সম্প্রতি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন হয়েছে বাংলাদেশে। অন্তর্বর্তী সরকারের থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে বিএনপি সরকারের কাছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা পুত্র তারেক রহমান। এই অবস্থায় ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও হাওয়া বদল ঘটতে শুরু করেছে। ভ্রমণ ভিসা-সহ অন্যান্য শ্রেণির ভিসা প্রক্রিয়া শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়। বাংলাদেশের হাওয়া এখন বদলাতে শুরু করেছে। নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এখন বাংলাদেশে। যা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে তিনি প্রথমেই ভারত সফর করছেন। তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। ভারতে এসে তিনি বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অজিত ডোভালের সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু কী কারমে হঠাৎ প্রয়োজন পড়ল দেখা করার বা ভারতে আসার এই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে বা৪ংবাদেশের রাজনৈতিক মহলে। কী বার্তা তিনি ভারতবর্ষে নিয়ে আসছেন প্রশ্ন সেখানে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সৌজন্য সাক্ষাতের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। এক বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। ২২ FEB প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সাক্ষাৎকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং- এর পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তারপর চীনের তরফ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বলা হয়েছিল, যারা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দূরত্ব তৈরী করার চেষ্টা করছে চীন খুব সহজে সেটা মেনে নিচ্ছে না। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১০টি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। আসতে আসতে করে সেই চুক্তি গুলি বাস্তবায়ন হতে শুরু করেছে। ১০ টি চুক্তির মধ্যে একটি ছিল, চীনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছেদ করে ফেলতে হবে। অন্যদিকে, আমেরিকার তরফ থেকেও শর্ত দেওয়া হয়েছিল। যেমন, অস্ত্র কেনা , সাবমেরিন কেনা জাহাজ কেনা এগুলো সব বন্ধ করতে হবে। আর ভারতের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, আমাদের উপমহাদেশে চীনকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সম্ভবত তারেক রহমান সেই বার্তা দিয়েছেন তার জন্যই কোনও রকম সাংবাদিক বৈঠক করেননি তিনি। চীনের তরফ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে। প্রণয় বার্মা খলিলুর রহমানকে ইফতারে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই যে সমস্ত কিছু চীনের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ত হওয়া, চীনের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা, ইউনূসের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক ভালো ছিল তাদের কে সরিয়ে দেওয়া, সব যে সেটা ভারতকে জানানোর জন্যই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারতে আসা। অন্যদিকে, তারেক রহমানের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি বা জয়শঙ্করের বৈঠকের দিন ঠিক করা। এখানেই কিন্তু শেষ নয়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর ভারতেই রয়েছেন তিনি। কোথায় রয়েছেন তা কেউ আজ পর্যন্ত জানে না। কিন্তু ভারতে তাঁকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি দলের নেতা কর্মীদের বার্তাও দিচ্ছেন। তারেক ক্ষমতায় বসার পর হাসিনা কিন্তু কোনও শুভেচ্ছা বিনিময় করেননি। অন্যদিকে তেমন কোনও ক্ষোভ উগড়ে দেননি। এক সূত্র মারফত খবর, খলিলুর হয়তো ভারতে এসে তারেক রহমানের সঙ্গে হাসিনার একটি বৈঠকের আয়োজন করতে পারে। একটা বিষয় স্বষ্ট, বরফ গলতে শুরু করেছে। খলিলুর রহমান যে আসছেন প্রথমত তারেক মোদির মুখোমুকি দেখা করা অন্যদিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে তারেকের যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে সেটার আয়োজনের ব্যবস্থা করার জন্য। এক সূত্র মারফত খবর, তারেক রহমান ভারতে আসছে এপ্রিল মাসে। ডেট এখনও জানা যায়নি। কিন্তু তিনি এপ্রিলে আসতে পারেন। এত কিছুর মদ্যে ভারত কিন্তু খলিলুরের আশা নিয়ে কোনও আপত্তি জানায়নি। এবার আপনাদের মনে হতে পারে, বরফ যখন গলতে শুরু করেছে তাহলে এপ্রিলে কেন আরএকটু আগে কেন তারেক হাসিনার সঙ্গে দেখা করছে না। কারণটা হচ্ছে নরেন্দ্র মোদি ইজরায়েলে যাবেন। ইজরায়েল থেকে ফেরার পর তারপর তিনি দেখা করবেন। বা বৈঠকও করতে পারেন। একটা বিষয় জানিয়ে রাখি, তারেকের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের বিষয়ে কোনও রকম আপত্তি করা হয়নি। একটা সময় রাজনীতিতে যারাই শত্রু ছিল তারাই এখন মিত্র আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির। প্রসঙ্গত, ইউনূসের আমরে একটা সময় দেশ যে অবস্থায় ছিল বর্তমানে কিন্তু সেই অবস্থা বাংলাদেশের নেই। সেখানকার মানুষরাও বর্তমানে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। রাজনৈতিক মহল বলছে, আস্তে আস্তে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও পাল্টালেও পাল্টাতে পারে। সব টাই সময় বলবে অন্যদিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে আদৌও বৈঠক হয় কিনা তারকের সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।












Discussion about this post