বিএনপি পুলিশ হত্যার বিচার যে ভাবেই করুক না কেন, এটি শেষ বিচার নয়। আসল বিচার হবে সেদিন, যে দিন আওয়ামীলীগ পুলিশ হত্যার বিচার করবে। আজ যারা থানায় এসে জোর গলায় পুলিশ হত্যার জন্য গর্ব করছে, সেদিন তারা দেশ বিদেশে লুকানোর জন্য গর্ত খুঁজবে। সারজিসরা এখনই খুব ভয়ে ভয়ে আছে, তাই তারা কখনও এই নতুন সরকারকে হুঙ্কার দিচ্ছে, আবার কখনও অনুরোধ করছে। কারণ তারা জানে তাদের অবৈধ সরকারের এত ক্ষমতা ছিল যে, তারা যা খুশি তাই করতে পেরেছে। কেউ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেনি। কিন্তু এখন দেশে নির্বাচিত সরকার। তাই সেই সরকার যে কি কি করতে পারে, বা কি কি করার ক্ষমতা আছে তা তারা ভালোই অনুমান করতে পারছে। তাই সারজিস বলছে তারা খুব শিগ্রী ইউনূসের অনুপস্থিতি উপলব্ধি করতে পারবে। যখন তারা যা খুশি তাই করতে গিয়ে পুলিশের ডান্ডা খাবে । আর সেই দিনও যে বেশী দুরে নেই তাও বুঝতে পারছে সারজিস।
অন্তবর্তী সরকার জুলাই আগস্টে ঘটা যে কোন হত্যাকান্ড থেকে ছাত্রনেতাদের দায়মুক্তি দিলেও, সেটি ছিল সাময়িক। এখন ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। তারা চাইবে এই দায়মুক্তি উঠিয়ে দিয়ে, এই ছাত্রনেতাদের কে তাদের অধীনে রাখতে। বেশী বাড়াবাড়ি করলেই, তাদের কাছে আইনি নোটিশ যাবে, হয়তোবা গ্রেফতারও করা হতে পারে। কারণ বিএনপি সরকার চাইছে পুলিশ হত্যার বিচার করতে।সেই সঙ্গে এই ছাত্রনেতাদের দাবিয়ে রাখতে। কিন্তু এই বিচারও শেষ বিচার নয়। যে দিন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসবে সেদিন হবে আসল বিচার। পুলিশদের কুপিয়ে পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে এবং সেই মৃতদেহ ব্রিজে ঝুলিয়ে রেখে যে নির্মমতার পরিচয় দিয়েছে, তার সঠিক বিচার করতে পারবে একমাত্র আওয়ামীলীগই। আর তাই এই ছাত্রনেতারা চাইছে বাংলাদেশে যেন কোন দিন আওয়ামীলীগ ফিরতে না পারে। তবে তাদের চাইলেই তো হবে না। জনগন চাইছে কি সেটি দেখতে হবে। কিছু উগ্রপাকিস্তান পন্থির কথায় তো আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে না। যারা জঙ্গীবাদ কার্যকর করার জন্য সমন্বয়ক সেজেছিল, পুরস্কার হিসাবে তাদের অনেকেই বহু ক্রিপ্টো কারেন্সির মালিক হয়ে গেছে।যারা সাধারণ ছাত্রদের ভুল বুঝিয়ে মাঠে নামিয়েছিল। মাদক খাইয়ে যাদের উগ্র করে তোলা হয়েছিল। আন্দোলোনকে রক্তক্ষয়ী এবং ত্বরান্বিত করতে। সেই আহত ছাত্ররা আজ তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। একটা অন্তবর্তী সরকার এল, আবার চলেও গেল। কিন্তু সেই সব আহত এবং নিহত ছাত্ররা বিচার পেল না কেন? হাসনাত সারজিস নাহিদরা তো বহু কোটি টাকার মালিক হয়ে গেল, কেউ কেউ আবার এমপিও হয়ে গেল। কিন্তু সেই আহত বা নিহত জুলাই যোদ্ধাদের কি হল। তবে নাহিদ হাসনাত সারজিসদের তাদের নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। তাদের ভয় হল সরকার বদলে গেছে এবার যদি জুলাই যোদ্ধাদের জন্য যে দায়মুক্তি দিয়েছিল অন্তবর্তী সরকার, সেটিকে বদলে যায়, তাহলে কি হবে এই জুলাই জঙ্গীদের। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ আগেই দাবি করেছে,দেশে রাজনীতিবিদরা হাত মেলাচ্ছে। তাই বিপ্লবীদের ফাঁসির দড়ি এগিয়ে আসছে।এখন আবার রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী দুইটি আলাদা দলের হলেও তাদের মধ্যে একটি মধুর সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দাবী তুলছে নাহিদরা। হয়তো তারা রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে পারবে, কিন্তু দায়মুক্তি বাতিল হলে, তারা যে হাজার হাজার পুলিশ হত্যা করেছে, সেই বিচার শুরু হলে তারা কিভাবে নিজেরা বাঁচবে।












Discussion about this post