বাংলাদেশ একটি চরম অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে পার হয়েছে। প্রত্যেকের আশা ছিল, নির্বাচনের পর দেশ স্থিতিশীল হবে। তারেক রহমান সেটাই সত্যি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে নিজের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে দেশে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনছেন। আর সেটা একেবারে স্পষ্ট। ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট, গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়া। তারপর পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। দুই দেশ, ভারত০বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে যাওয়ায় একাধিক ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছিল। ভারত কিছু পদক্ষেপ করেছিল। যেটাতে বেশ অনেকটাই বেগ পেতে হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকারকে। কিন্তু এইবার স্বাভাবিক জায়গায় পৌঁছেছে দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণ। দীর্ঘ প্রায় ১৭ মাস পর আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস পরিষেবা চালু হল। যেটা দুই পাড়ের মানুষদের জন্যই সুখবর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদি-তারেকের বন্ধুত্বে ঘুরে যাচ্ছে দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণ। যা আগামী দিলে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের জন্য কল্যাণ নিয়ে আসবে।
কূটনৈতিক যে টানাপোড়েন ছিল দুই দেশের মধ্যে, সেই জট কাটতে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে দীর্ঘ দেড় বছর পর বন্ধ থাকার পর ফের চালু হল ঢাকা হয়ে আগরতলা ও কলকাতার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। ২০২৪ সালের অগাস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পরে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায়। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৈত্রী বাসে হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা ও ভিসা জটিলতায় কলকাতা আগরতলা রুট বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে দুই দেশের সম্পর্কে জোরদার করার বার্তা দেয়। এবং পরিস্থিতি উন্নত হয়। এমনকি নয়া দিল্লি দুই দেশের ভিসা জটিলতা নিয়ে কাজ করতেও শুরু করে দিয়েছে।
পরীক্ষামূলকভাবে আগরতলা-কৃষ্ণনগর ডিপো থেকে একটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়েছে। কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সপ্তাহে তিনদিন নিয়মিত বাস পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই রুটটি পূর্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। কারণ বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে যাতায়াত করলে খরচ কম হয়। এমনকি সময় কম লাগে। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পর্যটক ও চিকিৎসা পরিষেবার জন্য রোগীদের কাছে ছিল অত্যন্ত সাশ্রয়ী একটা যাতায়াতের রুট। তবে বাংলাদেশের উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পরিস্থিতিতে সেটা দীর্ঘ বিরতি ছিল। তবে এইবার ফের চালু হল এই পরিষেবা। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে এই খবরে।
রিপোর্ট বলছে, ২৪ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার কমলাপুর বাস ডিপো থেকে পরীক্ষামূলকভাবে রয়েল মৈত্রীর একটি বাস যাত্রা শুরু করে। আখাউড়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে সেই বাসটি ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা প্রবেশ করে। এর আগে গত একুশে ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরার আগরতলার কৃষ্ণনগরে বাস টিপো থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি বাস যাত্রা করেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা কেবল যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় নয়। এটা দুই দেশের আস্থা বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পুনরায় অর্জনে গুরুত্বপুর্ণ পদক্ষেপ। ভিসা প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে ভারত। যাতে আগের মতোই খুব সহজেই বাংলাদেশীরা ভিসা পেয়ে যায় ভারতে আসার জন্য। উল্লেখ্য, যখন বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় ছিল, যখন মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত, তখন ভারত বিরোধী জিগির তীব্র হয়ে ওঠে। যে কারণে ভারত কিছুক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের জন্য সুবিধায় সীমিত করে দিয়েছিল। এক্ষেত্রে ভিসা পরিষেবাও ছিল। এইবার তার জটও খুলতে চলেছে। অন্যদিকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের আধিকারিকদের সঙ্গে ভারতের বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য ভারসাম্য ও গঙ্গা নদী জল বন্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে নয়া দিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক। সেটা অবশ্যই তারেকের হাত ধরে।












Discussion about this post