্ধু। শেখ হাসিনা ভারতে আছেন। কোথায় আছেন তা কেউ জানেন না। অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র গণ-হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালেই। বিচারপতি মোহম্মদ গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাজা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বিচারকরা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়কে ছয়টি ভাগে বিভক্ত করে পাঠ করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল বলছে, শেখ হাসিনা খুব তাড়াতাড়ি বাংলাদেশে ফিরতে পারেন? বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একাধিক জায়গায় বদল আনছেন। তেমনই, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন মহম্মদ তাজুল ইসলাম । সোমবার নয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সেই চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলামকে পদ থেকে সরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাজুলের জায়গায় ওই পদে আনা হয়েছে আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে। তাজুল নাকি হাসিনাকে সাজা দেওযার জন্য কোটি কোটি টাকা নিয়েছিলেন। কয়েকজন আসামীকে বাচানোর জন্য টাকা নিয়েছিলেন তিনি। সেই তাজুল ইসলামকেই সরিয়ে দিলেন তারেক রহমান। বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাগুলির বিচারের দায়িত্বে ছিল। তারাই হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন। ৮ অগস্ট দায়িত্ব নিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে তাজুলকে নিয়োগ করেছিলেন ইউনূস। সোমবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ থেকে তাজুলের নিয়োগ বাতিল করা হল। পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত ওই পদে থাকবেন আমিনুল। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, বেতন এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা পাবেন। হাজাার হাজার কোটি টাকা টাকা নিয়েছেন তাজুল। বিচারের নামে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল সেই সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যবসায়। যেখানে বিচার বিক্রি হয়েছে টাকায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সোমবার বিদায়ের দিনে মহম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তাঁরই সহকর্মী ট্রাইব্যুনালের অন্য প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তাজুল এবং প্রসিকিউটর গাজি মোনাওয়ার হুসাইন তামিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি। সুলতানের দাবি, ‘চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে’ টাকা আয়ের হাতিয়ার করেছিল জামায়াতে ইসলামি অনুগত তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। কিছু আসামীকে বাচাতে গিয়ে জঘন্য খেলা শুরু করেছিলেন তাজুলরা। তাদের ব্যাগে করে টাকাও পৌছে যেত। কিন্তু তাজুলকে সরানোর পিছনে যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে সেটা কিন্তু অস্বীকার করার জায়গা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, নিরাহী মানুষ যাতে ভোগান্তির শিকার না হন সেই কারণেই তারেক রহমান একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের পর অনেক মামলা বিনা কারণে হয়েছে। অনেক মানুষ তাতে হয়রানির শিকার হয়েছেন। যাতে সেই একই ঘটনা না ঘটে সেই কারণেই তারক রহমান ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কারণ , আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে বাংলাদেশকে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, ইউনূসের আমলে দায়ের হওয়া মামলাগুলি কী গভীরভাবে দেখবে বিনপির সরকার? সেই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই কী হাসিনার ফাসির সাজা কী বাতিলের খাতায় চলে যেতে চলেছে. হাসিনার সাজার রায় কী তুলে নেওয়া হবে? সময় বলব সেটা।












Discussion about this post