মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম অর্থ ব্যয় করা হলেও ঋণের লাগাম ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে দেশের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশে নব নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একের পর এক দুর্নীতি যেমন সামনে আসছে, তেমনই ওই সরকারের আর্থিক নীতি নিয়েও নানা প্রশ্ন চিহ্ন উঠে আসছে। যেমন, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার বিগত আঠারো মাসে তেমন কোনও বড় বা মাঝারি প্রকল্প ঘোষণাও করেনি, চালুও করেনি। বরং বহু বিদেশী প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। তবুও বিদেশী ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সরকার পূর্ববর্তী হাসিনা সরকারকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল পরিমান ঋণ কোন খাতে খরচ করেছে তাঁরা?
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে বিদায় জানিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। যাতে নিয়োগ করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকাশে শুদ্ধির বজ্রধ্বনি তুলেছিলেন তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ২৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের বিদায়ী গভর্নর। সেই বৈঠকে আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে ধরেছি আমরা। পাশাপাশি কী কী সংস্কার করছি, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী অর্থমন্ত্রীকে দিয়েছি। তিনি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তারপরই দেখা গেল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করল বিএনপি সরকার। এবং নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ করা হয়। বুধবার নিয়োগ পাওয়ার পরদিনই কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তার আগে এক ঘটনা ঘটে। বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে কার্যত মব সৃষ্টি করে বিদায় জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কর্মকর্তারাই। যা কার্যত অভূতপূর্ব। অর্থনীতিবিদদের দাবি, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোট ১১টি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার, হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি এবং বিদেশে অর্থপাচার। কিন্তু দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই দৃশ্যমান কোনো অর্থপাচার বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। তদন্তের ঢাকঢোল যত জোরে পেটানো হয়েছিল, ফল ততটাই বিরুপ। অনেকেরই অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে দেশের ব্যাংক খাত ডুবিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে বুধবার বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিল তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। ইউনূসের আমলের আরও একটি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তের বিষয়ে একধাপ এগোলেন তারেক রহমান। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছিলেন, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং তাঁর মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরের নামে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। ফ্ল্যাটটি অবস্থিত দুবাইয়ের আল জাদ্দাফ এলাকায়। যা অভিজাত বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা। ওই পোস্টে গভর্নরের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের একাংশ দাবি করেছেন, প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারকে চলতি ব্যয় মেটাতে ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ ডেবট বা ঋণ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে বলাই যায়, নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখানো ইউনূস সরকার কার্যত বাংলাদেশকে ঋণের জালে ডুবিয়ে বিদায় নিয়েছে। এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে একে একে ওই দুর্নীতিগ্রস্তদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ করছে। অচিরেই সমস্ত তদন্তের আওতায় আসবে। বড় করে ফাঁসবেন মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর দোসররা।












Discussion about this post