“জম্মুর দ্বীপ থেকে এসে, আজ সাত মাস অন্ন ধংস করেছে সে।… দিন রাত্র না জানি কী করে, তাঁর ওই যন্তরমন্তর ঘরে, সোনা-রূপা-তামা-শিসা লোহা,-সাপ-ব্যাং, শকুনির ঠ্যাং, কী নাই সে ঘরে। হামানদিস্তায় পিষে ধাতু করে ছাতু, হাপরের চুল্লি জ্বেলে কী যে করে ভস্ম, সে এক রহস্য।”
সংবাদের শিরোনামের গৌড়চন্দ্রিকা এর থেকে আর ভালো কিছু হতে পারে বলে মনে হয় না। এই সংলাপ হীরক রাজা ছবির রাজা হীরকের। বক্তব্যের লক্ষ্য বিজ্ঞানী। তিনি এসেছিলেন জম্মুর দ্বীপ থেকে। আর সংবাদের শিরোনামে যিনি, তিনি অবশ্য জম্মু দ্বীপের বাসিন্দা না হলেও প্রবাসী। ছিলেন ফ্রান্সে। সেখানে থেকে তিনি আচমকাই বাংলাদেশে ফিরলেন এবং গদিতে বসলেন। ঠিকানা হল রাষ্ট্রীয় অতিথি নিবাস যমুনা। নিন্দুকেরা বলছে, ওটা যমুনা নয়, যন্তরমন্তর ঘর। গত দেড় বছর ধরে তাঁর কার্যকলাপ যে কোনও রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজকে হার মানায়। ১৮ মাসে একাধিক ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী রাষ্ট্রীয় অতিথি নিবাস। হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার আয়তন প্রায় সোয়া তিন একর। যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর—এই দুটি বাংলোয় এখন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা যমুনা থেকে চলে গেলে এই দুটি বাংলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।
গত দেড় বছরে পূর্বতন সরকার প্রধান একাধিক ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী। হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত দিয়ে শুরু। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে হাসিনা সরে যাওয়ার পর তিনি একাধিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেই সব সাক্ষাৎকারে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ক্ষমতা থেকে তাঁকে উৎখাতের পিছনে আমেরিকার হাত ছিল। কারণ, আমেরিকা চেয়েছিল সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। হাসিনা সেই দাবির কাছে মাথা নত করতে রাজি না হওয়ায় আমেরিকা তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে করে। আমেরিকা মনে করছিল এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল ইউনূসকে বসালে তাদের লাভ হবে। লাভের লাভ তেমন হয়নি। উলটে আমেরিকার স্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে। কারণ, ইউনূস আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক মার্কিন স্বার্থকে বিঘ্নিত করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়।
ইউনূস আমল যে উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী তা হল রকেট গতিতে মৌলবাদের উত্থান। গত ১৮ মাসে পদ্মাপারে যেভাবে ভারত-বিদ্বেষী হাওয়া বইছিল, তা অতীতে কোনওদিন হয়েছে বলে মনে করতে পারছে না বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল। পূর্বতন সরকার প্রধানের দাবি ছিল “এই সকল হামলা সাম্প্রদায়িক নয়, রাজনৈতিক কারণেই হয়েছে। ভারত ব্যাপকভাবে এগুলোর প্রচার করছে।” ভেঙে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের একাধিক ভাস্কর্য। এই নিয়ে আশঙ্কা ছিল যে ইসলামিক রাষ্ট্র হওয়ার পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এ নিয়েও ভারতকে তোপ দেগে ইউনুস বলেছিলেন, “ভারতের চিন্তাধারা বদল করার প্রয়োজন। তারা মনে করে বাংলাদেশে সকলে ইসলামপন্থী। বিএনপি ইসলামপন্থী। সবাই ইসলামের সমর্থক। সকলে বাংলাদেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করবে। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিরাপদ হাতে থাকবে। কিন্তু এই ভাবনা একেবারেই ভুল। ভারতকে এই ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যান্য দেশের মতো, বাংলাদেশও আর একটি প্রতিবেশি রাষ্ট্র। এটা তাদের বুঝতে হবে।” গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৩২ ধানমন্ডী। ঘটনার সময় যে সব আওয়ামী লীগারকা সেখানে উপস্থিত থেকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজে বাধা দিয়েছিলেন, তাদের ওপর নেমে এসেছে প্রশাসনের বেত্রাঘাত।
ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের মাটি হয়ে উঠেছিল জঙ্গিদের স্বর্গোদ্যান। লালকেল্লার কাছে সন্ত্রাাসী হামলার সুতো ছিল বাংলাদেশ। শীর্ষস্থানীয় জইশ কম্যান্ডারদের ঘন ঘন আসা যাওয়া লেগেই ছিল। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যে আত্মীয়তা তৈরি হয়, তা এককথা ছিল বেনজির। তদারকি সরকারের আমলে পাকিস্তান গিয়েছিলেন পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারপার্সন জেনারেল শাহির শামসাদ মির্জা। তিনি দেখা করেন ইউনূসের সঙ্গে এই যমুনাতেই। সাক্ষাৎকালে তাঁকে একটি বই উপহার দেওয়া হয়, যার শিরোনাম ‘Art of Triumph’। বইয়ের প্রচ্ছদে যে মানচিত্রটি দেখা গিয়েছে, সেখানে দেখা যায় ভারতের উত্তরপূর্বের সাতটি রাজ্য বাংলাদেশের অংশ। যা মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীর “গ্রেটার বাংলাদেশ” তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিদায় নেওয়ার কয়েকদিন আগে, বলা যেতে পারে ভোটের মুখে মুখে তদারকি সরকার আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করেছে। সেই চুক্তিতে কী রয়েছে, জানেন শুধু ইউনূস আর আমেরিকা। এখন তারেক রহমানের ওপর দায়িত্ব পড়েছে সেই চুক্তি কার্যকর করা।












Discussion about this post